দশ হাজার নার্স নিয়োগে কোটা শিথিলের প্রস্তাব অনুমোদন

0
356
Print Friendly, PDF & Email

শূন্যপদে প্রায় ১০ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগে কোটা শিথিলের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ফলে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থী সংকটে কোটার শূন্য পদ মেধা তালিকার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে। এজন্য আইনের সংশোধনের প্রস্তাবে এ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। একই সাথে মন্ত্রীসভা আদালতের গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হলেই তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভারতের সাথে বন্দি বিনিময় এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।

আজ সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ কোটার কোনো পদ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে পূরণ করা সম্ভব না হলে সে সব পদ জাতীয় মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে পূরণ এবং বিশেষ কোটার অপূরণকৃত পদ সংরক্ষণের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সার্কুলারের বিধান শিথিলকরণের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

তিনি বলেন, সিনিয়র স্টাফ নার্সের অনেক পদ শূন্য আছে। নয় হাজার ৬১৬ পদের মধ্যে কোটার কারণে অনেক পদ শূন্য রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। কোটা শিথিল করার অনুমতি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে শূন্য পদে মেধারভিত্তিতে শীর্ষে অবস্থানকারী তালিকা থেকে পূরণ করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোটায় সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের বিষয়টি শিথিল করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় না পাওয়া গেলে পদগুলো খালি থাকতো। এখন নিয়োগের ক্ষেত্রে সেটা মেধারভিত্তিতে পূরণ করা সম্ভব হবে। এখন তো মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নাতি-পুতি কাউকে পাচ্ছি না। তবে ৯ হাজার ৬১৬টি পদ পূরণের নিয়োগের কোটার ক্ষেত্রে এ শিথিল আদেশ প্রযোজ্য হবে। তিন হাজার ৬১৬টি সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে নিয়োগে যাদের মৌখিক পরীক্ষা চলছে তারাও এই সুযোগ পাবেন। নতুনভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধান শিথিলে আবারও মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হবে। এর আগে ৩৪তম ও ৩৫তম বিসিএসে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে শূন্যপদে কোটা শিথিলের প্রস্তাবে সায় দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন অনুমোদন
এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট আইনের খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ আইনটি আগেই ছিল। ১৯৭৪ সালের দ্য জুট রিসার্চ ইনস্টিটিউট অ্যাক্টের মাধ্যমে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর আইনের অনেকগুলো সংশোধন আনা হয়। আইনের কতগুলো সংশোধনী হয় সামরিক শাসনামলে। এ কারণে এটাকে নতুনভাবে সাজিয়ে আনা হয়েছে। ১৯৭৪, ১৯৮৩, ১৯৯০ ও ২০০২ সালের সবগুলো আইন মিলিয়ে নতুন এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। সবগুলো মিলিয়ে কম্পোজিট ল’ আকারে আনা হয়েছে। আগের তুলনায় পরিসর বেড়েছে। আগের তুলনায় আইনটির পরিসর একটু বেড়েছে। বিজ্ঞানী, পরিচালক, প্রবিধান, বিধি, সম্পদের সংজ্ঞা সংযোজন করা হয়েছে। নতুন আইনে শাখা পর্যায়ে অফিস স্থাপনের বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইন হলে সরকারের অনুমোদন নিয়ে পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশের যে কোনো স্থানে নতুন শাখা খুলতে পারবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এ আইনের আলোকে আঁশজাতীয় ফসল উৎপাদন ও গবেষণা, পাটবীজ উৎপাদন, সরবারহ, সংগ্রহ ও বিতরণ ছাড়াও পাটজাত পণ্য নিয়ে গবেষণায় বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষকদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা যাবে। উন্নতমানের কলিতাত্ত্বিক বিশুদ্ধতা বজায় রেখে পাটবীজ উৎপাদন, পরিচালন, পরীক্ষণ, সরবরাহ, সীমিত আকারে উন্নতমানের পাটবীজ উৎপাদন ও সংগ্রহ এবং নির্বাচিত চাষি, স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান ও বোর্ড অনুমোদিত এজেন্সির কাছে বিতরণ, ইনস্টিটউটের বার্ষিক প্রতিবেদন, মনোগ্রাম, বুলেটিন এবং পাট গবেষণা সর্ম্পকিত অন্যান্য গবেষণা প্রকাশ ও প্রচার করা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব জানান, বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালনার জন্য একজন খ্যাতনামা পাটজাত পণ্য প্রযুক্তিবিদ মহাপরিচালক থাকবেন। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প ও বণিক সমিতি, কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের প্রতিনিধি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রতিনিধি, ইনস্টিটউটের পরিচালকরা, পাট গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত দু’জন বিজ্ঞানী, একজন কৃষক, একই ধরনের প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কৃষি, অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় মনোনীত উপ-সচিব মর্যাদার ৪ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মনোনীত বাংলাদেশ শিল্প গবেষণা পরিষদের প্রতিনিধি, পাট অধিদফতরের পরিচালক, ইনস্টিটউটের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) প্রতিনিধিরা সদস্য থাকবেন

শেয়ার করুন