ঝিনাইদহে আরেক লম্পট শিক্ষকের সন্ধান

0
182
Print Friendly, PDF & Email

কুষ্টিয়ার পর এবার ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নগরবাথান এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কলেজছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে গোপন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করার অভিযোগ উঠেছে। প্রভাষক নজরুলের এই লাম্পট্যের বিষয়টি এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লেও তিনি এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ঝিনাইদহ পল্লীবিদ্যুত্ সমিতিতে চাকরিরত নজরুলের স্ত্রীর এক সহকর্মীর সঙ্গেও অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তুলে সে সময় তিনি ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নগরবাথান এমএ খালেক মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক নজরুল ইসলাম ঘোষপাড়া গ্রামের রমজান মণ্ডলের ছেলে। তিনি ওই কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাকে বিয়ের কথা বলে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে গোপনে তা মোবাইলে ভিডিও করে রাখেন। এক পর্যায়ে কলেজছাত্রী জানতে পারে শিক্ষক নজরুল ইসলাম বিবাহিত। গত সপ্তাহে ওই কলেজছাত্রীর অন্যত্র বিয়ে হলে লম্পট শিক্ষক তার সংসার ভাঙার হুমকি দেন। প্রতিনিয়ত তাকে মোবাইলে হুমকি দিতে থাকেন যে, ‘তুমি স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে আমার কাছে চলে এসো। আমি তোমাকে বিয়ে করব। আর না এলে গোপন ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেব।’ ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দিলে কলেজছাত্রী নিজের মানসম্মানের দিকে তাকিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে তার পরিবার। জানা গেছে, প্রভাষক নজরুলের স্ত্রী ঝিনাইদহ পল্লীবিদ্যুত্ অফিসে চাকরি করেন। সেই সুবাদে স্ত্রীর সহকর্মীর সঙ্গেও নজরুল অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সে সময় বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামে সালিশ ডেকে রফা করা হলেও তার বিকৃত স্বভাব যায়নি। এসব ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলামকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যা শুনেছেন সেটা ঠিক নয়। এটা একটা ষড়যন্ত্র বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের কলেজটি নতুন। তাই কলেজের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে প্রভাষক নজরুলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। তবে তিনি জানান, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি নজরুলের বিষয়টি কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল ওয়াহেদ জোয়ারদারকে অবহিত করেছেন। নজরুলের এই নারী কেলেঙ্কারির কথা শুনে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল ওয়াহেদ জোয়ারদার ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলেও জানান অধ্যক্ষ ওলিয়ার রহমান। বিষয়টি নিয়ে কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হায়দার আলী জানান, ছাত্রীটির বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে মানসম্মানের ভয়ে বিষয়টি হয়তো এখনও ধামাচাপা রয়েছে। তিনি ঘটনা লোকমুখে শুনেছেন এবং এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান। চেয়ারম্যান জানান, বিষয়টি নিয়ে আজ কলেজে জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।

শেয়ার করুন