তৃণমূলের বৈঠকে শেখ হাসিনা বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশকে পিছিয়ে দেওয়া

0
35
Print Friendly, PDF & Email

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানেই দেশকে পিছিয়ে দেওয়া ও অন্ধকারের পথে ঠেলে দেওয়া। জনগণকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা অন্ধকারের যুগে ফিরে যাবে, নাকি আলোর পথে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে সেই পথেই থাকবে। তিনি বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশের জনগণ অন্ধকার নয়, আলোর পথে থাকতেই নৌকাকে বিজয়ী করবে।’
গতকাল সোমবার গণভবনে তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। গতকালের মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও, কক্সবাজার, বাগেরহাট, গাইবান্ধা, ফেনী, সিরাজগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জের তৃণমূল নেতারা অংশ নেন। নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের অংশ হিসেবে ধারাবাহিকভাবে এ বৈঠক হচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ীই হবে। সে নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেবে।
বিরোধী দলের নেতা খালেদা জিয়ার ‘অন্যভাবে দেশ পরিচালনার’ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উনি বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতিদিনই উৎখাতের হুমকি দিচ্ছেন। কারণ, দেশের উন্নয়ন তাঁর সহ্য হচ্ছে না। আগে হাওয়া ভবন খুলে দুর্নীতি করে দুই ছেলেকে দিয়ে বিদেশে অর্থ পাচার করিয়েছেন। এখন অন্যভাবে দেশ পরিচালনার নামে হাওয়া ভবনের পরিবর্তে নতুন ভবন খুলে নতুনভাবে দুর্নীতি করতে চান।’
সংসদীয় গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক রক্তের বিনিময়ে গণতন্ত্র ফিরে পেয়েছি। এই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। কারণ, গণতন্ত্র ছাড়া কোনো দেশ প্রকৃত উন্নয়ন করতে পারে না।’
বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নিয়ে আন্দোলনের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের জন্য দরদ নেই, এমন অনেকেই সুন্দরবন নিয়ে মায়াকান্না করছেন। এতে সুর মিলিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতাও। কারণ, তিনি তো বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেননি, অন্যকে করতে দেবেন কেন?’
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সংলাপের আহ্বান জানালে বিরোধীদলীয় নেত্রী আমাকে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে বললেন, আমি নাকি পালাবারও পথ খুঁজে পাব না। এরপর বিএনপি নেত্রী দলের ক্যাডার, জামায়াত-শিবির ও হেফাজতকে দিয়ে মসজিদে আগুন দিলেন, শত শত কোরআন শরিফ পুড়িয়ে দিলেন। বিশ্বের ইতিহাসে এক দিনে এত কোরআন পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা আর নেই।’

শেয়ার করুন