স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে শ্রমিক লীগ নেতা গ্রেপ্তার

0
605
Print Friendly, PDF & Email

জেলার রায়পুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে আজাদ হোসেন চৌধূরী (৪০) নামে এক শ্রমিক লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌর শহরের নতুনবাজার এলাকা থেকে আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় রাতেই স্কুল ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ধর্ষক ও সহযোগিতাকারীসহ ২ জনের নামে রায়পুর থানায় মামলা করেছেন। ধর্ষক আজাদ পৌর শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি ও কথিত মানবাধিকার নেতা। তিনি রায়পুর শহরের পূর্বলাছ (পানবাজার) এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে।

পুলিশ ও ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শহরের একটি বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ৬ষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীর (১৩) পরিবার নতুনবাজারের পানবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল। তার বাবা পেশায় একজন রিকশাচালক। কিশোরীর মা-বাবা বাসায় না থাকার সুযোগে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ওই কিশোরীর চাচাতো বোন শারমিনের মাধ্যমে আজাদ চৌধুরী তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আটকে রেখে রাতভর কিশোরীর ওপর পাশবিক নির্যাতন (ধর্ষণ) চালায়। ভোররাতে কৌশলে ছাড়া পেয়ে কিশোরী তার বড় বোনসহ পরিবারের লোকজনকে ঘটনাটি জানায়। কিশোরীর বাবা-মা ঘটনাটির প্রতিবাদ করলে তাদের মারধর করে রিকশা আটক করে রেখে দেয়। পরবর্তীতে ৩ হাজার টাকা দিয়ে ওই রিকশা ছাড়িয়ে নিতে বাধ্য হন কিশোরীর দরিদ্র বাবা। এ ঘটনার পর আতঙ্কগ্রস্ত পরিবারটি হুমকির মুখে বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়।

পানবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন থেকেই আজাদ চৌধুরী নিজেকে কখনো শ্রমিক লীগ নেতা, কখনো মানবাধিকার নেতা আবার কখনো স্থানীয় প্রভাবশালী সাজিয়ে নারীদের হয়রানি ও নির্যাতন, শালিস বাণিজ্য, মাদক আড্ডাসহ নানান অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল। কিন্তু তার ক্যাডার বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। দরিদ্র রিকশাচালকের কিশোরী কন্যা ধর্ষণের ঘটনায় আজাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লোকমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত ধর্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধর্ষক আজাদ ও সহযোগিতাকারী শারমিন আক্তার নামের দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

শেয়ার করুন