রবি ও মঙ্গলবারের পরীক্ষাও পেছাল

0
69
Print Friendly, PDF & Email

অবরোধের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের হরতালের কারণে রোববার ও মঙ্গলবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়েছে।
 
৮ ফেব্রুয়ারি রোববারের পরীক্ষা আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এবং ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবারের পরীক্ষা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার চট্টগ্রাম ডাক বাংলোয় এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা পেছানোর ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনের জন্য এদিন বন্দর নগরীতে যান তিনি।

এসএসসি পরীক্ষার দিনগুলোতে পরীক্ষার আগের দুই ঘণ্টা, পরীক্ষার সময় ও পরীক্ষার পরের দুই ঘণ্টা সময় পরীক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া ও পরীক্ষা গ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখতে বিএনপি জোটের প্রতি আহ্বান ‍জানান নাহিদ।

৮ ফেব্রুয়ারি রোববার এসএসসিতে ইংরেজি (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল।

মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ৮ ফেব্রুয়ারি আরবি প্রথম পত্র ও ১০ ফেব্রুয়ারি আরবি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা।

এছাড়া কারিগরি বোর্ডের অধীনে ৮ ফেব্রুয়ারি গণিত-২ (১৯২৩) ও গণিত-২ (৮১২৩) এবং ১০ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-২ (১৯২৪) (সৃজনশীল) ও সামাজিক বিজ্ঞান-২ (৮১২৪) (সৃজনশীল/সাধারণ) বিষয়ের পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল।

এই সব কটি পরীক্ষা এখন আগামী শুক্র ও শনিবার যথাক্রমে সকাল ৯টা থেকে ১২টা এবং ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত চলবে।

এনিয়ে এবারের এসএসসি ও সমমানের চার দিনের ২০টি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে গেল।

পরীক্ষা পেছানোর পক্ষে যুক্তি হিসেবে শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি না করার কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

“হরতালের মধ্যে পরীক্ষা গ্রহণে চাপ আছে। অনেকে সহযোগিতা করতে চান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বলেছে তারা প্রস্তুত। কিন্তু শিক্ষার্থীদের এমন হিংস্রতার মধ্যে ঠেলে দিতে পারি না যেখানে জীবনের শঙ্কা আছে।”

এভাবে পিছিয়ে পিছিয়ে কয়টি পরীক্ষা নেওয়া হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এটা যারা কর্মসূচি দিচ্ছে, তাদের জিজ্ঞেস করুন। ওই উত্তর তাদের কাছ থেকে নিয়ে আসুন। তাহলে আমরাও জানতে পারব। আমাদেরও সুবিধা হবে।”

এর আগে হরতালের কারণে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দিন গত ২ ফেব্রুয়ারির এবং দ্বিতীয় দিনের অর্থাৎ ৪ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষাও পিছিয়ে দেওয়া হয়।

অবরোধ থাকলেও শুক্র ও শনিবার এসব পরীক্ষা নির্বিঘ্নে হয়েছে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ের সমাপনী পরীক্ষায় এবার ২৭ হাজার ৮০৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ২৬৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।

বিএনপি-জামায়াত জোটের হরতালে ২০১৩ সালে এসএসসির ৩৭টি বিষয় এবং এইচএসসির ৪১টি বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে যায়।

ওই বছরের জেএসসি-জেডিসির ১৭টি বিষয় এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনীর দুটি বিষয়ের পরীক্ষা হরতালের কারণে পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গত বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত জেএসসি-জেডিসি এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষাও বিএনপির হরতালের কবলে পড়লে বেশ কয়েকটি পরীক্ষাও পিছিয়ে যায়।

এসএসসি পরীক্ষার্থী ও বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম ২০ দলীয় জোটের অবরোধ-হরতালের ‘নিষ্ঠুর’ কার্যক্রমে সৃষ্ট ‘অস্বাভাবিক অবস্থার’ শিকার বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী।

“অস্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে এবার পরীক্ষা হচ্ছে। এর শিকার এখন এসএসসি পরীক্ষার্থী নতুন প্রজন্ম। তারা বিকালেও জানে না সকালে কোন পরীক্ষা হবে ? আদৌ কোনো পরীক্ষা হবে কি না? হলে কোন পরীক্ষা হবে।“

বিএনপি নেত্রীর উদ্দেশে নাহিদ বলেন, “আপনারা যা ইচ্ছা তাই করুন। কিন্তু শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত করবেন না। বলছেন- জাতির অগ্রগতির জন্য আন্দোলন করছেন। অথচ জাতিকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান ও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আজিজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সচিব পীযূষ দত্ত ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাহবুব হাসান।

শেয়ার করুন