প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা: ‘দ্বিধায়’ ইসি

0
52
Print Friendly, PDF & Email

প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ‘ছেড়ে দেয়ার’ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পরও বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার কারণে দ্বিধায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন।

বহু আলোচিত ৯১-ই ধারাটি বিলোপের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়ার পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সম্পূরক সংশোধনী প্রস্তাবটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বিস্ময় প্রকাশ করে সাংবাদিকদের বলেন, “প্রস্তাবটি যে পাঠানো হয়নি তা আপনাদের কাছেই শুনলাম।”

তবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, কমিশন প্রস্তাবটি অনুমোদন করলেও ইসি সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যযন্ত সেটি আইন মন্ত্রণালয়ে না পাঠাতে বলেছেন। সবমহলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে দ্বিধায় রয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।

কমিশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কমিশন ধারাটি বাদ দিতে অনুমোদন দিয়েছে, অথচ পাঠানোও হচ্ছে না। আবার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারও করা হয়নি। সরকারের কাছে না পাঠালে ক্ষমতা বহাল থাকল। আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে হয়তো অপেক্ষা করা হচ্ছে।”

দশম সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) ব্যাপক সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠায় গত ২৫ জুলাই।

এর তিনদিন পর এক বৈঠকে আকষ্মিকভাবে ৯১-ই ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। ৩০ জুলাই ইসির এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে ব্যাখ্যাও দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, বিধি লঙ্ঘনের জন্য প্রার্থিতা বাতিলের যে ক্ষমতা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে নির্বাচন কমিশনকে দেয়া আছে তা ‘আদৌ প্রয়োগযোগ্য নয় এবং অর্থহীন’।

নির্বাচনে গুরুতর অনিয়ম প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশনকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯১ (ই) ধারায়।

নবম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রথমবারের মতো ওই ধারাটির অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এ নিয়ে কোনো কথা না বললেও বিরোধী দল বিএনপি বলেছে, ধারাটি থাকা প্রয়োজন। তা না হলে নির্বাচনে অপরাধ আরো বেড়ে যাবে, যা কমিশন সামলাতে পারবে না।

ইসির উপ সচিব আবদুল অদুদ স্বাক্ষরিত এক লাইনের ওই ‘সম্পূরক সংশোধনী’ প্রস্তাবটি বর্তমানে কমিশনের আইন শাখায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, সচিবের নির্দেশনা পেলেই তারা প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন।

দশম সংসদ নির্বাচনের আগে ১২ সেপ্টেম্বর বসছে সংসদ অধিবেশন। এর আগে আইনি সংশোধন করার লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিংয়ের পর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনেরও বিষয় রয়েছে।

শেয়ার করুন