আজ ২০ দলের বিক্ষোভ, পালন করতে না দিলে সর্বাত্মক হরতাল

0
35
Print Friendly, PDF & Email

আজ শনিবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল। বিক্ষোভ মিছিল যদি পুলিশ করতে না দেয় তাহলে সর্বাত্মক হরতাল দিতে পারে ২০ দলীয় জোট। সরকারি দল ও পুলিশের সূত্র বলছে, এ ধরনের কর্মসূচি নিয়ে তাদের রাজপথে নামতে দেওয়া হবে না। কারণ বিএনপি আন্দোলনের নামে নাশকতা করছে।

টানা ৩৯ দিনের অবরোধের মধ্যে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের জেলা, উপজেলা, পৌরসভা ও মহানগরের সব ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি জোট। তবে ঢাকা মহানগরের কোথায়, কখন মিছিল হবে, তা বলা হয়নি। এ জন্য পুলিশের অনুমতিও চাওয়া হয়নি। জনসভা ও মাইক ব্যবহারের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো বিক্ষোভ মিছিলের জন্য কোনো অনুমতি চায়নি।

পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাজধানীসহ দেশের সব বিভাগ, জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি বলছে, বিক্ষোভ মিছিলে বাধা দেওয়া হলে কাল রোববার থেকে ‘সর্বাত্মক’ হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। দলটি সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করারও হুমকি দিয়েছে।

শুক্রবার দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদ এ হুমকি দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা-মন্ত্রী ও পুলিশের কর্মকর্তা আন্দোলনকারীদের ‘এনকাউন্টার’ ও ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার কথা বলেছেন, তাঁদের ভবিষ্যতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের আওতায় আনা হবে।

২০-দলীয় জোটকে বিক্ষোভ করতে দেওয়া হবে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমরা তাদের বিক্ষোভ করতে দেব কি না, সেটা বড় বিষয় নয়। তারা বিক্ষোভের জন্য লোক পাবে কি না, সেটা বড় বিষয়।’

তিনি আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে কোনো বাধা নেই। তবে নাশকতার চেষ্টা করা হলে চরম শাস্তি ভোগ করতে হবে।

বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন-নবী খান গতকাল বিবৃতি দিয়েছেন। তাঁরা ২০-দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীসহ নগরবাসীকে সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে শেষ ধাপের আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর রয়েছে। গতকাল ও আগের দিন রাজধানীর পল্টন এলাকার বিভিন্ন বহুতল ভবনে তল্লাশি চালানোর খবর পাওয়া গেছে। পুরানা পল্টনের আল-রাজি কমপ্লেক্সের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই ভবনের সিঁড়ি ও লিফটের গোড়ায় সাদা পোশাকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান নেন। তাঁরা আগন্তুকদের এই ভবনে কেন এসেছেন, কার কাছে এসেছেন, কোন অফিসে কাজ করেন এ ধরনের নানা প্রশ্ন করেন।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার বাইরেও ২০-দলকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ বলছে, এ কর্মসূচিতে নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে। তাই শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, বিএনপি তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করার অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু দেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, অবরোধ-হরতালে বিভিন্ন ধরনের নাশকতা করছে বিএনপি। এ অবস্থায় তাদের বিক্ষোভ করার সুযোগ দিলে আরও বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকা- করতে পারে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শামসুদ্দিন বলেছেন, ‘তারা যদি কাল আজ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করার কথাও বলে, তা-ও আমরা অনুমতি দেব না। তাদের প্রতি আমাদের আস্থা নেই। কারণ, তারা এ যাবৎ যেসব কর্মসূচি পালন করেছে, সব ধ্বংসাত্মক।’এছাড়া খুলনা, সিলেট, বরিশাল ও রংপুর মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একাধিক জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০-দলীয় জোটের বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হবে না। বরং এ কর্মসূচিকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কা করছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নাশকতা এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা বন্ধ হওয়া উচিত, এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। তবে বিক্ষোভ মিছিল, সভা-সমাবেশ করা নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার।

শেয়ার করুন