খুনিদের বাঁচাতে মাঠে নেমেছে ঐক্যফ্রন্ট চট্টগ্রামে আ. লীগের গণসমাবেশে নেতারা

0
145
Print Friendly, PDF & Email

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের উদ্দেশে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাঁচাতে মাঠে নেমেছেন ড. কামাল হোসেনরা। গত সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে আন্দোলনের নামে যারা জ্বালাও-পোড়াও করে নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে, সেসব চিহ্নিত অপরাধীকে রক্ষার জন্য তাঁরা সভা-সমাবেশ করছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা আরো বলেন, আগামী নির্বাচন হবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সঙ্গে বিপক্ষের শক্তির লড়াই। এই লড়াইয়ে অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী হতে হবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরের ইপিজেড মোড়ে এ গণসমাবেশে আওয়ামী লীগ নেতারা এসব কথা বলেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। ‘উন্নয়নকে এগিয়ে নিন, নৌকা মার্কায় ভোট দিন’—এই স্লোগানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের আওতাধীন ইপিজেড, বন্দর ও পতেঙ্গা আওয়ামী লীগের আয়োজনে যৌথ এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের পুনর্বাসনের পাঁয়তারার প্রতিবাদে এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীপ্রধানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার প্রচারকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে এ গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের উদ্দেশ করে বলেন, ‘যারা জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ হত্যা করেছে তারা এ দেশে চিহ্নিত। চিহ্নিত এ অপশক্তিকে নিয়ে আপনারা (জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট) মাঠে নেমেছেন। জনগণ আপনাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’

মেয়র বলেন, ‘একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বার্থে আগামী নির্বাচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাঁকে মনোনয়ন দেবেন তাঁকে বিজয়ী করার মাধ্যমে পুনরায় শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। গত ১০ বছর আগে দেশ কী ছিল আর এখন দেশকে উন্নয়নের মাধ্যমে শেখ হাসিনা কোথায় নিয়ে গেছেন, তা এ দেশের মানুষ জানে।’

ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ করে সভাপতির বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, ‘একসময় বঙ্গবন্ধুর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ থাকার পরও এখন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের সঙ্গে আপনি জোট করেছেন। বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হত্যাচেষ্টাকারীদের সঙ্গে নিয়েও আপনি আন্দোলন করছেন। আমেরিকা ও সিঙ্গাপুরের আদালতে প্রমাণিত হওয়া অর্থপাচারকারী এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বাঁচাতে আপনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনি ও শেখ হাসিনার হত্যাচেষ্টাকারী সাজাপ্রাপ্ত এবং দেশবিরোধীদের নিয়ে আগামী দিনে আর চট্টগ্রাম আসবেন না। আসলে বাধা দেওয়া হবে।’

নগর আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হাজি জহুর আহমদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, মহানগর আ. লীগের সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, মশিউর রহমান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা রোটারিয়ান হাজি মো. ইলিয়াছ, চন্দন ধর প্রমুখ।

গতকাল বিকেল ৩টায় সমাবেশ শুরু হওয়ার আগেই নগরের ওই তিন থানা আওয়ামী লীগের আওতাধীন ওয়ার্ড ইউনিট থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা ইপিজেডের প্রবেশমুখের বাঁ পাশে সমাবেশস্থলে আসে। সমাবেশস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে পার্শ্ববর্তী সড়কেও ছিল লোকারণ্য। বিকেল ৪টার পর যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। তবে সমাবেশস্থলে মাঠের বাঁ পাশে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করে কিছুটা বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

উল্লেখ্য, বন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা এই তিন থানা নিয়েই চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় আসন। এ আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। তিনি নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। গতকাল এ গণসমাবেশে নগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত থাকলেও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন না এ আসনের দলীয় এমপি এম এ লতিফ। নির্বাচনের আগেই গতকাল শোডাউন দেন আওয়ামী লীগের কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা।

শেয়ার করুন