রাজনৈতিক মামলায় সাতক্ষীরায় ২৪ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আত্মগোপনে

0
274
Print Friendly, PDF & Email

জেলার ৭৮টি ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপি-জামায়াতপন্থি অর্ধশতাধিক চেয়ারম্যানের নামে রাজনৈতিক মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে ২৪টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অফিস করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

এদিকে এসব ইউনিয়নের মেম্বার দিয়েই কোন রকমে চলছে পরিষদগুলো। এ অবস্থায় নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

২০১৩ সালে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর প্রথমে দেয়া ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে এ জেলাতে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় জামায়াতের প্রায় ৩০ জন ও আওয়ামী লীগের ৮জন নিহত হয় রাজনৈতিক সংঘর্ষে। এসব ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সম্পৃক্ততা রয়েছে এমন অভিযোগে তাদের নামে একাধিক মামলা করা হয়।

পুলিশের খাতায় এসব চেয়ারম্যানরা পলাতক আসামি। তাই গ্রেফতার করতে মরিয়া পুলিশ। অন্যদিকে গ্রেফতার এড়িয়ে কোন রকমে চলাফেরা করছেন তারা। এমনকি গ্রেফতার আতঙ্কে তারা ইউনিয়ন পরিষদে পর্যন্ত আসছেন না বলে জানা গেছে।

জেলা সদরের আগরদাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনুরুল ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলার বেশিরভাগ চেয়ারম্যারা পরিষদ ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। এছাড়া কিছু পরিষদে পুলিশের অভিযানের কারণে চেয়ারম্যানদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় সঠিকভাবে হচ্ছে না উন্নয়ন কাজ। ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েকজন চেয়ারম্যানকে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের নেতৃত্বে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সালের পর থেকে জেলায় হত্যা, হামলা, নাশকতা, গাছকাটা, বাসে আগুন, পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।

এ অভিযোগে দু’দফায় গ্রেপ্তার হয়েছেন সদর উপজেলার ভোমরা ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা আছাদুজ্জমান। জামায়াতের সদর থানার আমীর ও ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান আত্মগোপনে আছেন ২০১৩ সালের পর থেকে। আত্মগোপনে আছেন জামায়াত সমর্থিত বৈকারি ইউপি চেয়ারম্যান শহিদ হাছান।

তবে ইতিমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে শিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আব্দুল মজিদকে। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লাবসা ইউপি চেযারম্যান আব্দুল আলিম ২০১৩ সালের ঘটনার পর থেকে কাগজে কলমে পালিয়ে রয়েছেন। পালিয়ে রয়েছেন কলারোয়ার দেয়াড়া ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহিম হোসেন। কলারোয়া বিএনপি সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলা মামলার আসামি আব্দুর রকিব পলাতক। তিনি কয়লা ইউনিয়ানের চেয়ারম্যান।

যুগিখালি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামও বিএনপি নেতা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়ি বহরে হামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি হওয়ায় বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন। জামায়ত নেতা শওকাত আলী জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান। তাকে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। জামায়ত নেতা আব্দুল লতিফ কুশোডাঙ্গা ইউনিয়ানের চেয়ারম্যান। বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলিও।

তালা উপজেলার খলিসখালি ইউপি জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান সুলতান হাজী। বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। বদরুল ইসলাম বিএনপি নেতা। তিনি সরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। বর্তমানে তিনি বরখাস্ত। গোলাম ফারুক ইসলামকাঠি ইউনিয়নের জামায়াত সমর্থিত চেয়ারম্যান। বর্তমানে তনিও আত্মগোপনে রয়েছেন। গোলাম মোস্তাফা বিএনপি নেতা কুমিরা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আত্মগোপনে রয়েছেন।  

এদিকে বিএনপি নেতা ও কল্যা ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন। জমির উদ্দীন দরগাপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। সাদেকুর রহমান ইশ্বরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালনি জামায়াত সমর্থিত ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে রয়েছেন।

এছাড়াও নুর মোহম্মদ পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বর্তমানে আত্মগোপনে। আব্দুল খালেক নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আত্মগোপনে রয়েছেন। এছাড়া মো. মইনুউদ্দিন সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা। তিনি বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে।

লাবসা ইউপির নলকুড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক, কুমিরা গ্রামের আব্দুর রউফ, দেয়াড়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, জালাবাদ গ্রামের মশিউর রহমানসহ অনেকে জানান, চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার ও আত্মগোপনে থাকায় এলাকার কোন উন্নয়ন হচ্ছে না। কোন সমস্যায় পড়লে চেয়ারম্যানকে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের দাবি বিভিন্ন মামলায় তারা আসামি, আদালত থেকে জামিন নেয়নি। তাই তারা পুলিশের কাছে পলাতক।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি জরুরিভাবে দেখা হবে।

শেয়ার করুন