রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আজ বানচাল করতে পরিবহন ধর্মঘট

0
168
Print Friendly, PDF & Email

মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে রাজশাহীর মাদ্রাসা ময়দানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে আরএমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর বিএনপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঐক্যফ্রন্ট রাজশাহীর সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিনু এ কথা বলেন। : এদিকে আজ শুক্রবার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা ময়দানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ স ম আবদুর রব, কর্নেল অলি আহমেদ, আন্দালিব রহমান পার্থ প্রমুখ সমাবেশে যোগ দেবেন। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মহানগর বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঐক্যফ্রন্ট। এতে নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমাবেশ থেকে গণআন্দোলন শুরু হবে। সমাবেশে স্মরণকালের বিপুল সমাগম ঘটবে। : ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়ক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু জানান, লাখো মানুষের ঢল নামবে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে। তবে পুলিশের কিছু অতি উৎসাহী এবং উচ্চাভিলাষী কর্মকর্তা সমাবেশে নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে আমাদের সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি দেয়া হয়। এখানে জনসমাগম যেন কম হয় সে জন্য বাস-ট্রাক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম, সিলেট, ঢাকাতেও ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এমনটি করা হয়। তারপরও এই সমাবেশ সফল হবে এবং এখান থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গণআন্দোলন শুরু হবে। ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন মিনু। শতাধিক নেতাকর্মীর বাড়িতে পুলিশ গেছে। এসময় বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত, মহানগর সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন, জেএসডির কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ গোফরান, নগর সম্পাদক মারুফ আহমেদ পিকু, জাসদ নেতা মনির আহমেদ বাবর, শফিকুল আলম বাবর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। : রাজশাহীতে আকস্মিক পরিবহন ধর্মঘট, সমাবেশকে কেন্দ্র করেই বাস চলাচল বন্ধ : এদিকে নাটোরে শ্রমিকদের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার কারণে রাজশাহী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের পর রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে সকল বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পরিবহন শ্রমিকরা। হঠাৎ এই ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে রাজশাহী-ঢাকা রুটের যাত্রীদের। এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর অভিযোগ, শুক্রবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করেই হঠাৎ এই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। : ইউএনবি সূত্রে জানা গেছে, পরিবহন নেতারা বলছেন, নাটোরে বাস শ্রমিকের ওপর হামলার ঘটনায় এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে অন্য রুটে বাস চলছে। বিষয়টির মীমাংসা হলে আবারও এই রুটে বাস চলাচল শুরু হবে। এ বিষয়ে রাজশাহী সড়ক পরিবহনের সাধারণ সম্পাদক মনজুর রহমান পিটার বলেন, নাটোরে শ্রমিকদের সঙ্গে ঝামেলা হওয়ার কারণে এই রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে রাজশাহী থেকে নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাটসহ অন্য আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নাটোরের পরিবহন নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। সমস্যার সমাধান হলে আবারও বাস চলাচল শুরু হবে বলে জানান তিনি। : নির্বাচন কমিশন জোকারদের কমিশন এই কমিশনকে কেউ মানে না : মিনু : আজ রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিভাগীয় মহাসমাবেশ। এই সমাবেশ সফল করতে এবং চলমান সরকার ও পুলিশ বিভাগের অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরীর মারোপাড়াস্থ বিএনপি কার্যালয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলন করেন। সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং রাজশাহী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান চলমান বিষয় সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সরকার ও পুলিশ বিভাগের কিছু অতি উৎসাহী কর্মকর্তা অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে। তারা প্রচার মাইকের সাথে থাকা পোস্টার, ব্যানার খুলে নিচ্ছে। বিশেষ করে কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় এই ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে। এছাড়াও নেতাকর্মী যাতে করে বাইরের জেলাগুলো থেকে যেন নেতাকর্মীরা না আসতে পারে তার জন্য রাজশাহী থেকে এবং রাজশাহীগামী সকল রুটের বাস বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। : তিনি আরো বলেন, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও বাড়িতে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। জনগণ হচ্ছে সকল ক্ষমতার উৎস। যতই সরকার গ্রেফতার, বাস বন্ধ এবং ভয়ভীতি দেখান না কেন আজকের মহাসমাবেশ রাজশাহীর সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশে পরিণত হবে। মাদ্রাসা মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বুধবার বিকেল ৪টায় আরএমপি কমিশনার নগরীর গণকপাড়া মোড়ে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু জনদুর্ভোগের বিষয় নিয়ে পুনরায় কমিশনারকে বললে ১২টি শর্ত জুড়ে দিয়ে সমাবেশ করার অনুমতি প্রদান করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি জোকারদের কমিশন। এই কমিশনের উপর মানুষের কোন আস্থা নেই। সরকারের আজ্ঞাবহ এই কমিশন কোনদিন সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, তফসিল ঘোষণা করলেই নির্বাচন হবে এমন আসা করা সরকারের ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখা। নির্বাচন কমিশন যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি না মানে তাহলে এই সমাবেশ থেকেই কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে এই সরকারকে বাধ্য করা হবে। এই আন্দোলনের জন্য সরকারকেই দায়ভার বহন করতে হবে বলে জানান মিনু। : মিনু আরো বলেন, সমাবেশের মাত্র ১৪ ঘণ্টা আগে ১২টি শর্তে সমাবেশ করার লিখিত অনুমতি পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকাতেও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র করে এমন করা হয়। তারপরও এই সমাবেশ সফল হবে এবং এখান থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচনের গণআন্দোলন শুরু হবে। সমাবেশে ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, আ. স. ম আব্দুর রব, কর্নেল অলি আহমেদ, আন্দালিব রহমান পার্থ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ সিনিয়র নেতা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সকল নেতা রাজশাহীর সমাবেশে যোগ দেবেন। : সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহীন শওকত, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, সাবেক এমপি ও জেএসডির সিনিয়র সহ-সভাপতি এম.এ গোফরান, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুন্সি মনির আহম্মেদ বাহার, রাজশাহী জেলা জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহম্মেদ ও মহানগর জেএসডি’র সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান। : অন্যদের মধ্যে রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি শওকত আলী, মতিহার থানা বিএনপির সভাপতি আনসার আলী, শাহ্ মখদুম থানা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান শরীফ, মহানগর যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাকির হাসেন রিমন ও মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহফুজুর রহমান রিটনসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। খবর প্রেস বিজ্ঞপ্তির। :রাজশাহী অফিস, দিনকাল :

শেয়ার করুন