রামুর কান্না না থামতেই নওগাঁয় এক হিন্দুর জমি জবর দখল করলো আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে

0
172
Print Friendly, PDF & Email

নওগাঁ প্রতিবেদক, ০৫ অক্টোবর:
রামু, উখিয়া এবং পটিয়ায় সংখ্যালঘু বৌদ্ধ ও হিন্দু সমপ্রদায়ের বিহার ও মন্দিরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট এবং অগি্নসংযোগের ঘটনার কান্না না থামতেই এবার নওগাঁর মান্দা উপজেলার প্রসাদপুরে এক সংখ্যালঘুর বাড়িতে তান্ডব চালিয়ে ৪/৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে ফেলে বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে তছনছ করে দিয়ে জমিটি জবর দখল করেছে স্থানীয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির ছেলে মহিদুল ইসলাম বাদশা৷ খোদ মতাসীন দলের নামধারী নেতার মতাধর ছেলের তান্ডবে স্থানীয় সংখ্যালঘু হিন্দু সমপ্রদায়ের মাঝে চরম আতংক ও চাপা ােভের সৃষ্টি হয়েছে৷
এতেই তারা ানত্ম হয়নি৷ বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের মাথা লুকানোর ঠাঁই টুকুও কেড়ে নিয়ে হত্যা অথবা ভারতে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয়৷ এতে ওই সংখ্যালঘু পরিবার কোথাও অভিযোগ করার মত সাহস পাচ্ছেন না৷ এমনকি তাদের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রেখেছে ভয়ে৷
জানা গেছে, ওই মহলস্নার মৃত বসনত্মর কুমারের ৪ ছেলে৷ সন্তোষ কুমার, পরিতোষ কুমার, মনতোষ কুমার ও বিকাশ কুমার৷ পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ ৩০/৩২বছর ধরে ওই জমিতে বসবাস ও ভোগ দখল করে আসছে৷ হঠাত্‍ গত বুধবার দিনগত রাত ৯টার দিকে মান্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমদাদুল হক মোলস্নার ছেলে মহিদুল ইসলাম বাদশা, জামাই নজরুল ইসলাম, তাদের সহকারী উত্তমসহ আরো অজ্ঞাত ৪/৫জন যুবক মদ্যপ অবস্থায় ওই বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয়৷ তারা বাড়ির লোকজনকে ঘরের ভিতর আটকে রেখে বাড়ির খলিয়ানে লাগানো ৪/৫টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে বাঁশ দিয়ে তৈরি বাউন্ডারি ভেঙ্গে তছনছ করে প্রায় ৭ শতক জমি জবর দখল করে৷ বাদশা ওই জমি কোন এক ওয়ারিশের কাছে কিনে নিয়েছে বলে দাবী করে৷
এ ব্যাপারে মান্দার এমপি ইমাজ উদ্দিন প্রামানিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে জানান, জমিটি যদি বাদশা কিনে নিয়ে থাকে তাহলে দিনের বেলাতেই তো সকলকে জানিয়ে মাপজোঁক করে জমিটি বের করে নিতে পারত৷ নিজের কেনা জমি রাতের আঁধারে সন্ত্রাসী কায়দায় দখল করতে হবে কেন? তিনি তার নির্বাচনী এলাকার সকল সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনসহ দলীয় কোন কর্মীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কোনভাবেই মেনে নেয়া যাবে না বলে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দেন৷ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী বকু জানান, তিগ্রস্থদের একটি অভিযোগ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে৷ থানার ওসি আব্দুলাহেল বাকী জানান, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি৷ তবে ঘটনার রাতে আওয়ামীলীগের সভাপতির ছেলে, জামাই এবং তাদের বন্ধুরা মদ্যপ অবস্থায় সেখানে কিছু ভাংচুর করেছে৷ যা ওরা নিজেরাই মিমাংসা করে নেবে বলে জানিয়েছে৷ এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এমদাদুল হক মোলার সঙ্গে ফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি৷
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, এমদাদ মোলা মতাসীন দলের সভাপতি হওয়ার সুবাদে ইতোপূর্বে হাটের সরকারী জায়গা দখল করে পাকা দালান ঘর তৈরি করে মার্কেট বানিয়েছেন৷ তাদের জবর দখল ও তান্ডবের ভয়ে এলাকার কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না৷ বর্তমানে তারা মান্দা এলাকায় মূর্তিমান আতংকে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয একাধিক সূত্র জানিয়েছে৷
প্রতিবেদক, মোফাজ্জল হোসেন সম্পাদনা আলীরাজ/ আরিফ

শেয়ার করুন