চৌদ্দগ্রামে পুলিশের গুলীতে ২ আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক যৌথবাহিনীর তান্ডব চলছেই॥ এ পর্যন্ত ৭০ বাড়ি ভাংচুর লুটপাট

0
245
Print Friendly, PDF & Email

চৌদ্দগ্রামে পুলিশের গুলীতে আহত ৪ জামায়াত-শিবির কর্মীদের মধ্য ২ জনের অবস্থা খুবই আশংকাজনক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী সরকারের লেলিয়ে দেয়া যৌথবাহিনীর বর্বর হামলা এবং গুলীতে আহত শিবির নেতা বোরহান উদ্দিন, আবদুল আলীম, আবু ইউছুফ এবং আবু সুফিয়ানকে গত ২ ফেব্রুয়ারি মিয়া বাজারে মিছিলের পর মহাসড়ক থেকে দুপুর ২টায় পুলিশ গ্রেফতার করে। পরের দিন ৩ ফেব্রুয়ারি মিয়া বাজার সংলগ্ন জগমোহন রাস্তার মাথায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়ার ঘটনায় সম্পূর্ণ ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে চৌদ্দগ্রাম থানা হাজত থেকে তাদের বের করে অস্ত্র ও বোমা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে তাদের রাতের অন্ধকারে গুলী করে মারাত্মক আহত করে এবং ভোর রাতে পুলিশ নিজেই তাদেরকে কুমিল্লা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিক ও অভিভাবকরা উপস্থিত হয় কিন্তু তাদেরকে পুলিশ দেখা করতে না দিয়ে দুর্ব্যবহার করে এবং ভালভাবে চিকিৎসা পর্যন্ত করায়নি। বরং তাদের নিয়ে সম্পূর্ণ সাজানো নাটকের পর তাদের বিরুদ্ধে গাড়িতে আগুন দেয়া হত্যা মামলা, বিস্ফোরক মামলা ও সদর দক্ষিণ থানায় আরও তিনটি সাজানো মামলা দায়ের করে। যা তাদের পরিবার ও এলাকাবাসীকে হতবাক করেছে। তারা যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে বর্তমানে তাদের ২ জন আবু ইফসুফ ও আবদুল আলিমের অবস্থা খুবই আশংকাজনক। এ ঘটনায় তাদের পরিবার ও আত্মীয় স্বজন খুবই উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে উপজেলা সেক্রেটারি শাহ মো. মিজানুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগ ও তাদের লেলিয়ে দেয়া যৌথবাহিনীর নামে চলছে চরম জুলম নির্যাতন, চলছে হত্যা মামলা, হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট। তাদের মূলপরিকল্পনা হচ্ছে গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের মামলা এবং বিভিন্ন ঘটনা সাজিয়ে এলাকা থেকে বিছিন্ন ও নেতৃত্বশূন্য করার ভয়াবহ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন। তার জলন্ত প্রমাণ উপজেলা শিবির সভাপতি সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারীকে হত্যা, ৪ জনকে গুলী করা এবং প্রায় ৭০টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট। তিনি আরও বলেন, মিথ্যা মামলার ঘটনা সাজিয়ে নিরীহ লোকদের প্রাণে মেরে ভয় দেখিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী নেয়ার চেষ্টা করছে। যা একটি ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের নামান্তর। যৌথবাহিনীর নামে প্রতিদিনই বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশীর নামে হয়রানি ও গ্রেফতার বাণিজ্য চলছে। এতে নিরীহ লোকজন চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছে। জনগণ এ জাতীয় তান্ডব থেকে মুক্তি এবং স্বাভাবিক জীবন আশা করে।
এদিকে, গত রাতে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাহিত্য সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম মানিকের গ্রামের বাড়ি চৌদ্দগ্রামের লুদিয়ারা, কুলিয়ারা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন মিন্টু, সনপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম ইউছুফের বাড়িসহ ৯টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট চালায় যৌথবাহিনী ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা। এদিকে এই বর্বর হামলা ও লুটপাটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, কুমিল্লা  দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা  মহানগর জামায়াতের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, সেক্রেটারি মোসলেহ উদ্দিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুল আওয়াল, সেক্রেটারি অধ্যাপক খন্দকার আলী আশরাফ, কুমিল্লা  মহানগর শিবির সভাপতি মোহা. শাহ আলম, সেক্রেটারি মো. কামাল হোসাইন, দক্ষিণ জেলা শিবির সভাপতি আবদুর রব ফারুকী, সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন রুমন, কুমিল্লা  উত্তর জেলা শিবির সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান, সেক্রেটারি মো. নূরুল হুদা এবং চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. সাহাব উদ্দিন ও সেক্রেটারি শাহ মিজানুর রহমান। অনতিবিলম্বে এই বর্বর হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট বন্ধ না করলে জনগণকে সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলে এর প্রতিরোধ করা হবে।

শেয়ার করুন