কাঁচাবাজার ও মাঠ নেই, সড়কে পার্কিং

0
388
Print Friendly, PDF & Email

সিটি করপোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর হলো। এই সময়ে রাজধানীর অনেক স্থানেই লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। আবার কোথাও এখনো কোনো কাজই হয়নি। নির্বাচিত কাউন্সিলররাই বা কী করছেন? আবার নতুন করে যেসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেসব এলাকায় হাতই দেয়নি দুটি করপোরেশন। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আছে নানা ক্ষোভ-আক্ষেপ। এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা, অভাব-অভিযোগ, সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে নিয়মিত প্রকাশিত হবে ওয়ার্ডের চালচিত্র

গোপীবাগ ও কমলাপুরের অধিকাংশ সড়ক এবং ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে গাড়ি পার্কিং, গ্যারেজ ও দোকানপাট৷ এতে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে৷ এলাকাগুলো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন।
এই ওয়ার্ডে কাঁচাবাজার, পার্ক ও খেলার মাঠ কোনোটিই নেই৷ ময়লা-আবর্জনায় ভরা সড়ক, কুকুর ও মশার উপদ্রব, ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ, তীব্র গ্যাস-সংকট ও দুর্বল পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থায় ভোগান্তিতে পড়ছেন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা।
গত সোমবার এসব এলাকা ঘুরে এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র দেখা যায়। গোপীবাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক কলোনি, সোনালী ব্যাংক কলোনি, আর কে মিশন রোড, সুইপারপট্টি, কমলাপুর, বক্স কালভার্ট রোড, বি রেলওয়ে ব্যারাক, কবি জসীমউদ্দীন রোড ও মতিঝিল (একাংশ) এলাকা নিয়ে ডিএসসিসির ৮ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। লক্ষাধিক লোকের বসবাস এই ওয়ার্ডে।
দেখা যায়, দক্ষিণ কমলাপুরের বক্স কালভার্ট রোড ও গোপীবাগের বিভিন্ন সড়ক এবং ফুটপাতে রয়েছে অর্ধশতাধিক গাড়ির গ্যারেজ৷ এর ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে চা-পানসহ হরেক রকমের দোকানপাট৷ অবৈধভাবে ব্যক্তিগত গাড়িও পার্কিং করা রয়েছে৷ ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের উপায় নেই৷ ঝুঁকি নিয়ে সড়কে চলছেন তাঁরা৷ সড়কে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ময়লা-আবর্জনা। বাতাসে উড়ছে ধুলাবালি, নাক-মুখ চেপে চলছেন পথচারীরা।

গোপীবাগের স্থানীয় বাসিন্দা মোস্তাক আহমেদ বলেন, গ্যারেজের কারণে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করা যায় না৷ সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়৷ এসব গ্যারেজ ও দোকান বসানোর পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে৷ এতে মহল্লার কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না৷ তা উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না৷
এই ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের কোনো কাঁচাবাজার নেই। অলিগলিতে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট। দেখা যায়, কমলাপুর বাজার রোড ও গোপীবাগ রেল ফটকের কয়েকটি মুদি দোকান ও ভ্যানগাড়িতে শাকসবজি বিক্রি হচ্ছে। দরদাম করে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা৷
কবি জসীমউদ্দীন রোডের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, মহল্লায় কাঁচাবাজার না থাকায় দেড়-দুই কিলোমিটার দূরে অন্য এলাকায় গিয়ে বাজার করতে হয়। এতে সময় ও শ্রম বেশি লাগে।
কমলাপুর শেরেবাংলা রেলওয়ে উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস শেষে গোপীবাগের বাসায় ফিরছিলেন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. নাজমুল৷ খেলার মাঠ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল বলে, ‘বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে মহল্লার বন্ধুরা মিলে দূরে কোনো মাঠে খেলতে যাই৷ এতে অনেক কষ্ট হয়৷’
একই এলাকার বাসিন্দা আবু হোসেন বলেন, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলার বিকল্প নেই৷ অথচ এই ওয়ার্ডের লক্ষাধিক লোকের জন্য কোনো খেলার মাঠ নেই৷ তিনি বলেন, ডিএসসিসির ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সরকারি অনেক ফাঁকা জায়গা রয়েছে৷ ডিএসসিসিকে একটি নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করে মাঠ নির্মাণ করতে হবে৷
গোপীবাগের ৬ নম্বর গলির বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ ও ময়লা পাওয়া গেছে৷ এই এলাকায় দিনের বেলা গ্যাস-সংকট থাকে বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। এই গলির বাসিন্দা শাহিদ হোসাইন আরিফ বলেন, দুই বছর ধরে এই গলির প্রায় ২০০ বাড়িতে ওয়াসার পানিতে ময়লা পাওয়া যাচ্ছে৷ ব্যবহার অনুপযোগী এই পানি ফুটিয়েও খাওয়া যায় না৷ বর্তমানে সবাইকে সুইপারপট্টি এলাকা থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়৷
এক বছর ধরে ৬ নম্বর গলিতে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে৷ সকাল ছয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না৷ এতে প্রায় ৮০০ পরিবারকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে৷ তিনি বলেন, এই দুটি সমস্যা সমাধানে ঢাকা ওয়াসা ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে, কিন্তু তারা কোনো কাজ করছে না৷
বক্স কালভার্ট রোড-সংলগ্ন রয়েছে গুদারাঘাট নামে ঝিল৷ দেখা যায়, ঝিলের পানি অনেক নোংরা। বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনায় স্তূপ হয়ে রয়েছে। উড়ছে মশা-মাছি৷ এর মধ্যে নৌকায় করে ঝিল পাড় হয়ে মতিঝিল যাচ্ছেন মানুষ৷
এই এলাকার আটজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই ঝিলটি মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হয়ে পড়েছে। পুরো এলাকায় মশার প্রচণ্ড উপদ্রব। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন বাসিন্দারা। কিন্তু তা নিধনে ডিএসসিসি নিয়মিত ওষুধ ছিটায় না৷

কাঁচাবাজার ও মাঠ-পার্ক নির্মাণে ডিএসসিসিতে আবেদন করা হবে
সুলতান মিয়াসুলতান মিয়া
২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ডিএসসিসির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থী সুলতান মিয়া। এলাকার বিভিন্ন বিষয়ে তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন।
সড়ক ও ফুটপাত দখলের বিষয়ে সুলতান মিয়া বলেন, এই এলাকার ফুটপাত পথচারীবান্ধব করতে বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে৷ কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে আবার তা আগের অবস্থায় ফিরে যায়৷ নতুন করে অভিযান চালাতে ডিএসসিসিকে বলা হবে৷
কাউন্সিলর বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে মাঠ ও কাঁচাবাজার নির্মাণের অনেক সরকারি জায়গা রয়েছে৷ এর মধ্যে থেকে কোনো একটা জায়গায় তা নির্মাণে শিগগিরই ডিএসসিসির মেয়রকে চিঠি দেওয়া হবে।
সুলতান মিয়া বলেন, এই ওয়ার্ডের সড়ক পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন ভোরে প্রায় ৫৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী কাজ করেন৷ কিন্তু সকালে সড়কের আশপাশের দোকানপাটের ময়লা আবার সড়কে ফেলা হয়৷ এতেই সড়ক নোংরা দেখায়৷ এ ছাড়া মহল্লার মশা নিধনে ডিএসসিসি নিয়মিত ওষুধ ছিটায়৷

শেয়ার করুন