বোমাবাজ ধরতে সহায়তা পুরস্কার পেলেন রিকশাওয়ালা ও ছাত্রলীগ নেতা

0
85
Print Friendly, PDF & Email

রাজধানীতে নাশকতাকালে হাতেনাতে বোমাবাজ ধরিয়ে দেয়ার পৃথক দু’টি ঘটনায় একজন রিকশাওয়ালাসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ ছাত্রকে পুরস্কৃত করেছে ঢাকা মহানগর মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

পুরস্কৃতরা হলেন- রিকশাওয়ালা মোজাম্মেল, ঢাবির জহুরুল হক হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়, এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং বঙ্গবন্ধু হল সাধারণ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ। এরা সবাই মাস্টার্সে অধ্যায়নরত। এর মধ্যে জয় পড়ছেন আইন বিভাগে, রুহুল আমিন সমাজকল্যাণ বিভাগে এবং ইয়াজ আল রিয়াদ ইসলামী ইতিহাস বিভাগে।

বুধবার সকালে রাজধানীর মিন্টুরোডে ডিএমপির গণমাধ্যম কার্যালয়ে সাহসীকতার জন্য এ ৪ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। এসময় ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া তাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ টাকা তুলে দেন। তবে টাকার পরিমানটি জানানো হয়নি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘টাকার পরিমানটা বড় বিষয় নয়, মূল কথা হচ্ছে তারা যে সাহসীকতা দেখিয়েছে, আমরা চাই দেশের প্রত্যেকটি নাগরিকই এমন সাহসীকতার সঙ্গে এগিয়ে আসুক। তাহলে আর রাজধানীতে নাশকতা বা সহিসংসতার বলি হয়ে কাউকে প্রাণ হারাতে হবে না।’

রিকশাওয়ালা মোজাম্মেল ৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর কাঁটাবনে বাইতুল আমান মসজিদের সামনে ককটেল হামলাকালে এক বোমাবাজকে ধরিয়ে দেন। আর ঢাবির ৩ ছাত্র ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে চানখারপুর এলাকায় এক ককটেল নিক্ষেপকারীকে ধরিয়ে দেয়ায় তাদের এ পুরস্কার দেয়া হয়। এ সময় রিকশাওয়ালা মোজাম্মেলকে আরো এক প্রত্যাক্ষদর্শী ৫০ হাজার টাকা নগদ পুরস্কার প্রদান করেন।

অনুষ্ঠান শেষে চলমান সহিসংসতার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া জানান, ৫ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রাজধানীতে ১১টি যানবাহন সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৬৮ যানবাহনেরর অংশিক ক্ষতি হয়েছে। রাজধানীতে দায়িত্বপালন কালে ৪৪ পুলিশ সদস্য এবং ২ আনসার সদস্য আহত হয়েছেন। কর্তব্য পালনকালে নিহত হয়েছেন দুই পুলিশ সদস্য।

মামলার একটি সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরে কমিশনার জানান, নাশকতার সময় রাজধানীতে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে ১৮৬ জনকে। যাদের মধ্যে ৮৪ জন জামায়াত-শিবিরকর্মী, আর ১০২ জন বিএনপি কর্মী। এছাড়া এ পর্যন্ত রাজধানীতে নাশকতায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ১ হাজার ১০ জনকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিয়েছে ৩০ জনকে, যার মধ্যে সবাই বিএনপি কর্মী।’

পুরস্কার প্রদান প্রসঙ্গে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘গোপনীয়তার স্বার্থে কতটি পুরস্কার দিয়েছি, তা বলবো না। তবে পুরস্কৃতের সংখ্যা ১৫ জনেরও বেশি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কথা দিয়েছিলাম যে, ৭ দিনের মধ্যে রাজধানীর পরিবেশ স্বাভাবিক করে আনবো। নিশ্চয়ই আপনারা দেখেছেন গত দু’দিনে রাজধানীতে কোনো অগ্নিসংযোগ বা নাশকতার ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি খুব দ্রুত রাজধানীর সার্বিক পরিবেশ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক করতে পারবো।’

কমিশনার বলেন, ‘৫ জানুয়ারি থেকে সারাদেশে অবরোধ-হরতালের নামে নাশকতা, সহিংসতা, ককটেল, পেট্রোলবোমা হামলার মাধ্যমে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা চলছে। যা রুখতে ইতিমধ্যেই আমরা নগরবাসীকে আহ্বান জানিয়েছি। কারণ নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া নাশকতাকারীদের ধরা সম্ভব না। আর তাই নগরবাসীর কাছ থেকেও আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।’

পুরস্কার হাতে তুলে নিয়ে রিকশাওয়ালা মোজাম্মেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হেইদিন রাতে মনে অইছিল, জীবনের ঝুঁকি নিয়া বোমাবাজ ধরতে যাওয়াটা মনে হয় ভুলই আছিল। কিন্তু আইজ বুঝলাম, হেইদিন ভুল করি নাই। আর আগামীতেও এমন কোনো নাশকতাকারী দেখলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরাইয়া দিমু।’

একই রকমভাবে ঢাবির ৩ ছাত্র বলেন, ওইদিন সকালে চানখারপুলে চুল কেটে হলের উদ্দেশে ফিরছিলাম। এসময় হঠাৎ দেখি দুই যুব্ক ককটেল নিক্ষেপ করে পালাচ্ছে। তখন আমরা তিনজন তাদের ধাওয়া করে ধরে ফেলি। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

‘প্রাপ্ত পুরস্কার কি করবেন?’ জানতে চাইলে তিনজন একই সুরে বলে ওঠেন, জানি এটা খুব সামান্য, তারপরও প্রাপ্ত এই অর্থ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য দিতে চাই।

উল্লেখ্য, পুরস্কৃত ঢাবির ৩ ছাত্রের মধ্যে রুহুল আমিন সমাজকল্যাণ বিভাগে মাস্টার্স করছেন। তিনি থাকেন এফ রহমান হলে। ইয়াজ আল রিয়াদ ইসলামের ইতিহাস বিভাগে মাস্টার্স করছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া আইন বিভাগে মাস্টার্স করছেন জয়। তিনি জহুরুল হক হলে থাকেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সহকারী কমিশনার মিলি বিশ্বাস, ডিসি (ডিএমপি) কৃষ্ণপদ রায়,  ডিসি (মিডিয়া) মনিরুল ইসলাম, এডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান, শাহবাগ থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ।

শেয়ার করুন