আইনের খসড়া আজ মন্ত্রিসভায় কড়া নিয়ন্ত্রণে যাচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংক

0
130
Print Friendly, PDF & Email

গ্রামীণ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হবে যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক, তাই গ্রামীণ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনও বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় বর্তমানে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ ব্যাংককে দিতে হয় না।
এ ছাড়া আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে গ্রামীণ ব্যাংককে পরিপালন করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মকানুন। গ্রামীণ ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন হবে ৩০০ কোটি টাকা, আর পরিশোধিত মূলধন হবে ২৪০ কোটি টাকা।
এসব নতুন বিষয় যুক্ত করে গ্রামীণ ব্যাংক আইন, ২০১৩-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে অনুমোদনের জন্য এই আইনের খসড়া উপস্থাপন করবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
আদালতের নির্দেশে সামরিক শাসনামলে জারি হওয়া প্রায় সব অধ্যাদেশকেই আইনে রূপান্তর করছে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংক আইনটিও ওই জায়গা থেকেই করা হচ্ছে বলে বেশ কয়েকবারই জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। গত সোমবার অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক আইনে মোটা দাগে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।
নতুন আইনে ২৫ শতাংশ শেয়ার সরকারের হাতে এবং বাকি ৭৫ শতাংশ গ্রামীণ ব্যাংকের হাতে রাখার কথা বলা হয়েছে। আর, কর অব্যাহতি দেওয়া হবে নির্দিষ্ট কয়েক বছরের জন্য।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগে একটি বাছাই কমিটি করা হবে। বাছাই কমিটি এমডি প্রার্থীর নাম পাঠাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে। পর্ষদ বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনক্রমে নিয়োগ করবে এমডি।
এদিকে, গ্রামীণ ব্যাংকের বিধিমালা তৈরির একক ক্ষমতাও নিয়ে নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় গঠিত একটি কমিটি গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালক নির্বাচন বিধিমালা তৈরি করেছে। তা এখন ভেটিংয়ের (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে।
প্রস্তাবিত বিধি অনুযায়ী, সরকার যেকোনো সময় এই বিধিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধন করতে পারবে। বর্তমানে এই বিধিমালা তৈরি করে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
গ্রামীণ ব্যাংকের পর্ষদ সদস্য বর্তমানের মতোই ১২ জন থাকবেন। পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন সরকার মনোনীত একটি কমিশন পরিচালনা করবে। নির্বাচন কমিশন পরিচালনার জন্য থাকবেন নির্বাচন কমিশনার। সরকারই নিয়োগ দেবে তাঁকে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন একজন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এ ছাড়া পরিচালনা পর্ষদে দুই ধরনের পরিচালক রাখার কথা বলা হয়েছে। এক ধরনের পরিচালককে মনোনয়ন দেবে সরকার, অন্য ধরনের পরিচালককে নির্বাচিত করবেন গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা শেয়ারধারীরা।
তবে, পর্ষদে তিন বছরের বেশি কেউ একটানা থাকতে পারবেন না। প্রতিবছর পরিচালনা পর্ষদের এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের অবসরে যাওয়া বাধ্যতামূলক। ফলে গ্রামীণ ব্যাংকের নয়জন উদ্যোক্তা পরিচালকের মধ্যে ধারাবাহিকভাবে তিনজনকে প্রতিবছর অবসরে যেতে হবে। তাঁদের জায়গা পূরণ হবে নতুন পরিচালকের মাধ্যমে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বিষয়টি ব্যাখ্যা করে জানান, অবসরে যাওয়ার পর কোনো পরিচালক পরের বছর আবার পর্ষদ সদস্য হতে পারবেন না। অর্থাৎ পরবর্তী দুই মেয়াদের জন্য পর্ষদ সদস্য হওয়া থেকে তাঁকে বিরতি দিতে হবে।
তবে পরিচালক নির্বাচন করা হবে ‘ইলেকশন অব বেসিক ইলেকটোরাল’ এবং ‘ইলেকশন অব ডিরেক্টরস’—এই দুই ধাপে। বেসিক ইলেকটোরাল সংখ্যা হবে ১৫। এটি গঠন করা হবে একটি নির্বাচনী এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণগ্রহীতাদের ভোটের মাধ্যমে, যার সংখ্যা হতে হবে সাড়ে সাত হাজারের বেশি। এই নির্বাচন পরিচালনা করবেন জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি)।
পরিচালক নির্বাচনের জন্য বর্তমানে নয়টি নির্বাচনী অঞ্চল থাকলেও নতুন আইনের খসড়ায় ১৫টি উপনির্বাচনী অঞ্চলের সমন্বয়ে নয়টি নির্বাচনী অঞ্চল গঠনের কথা বলা হয়েছে।
চেয়ারম্যানসহ তিন পরিচালককে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য মনোনীত করবে সরকার। তবে কত দিনের জন্য, তা বিধিতে বলা থাকছে না।

শেয়ার করুন