যে কারণে এখনই নায়করাজ সপ্তাহ

0
87
Print Friendly, PDF & Email

কিংবদন্তি অভিনেতা নায়করাজ রাজ্জাকের জন্মদিন ২৩ জানুয়ারি আর মৃত্যুদিন ২১ আগস্ট। অথচ ২৮ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘নায়করাজ রাজ্জাক সপ্তাহ’! কিন্তু সেটি এখনই কেন?
অনুষ্ঠানটির আয়োজক প্রতিষ্ঠান বৈশাখী টেলিভিশন-এর মিডিয়া মুখপাত্র দুলাল খান বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘আমাদের এই আয়োজন নায়করাজের মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণে।’ কিন্তু সেটি তো অনেক দূর। আসছে মাসে। জবাবে তিনি বললেন, ‘মোটেই না। উনার মতো মানুষকে নিয়ে মাসজুড়ে আয়োজন করা দরকার। কিন্তু সেটা তো কেউ করছে না। যার ফলে অনেকেই এই মানুষগুলোর জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিনের কথা বেমালুম ভুলে যায়। তাই আমরা এই কিংবদন্তিকে স্মরণ করতে ২৫ দিন আগে থেকেই অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করছি। ২১ আগস্টকে ঘিরে আমাদের আরও বড় পরিকল্পনা আছে সামনে।’
বৈশাখী টিভি সূত্রে জানা যায়, ২৮ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত এই চ্যানেলে প্রতিদিন সম্প্রচার হবে নায়করাজ রাজ্জাক অভিনীত ছবির বিশেষ গানগুলো। শাহ্ আলমের প্রযোজনায় ‘মিউজিক অ্যালবাম’ অনুষ্ঠানের এই বিশেষ পর্বগুলো প্রচার হবে প্রতিদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটে।
প্রথমদিন (২৮ জুলাই) প্রচার হবে রাজ্জাক-কবরী জুটির ‘দীপ নেভে নাই’ ছবির- আমার এ গান তুমি শুনবে, ‘স্মৃতিটুকু থাক’ ছবির- মন তো ছোঁয়া যাবে না, ‘পরিচয়’ ছবির- মিছে মিছে রাগ করো না, ‘আবির্ভাব’ ছবির- কাছে এসো যদি বলো এবং ‘রংবাজ’ ছবির- হৈ হৈ রঙ্গিলা রে…।
২৯ জুলাই রবিবার প্রচার হবে রাজ্জাক-শাবানা জুটির ‘অমর প্রেম’ ছবির- আমি কার জন্যে পথ চেয়ে রবো, ‘পুত্রবধূ’ ছবির- জীবনও আঁধারে পেয়েছি তোমারে, ‘অবুঝ মন’ ছবির- শুধু গান গেয়ে পরিচয়, ‘কাবিন’ ছবির- তোমাকে পাওয়ার সুখে এবং ‘ঘরনী’ ছবির- আরে ও আমার ময়না।
৩০ জুলাই সোমবার প্রচার হবে রাজ্জাক-ববিতা জুটির ‘সোহাগ’ ছবির- এ আকাশকে সাক্ষী রেখে ও আমি সাজবো নতুন সাজে, ‘অসাধারণ’ ছবির- রাগের চেয়ে তোমার ও মুখ, ‘লাইলী মজনু’ ছবির- তুমি আমি দু’জনে এবং ‘অর্পণ’ ছবির- ভালোবাসা নামে এক চিঠি এসেছে…।
নায়করাজ রাজ্জাক
৩১ জুলাই মঙ্গলবার প্রচার হবে রাজ্জাক-সুজাতা ও শবনম জুটির জনপ্রিয় গান। এর মধ্যে- ‘নাচের পুতুল’ ছবির- আয়নাতে ঐ মুখ, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ ছবির- ও দুটি নয়নে স্বপনে চয়নে, ‘আপনজন’ ছবির- কেন এত দেরি হলো, ‘এতটুকু আশা’ ছবির- রাগ করবার আরও যে কত এবং ‘নাচের পুতুল’ ছবির- ও নদী ও আকাশ…।
১ আগস্ট বুধবার প্রচার হবে ‘বন্ধু’ ছবির- বন্ধু তোর বারাত নিয়া আমি যাব, ‘অভিযান’ ছবির- এক গেরস্থের ঘরে ছিলো এক হাঁস এবং সেই দিন এলো এতদিন পরে, ‘জিঞ্জির’ ছবির- সুমন রাজন মোহন, ‘নীল আকাশের নীচে’ ছবির- হেসে খেলে জীবনটা যদি চলে যায়…।
আয়োজনের শেষ দিন ২ আগস্ট প্রচার হবে ‘দর্পচূর্ণ’ ছবির- তুমি যে আমার কবিতা, ‘বৌরানী’ ছবির- যাবে কোথায় আমি যে হেথায় এবং অভিমানী মান করো না, ‘পিচ ঢালা পথ’ ছবির- ফুলের কানে ভ্রমর এসে, ‘আপনজন’ ছবির- শোনরে বাদল শোন, ‘অশ্রু দিয়ে লেখা’ ছবির- না সরে যেওনা…।

উল্লেখ্য, নায়করাজ রাজ্জাকের আসল নাম আব্দুর রাজ্জাক। ১৯৩২ সালের এ দিনে (২৩ জানুয়ারি) কলকাতার টালিগঞ্জে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নাটকের নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক ‘বিদ্রোহী’তে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়করাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা। তিনি ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) পাড়ি জমান। প্রথমদিকে রাজ্জাক তৎকালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে ‘ঘরোয়া’ নামের ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি আব্দুল জব্বার খানের সঙ্গে সহকারি পরিচালক হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান। সালাউদ্দিন প্রোডাকশন্সের ‘তেরো নাম্বার ফেকু ওস্তাগর লেন’ ছবিতে ছোট একটি চরিত্রে অভিনয় করে সবার কাছে নিজ মেধার পরিচয় দেন রাজ্জাক।
নায়করাজ রাজ্জাক
নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে নায়করাজের যাত্রা জহির রায়হানের ‘বেহুলা’ ছবি দিয়ে। এতে তার বিপরীতে ছিলেন কোহিনূর আক্তার সুচন্দা। প্রযোজক হিসেবে নায়করাজের যাত্রা শুরু ‘রংবাজ’ ছবিটি প্রযোজনার মধ্য দিয়ে। এটি পরিচালনা করেছিলেন জহিরুল হক। রাজ্জাকের বিপরীতে ছিলেন কবরী। ববিতার সঙ্গে জুটি বেঁধে নায়করাজ প্রথম নির্দেশনায় আসেন ‘অনন্ত প্রেম’ চলচ্চিত্র দিয়ে। এই ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে। নায়ক হিসেবে এ অভিনেতার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিলো শফিকুর রহমান পরিচালিত ‘মালামতি’। এতে তার বিপরীতে ছিলেন নূতন।
অন্যদিকে নায়করাজ সর্বশেষ ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ‘আয়না কাহিনী’ চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। এই চলচ্চিত্রে জুটি হিসেবে অভিনয় করেছিলেন সম্রাট ও কেয়া। এরপর আর নতুন কোনও চলচ্চিত্র নির্মাণে তাকে দেখা যায়নি।

শেয়ার করুন