২৩ মার্চ থেকে ইউপি নির্বাচন

0
138
Print Friendly, PDF & Email

আগামী ২৩ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে একদিনে ৭৬৫টি ইউপি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হবে আগামী সপ্তাহে। আগামী ৬ জুন রোজা শুরুর আগেই সারা দেশের সাড়ে ৪ হাজার ইউপির নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষা, রোজা ও পূজা-এসব কারণে এবারের ইউপি নির্বাচনের সময় নির্ধারণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি প্রথম ধাপের নির্বাচনও ২৬ মার্চের পর করা কঠিন। যে পরিস্থিতি হয়েছে তাতে আগামী সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বিধিমালা দু’টির ভেটিং সম্পন্ন হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

ইসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইনি বাধ্যবকতার কারণে আগামী ২৯ মার্চের আগে ৭৬৫ ইউপির নির্বাচন করতে হবে কমিশনের। এজন্য মার্চের শেষ দিকে নির্বাচন শুরুর চিন্তা ছিল। কিন্তু ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস ও ২৮ মার্চ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের কারণে ইউপি নির্বাচন শুরুর সময়সীমা এক সপ্তাহ এগিয়ে আনা হচ্ছে। ২৫ মার্চ শুক্রবার সাধারণত কোন নির্বাচন অনুষ্ঠানের রেওয়াজ নেই। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ২৭ মার্চেও কাজে লাগানো যাবে না। এরপর ২৮ মার্চ আওয়ামী লীগের সম্মেলন। ২৯ মার্চ ওইসব ইউপির আবার মেয়াদও শেষ হবে।

কমিশনের কেউ কেউ ২৪ মার্চ নির্বাচনের চিন্তা করলেও অন্যদের তাতে আপত্তি আছে। কারণ হিসাবে বলা হচ্ছে, ২৪ মার্চ বৃহস্পতিবার নির্বাচন করলে ওই এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে। ফলে পরবর্তী শুক্র ও শনিবার সহ মোট তিনদিন ছুটি ভোগের সুযোগ তৈরি হবে। যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে। ফলে ২৩ মার্চ বুধবার নির্বাচন করার উপযুক্ত সময় বলে মনে করছে কমিশন।

আগামী ১১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। সেটি না হলে ১৪ ফেব্রূয়ারি তফসিল ঘোষণা করবে ইসি। তবে তফসিল ঘোষণার বিষয়টি নির্ভর করছে আইন মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন পরিচালনা ও নির্বাচন আচরণ বিধিমালা ভেটিং হয়ে আসার উপর। মার্চে প্রথম ধাপের নির্বাচনের মধ্যে দ্বিতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এপ্রিলে এইচএসসি পরীক্ষার গ্যাপের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে, উপকুলবর্তীসহ অন্যান্য এলাকার ৭৬৫টি ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে চিঠি দিয়েছে কমিশন। গত বৃহস্পতিবার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো চিঠিতে মঙ্গলবারের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তালিকা পাঠানোর নির্দেশনা রয়েছে। ওই চিঠিতে গত ইউপি নির্বাচনে যেভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, এবারও সেইভাবে নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে।

রিটার্নিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা অফিসারদের জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে কোন ব্যক্তিকে দুই থেকে তিনটির বেশি ইউপির রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব না দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে চিঠিতে। প্রস্তুতির অংশ হিসাবে ৭৬৫টি ইউপির কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রভিত্তিক ভোটার তালিকা সিডি আকারে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাঠ পর্যায়ে সরবরাহের জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগকে বলা হয়েছে।

গত রোববার প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী এবার নতুন ৪৪ লাখ ৩২ হাজার ৯২৭ জন ভোটারও তাদের ভোটারধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ইতিমধ্যে এ নির্বাচনে প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা কমিশনে পাঠিয়েছে।

বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এসব ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা। উলে­খ্য, এর আগে ২০১১ সালে সর্বশেষ ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সূত্র: ইত্তেফাক।

শেয়ার করুন