খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি চিকিৎসা চলবে আগের নিয়মেই

0
100
Print Friendly, PDF & Email

: রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গতকালও কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেনি মেডিকেল বোর্ড। তবে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা বেগম খালেদা জিয়ার বর্তমান ফাইলপত্র পর্যালোচনা করেছেন এবং পুরনো মেডিসিনই আপাতত চলবে বলে জানিয়েছেন। গতকাল রবিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বিএসএমএমইউ পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল্লাহ আল হারুন এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা আগের মতোই আছে বলেও জানান তিনি। : তিনি বলেন, ‘বেলা সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টা পর্যন্ত ওনারা (মেডিকেল বোর্ড) গিয়ে অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু ওনাকে (খালেদা জিয়া) দেখেননি এ পর্যন্ত। আব্দুল্লাহ আল হারুন বলেন, আগামীকাল সোমবার মেডিকেল বোর্ড বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলবেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবেন। নতুন কোনো পরীক্ষার দরকার হলে সেটি করবেন। এর পর তাকে চিকিৎসা দেয়া হবে। : প্রাথমিকভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনা করে নতুন করে গঠিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা আপাতত আগের চিকিৎসাই অব্যাহত রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। : হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, গতকাল চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়ার আগের ব্যবস্থাপত্রগুলো পর্যালোচনা করেছেন। এসব ব্যবস্থাপত্র দেখে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আপাতত আগের চিকিৎসা চলবে বিএনপি নেত্রীর জন্য। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার আগের সব ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনা করে এবং তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিনি ডাক্তারদের যা বলবেন, সেইভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার চিকিৎসার সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে, যোগ করেন হাসপাতালের পরিচালক। আদালতের নির্দেশ অনুসারে শনিবার বিকেলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালের ভিআইপি ডিলাক্স ৬১১ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে। গতকালই কর্তৃপক্ষ একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করেছেন। মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন চিকিৎসক ডা. এম এ জলিল (মেডিসিন) ও সহকারী অধ্যাপক ডা. বদরুন্নেসা, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল হক (রিউম্যাটলজি), অধ্যাপক সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি (কার্ডিওলজি), অধ্যাপক নকুল কুমার দত্ত (অর্থোপেডিক্স)। বোর্ড পুনর্গঠিত হয়েছে কিনা- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পরিচালক বলেন, ‘বোর্ড পুনর্গঠিত হয়নি। শুধুমাত্র আমাদের ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি বরিশাল গিয়েছেন একটা জরুরি কাজে, আসবেন ৯ অক্টোবর। ইতিমধ্যে ওনার স্থলে সহযোগী অধ্যাপিকা ড. তানজীনা পারভীনকে নিয়োগ করেছি। : গতকালই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, আজ রবিবার নতুন গঠিত মেডিকেল বোর্ড বসবে। তারপরই তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসার ব্যাপারে যাবতীয় বিষয় জানাবেন। সেসব বিষয় অবগত করতেই গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএসএমএমইউ পরিচালক। : তিনি জানান, গতকাল বেগম খালেদা জিয়ার ব্যবস্থাপত্র পর্যালোচনার সময় তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক আল-মামুনও উপস্থিত ছিলেন। মেডিকেল বোর্ড আজ সোমবার আবার বসবে। : এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ আল হারুন জানান, গতকাল চিকিৎসকরা বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেননি, শুধু আগের ব্যবস্থাপত্রগুলো দেখেছেন। সেগুলোই পর্যালোচনা করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে পছন্দের কোনো চিকিৎসকের কথা বলা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পছন্দের কোনো চিকিৎসকের কথা এখনো আমাদের বলেননি। যদি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে কোনো চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের অবেদন করা হয়, তাহলে আদালতের আদেশ অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। : মেডিকেল বোর্ডের চারজন সদস্য আওয়ামী লীগপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আজীবন সদস্য বিএনপির এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, আদালত রায়ে বলেছেন, যারা ড্যাব বা স্বাচিপের বর্তমান কার্যনির্বাহী সদস্য, তারা বোর্ডে থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া বাকি যেকোনো চিকিৎসক বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত বোর্ডের সদস্য হতে পারবেন। আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। বেগম খালেদা জিয়া কেমন আছেন জানতে চাইলে পরিচালক বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কাল আমাদের এখানে এসেছেন। তিনি কাল যেমন ছিলেন, আজও তেমন আছেন। : গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দেয় আদালত। সেদিন থেকেই সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি কক্ষে ছিলেন। এরপর গত ৭ এপ্রিল তাকে বিএসএমএমইউ হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে সেদিনই তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেয়া হয়। কারাগারের নির্জন কক্ষে বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার সুচিকিৎসার জন্য লিখিত আবেদন নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা দুইবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সচিবালয়ে গিয়ে দেখা করেন। বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি তুলে ধরে তাকে দ্রুত রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির অনুরোধ জানান বিএনপি নেতারা। সরকারের পক্ষ থেকে ইউনাইটেড হাসপাতালের পরিবর্তে বিএসএমএমইউ অথবা সিএমএইচে চিকিৎসা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট বেগম খালেদা জিয়ার বিষয়ে একটি নির্দেশনা দেন। এতে বেগম খালেদা জিয়ার পছন্দের চিকিৎসক ও নিরপেক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসার বিষয়ে নির্দেশনা দেন আদালত। : হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া তার পছন্দমতো ফিজিওথেরাপিস্ট, গাইনোকোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিতে পারবেন। মেডিকেল বোর্ডের অনুমতি সাপেক্ষে বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও আনতে পারবেন। হাইকোর্টের এ নির্দেশনা অনুযায়ী বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণে সম্মত হন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। : :

দিনকাল রিপোর্ট :

শেয়ার করুন