নারায়ণগঞ্জের আলোচিত ৭ খুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার অভিযোগপত্র দেয়ার পিছনে অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তি কাজ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বাদি নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী কাউন্সিলর সেলিনা ইসলাম বিউটি ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম চেয়ারম্যান।
তারা অবিলম্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ মন্ডলকে প্রত্যাহার ও মামলাটি সিআইডি বা ডিবির নতুন কর্মকর্তাকে দিয়ে পুনঃতদন্ত দাবি করেছে। একই দাবিতে নতুন করে তারা আন্দোলনের ঘোষণাও দিয়েছেন শহিদুল ইসলাম। ই তারা অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজিও দিবেন বলেও জানান তারা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি পশ্চিমপাড়া এলাকার বুক্স গার্ডেনস্থ সেলিনা ইসলাম বিউটির বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ সকল দাবি জানানো হয়।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন- নিহত নজরুলের শ্বশুর সাবেক চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, নিহত তাজুল ইসলামের মা তাসলিমা বেগম, নিহত মনিরুজ্জামান স্বপনের ছোট ভাই মিজানুর রহমান রিপন প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী বলেন, ‘মামলার ২নং আসামি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন সিঙ্গাপুর থেকে লোক মারফত তাকে চার্জশিট থেকে তাদের নাম বাদ দেয়ার জন্য ২ কোটি টাকা ও ১৫ শতাংশ জমি দেয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু আমরা এতে রাজি হইনি।’
সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, ‘গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি নুর হোসেনের নের্তৃত্বে তার ভাজিতা শাহজালাল বাদল ও আনোয়ার হোসেন আশিক দুইটি অস্ত্রহাতে নজরুলকে তাড়া করেছিল। ওই সময় তারা উচ্চস্বরে বলেছিল, নজরুলকে ১৫ দিনের মধ্যে হত্যা করা হবে। এরপরই তারা ইয়াছিনের (মামলার এজহারভুক্ত আসামি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক) বাসায় বসে আমার স্বামী নজরুলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু তাদরে নাম চার্জশিটে রাখা হয়নি। এতে আমি হতবাক হয়ে পড়ি।’
তাদের গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিলে মামলার অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে উল্লেখ করে বিউটি বলেন, ‘মামলার এজহারভুক্ত আসামিরা দেশেই অবস্থান করছেন। কিন্তু তাদরেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।’ এ কারণে তিনি এ মামলায় নারাজী দিবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
শহীদ চেয়ারম্যান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকাল ৭ টায় হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী তার (শহিদ চেয়ারম্যানের) মুঠোফোনে কল করে বলেন, তোদেরকে টাকা সাধছিলাম। কিন্তু নেস নাই। ডিবি পুলিশকে টাকা দিয়ে নাম বাদ দেওয়াইছি। এখন পারলে ঠেকা।’ তবে তিনি এ সময় কোন নাম্বার থেকে ফোন করা হয়েছে বা কোনো রেকর্ডিং সাংবাদিকদের দিতে পারেননি।
এদিকে ওলামা লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিবুল্লাহ কাঁচপুরী চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের কাছে ফোন করার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘সেভেন মার্ডারের ব্যাপারে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মতে ডিবি পুলিশ নিরাপেক্ষভাবে তদন্ত করেছে। ডিবি কারো কথা শুনে এ চার্জশিট দেয়নি। আমি এ মামলার ব্যাপারে ডিবির সঙ্গে কোনো কথা বলার প্রশ্নই উঠে না।’
সংবাদ সম্মেলনে শহীদুল ইসলাম আরোও বলেন, ‘ডিবির ওসির সঙ্গে আমি যোগাযোগ করার পর তিনি আমাকে বলেছেন, আমি যতটুকু পেরেছি, করেছি। আপনাদের পছন্দ না হলে আপনারা আমাকে বদলী করিয়ে দেন বা অন্য কোন সংস্থা দিয়ে তদন্ত করান।’
উল্লেখ্য, বন্দর নগরী নারায়ণগঞ্জে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলায় গতকাল বুধবার আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। ১৬ পৃষ্ঠার ওই চার্জশিটে ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর অব্যাহতি দেয়া হয় ১৬ জনকে।






