‘লাশের মাঝে আমিই কেবল জীবিত’

0
463
Print Friendly, PDF & Email

ভারতের উত্তর প্রদেশে কানপুরের অদূরে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের যাত্রী ছিলেন উত্তম কুমার। তিন ঘণ্টা ধরে ট্রেনের বিধ্বস্ত একটি কামরায় আটকে ছিলেন তিনি। অপেক্ষা করছিলেন কেউ তাঁকে বাঁচাবে।

একসময় বগিটি কেটে বের করা হয় ২৬ বছরের উত্তমকে। উদ্ধারকর্মীরা তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন। উত্তম তাকিয়ে দেখেন, চারপাশে কেবল লাশ আর লাশ।

কানপুরের একটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কথাগুলো বলছিলেন উত্তম। এএফপিকে তিনি বলেন, ‘সেটি ছিল ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এমন কিছু ঘটছে, বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।’

উদ্ধারকর্মীরা কামরার যে অংশটি কাটছিলেন, উত্তম সেখানেই বসেছিলেন। কাটার পরেই তাঁকে উদ্ধার করা হয়। উত্তমের যতটুকু মনে পড়ে, এরপরই তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। উত্তম বলেন, ‘সেখানে সব লাশের মাঝে আমিই কেবল জীবিত ব্যক্তি ছিলাম।’

গতকাল রোববার ভোররাতে পাটনা-ইন্দোর এক্সপ্রেস ট্রেনটির ১৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়। সে সময় বেশির ভাগ যাত্রী ঘুমিয়েছিলেন। ওই ট্রেনে প্রায় দুই হাজার যাত্রী ছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহত মানুষের সংখ্যা ১৪২। ভারী যন্ত্র, শিকারি কুকুর ও ধাতব বস্তু কাটার যন্ত্র দিয়ে বগিগুলো কেটে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করা হচ্ছে।

উদ্ধারকর্মীরা বলেন, বেশির ভাগ মরদেহ বিকৃত হয়ে গেছে। তাদের চেনা যায়নি।

ওই ট্রেনের আরেক যাত্রী ছিলেন বিবেক পারিখ। তাঁর দুই বোনও ট্রেনে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক বোনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। কিন্তু আরেকজনকে খুঁজে পাননি। সারা রাত ধরে বোনকে বিভিন্ন হাসপাতালে খুঁজেছেন বিবেক। বোন রোশনির খোঁজ কেউ দিতে পারেননি।

বিবেক কুমার বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পরিবার সহজেই তাঁর খোঁজ পেয়েছিল। ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে চিৎকার করছিলেন বিবেক।

চিৎকার করে বাড়ির ফোন নম্বর জানাচ্ছিলেন। ফলে সহজেই পরিবার তাঁর খোঁজ জানতে পারে।

শেয়ার করুন