পাকিস্তানে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

0
51
Print Friendly, PDF & Email

পাকিস্তানের পেশোয়ারের স্কুলে তালেবানের হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার তিন দিনের মাথায় ড. উসমান ওরফে আকিল এবং আরশাদ মেহমুদ নামে দুই জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে দেশটির সরকার। গতকাল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের ফয়সালাবাদে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর আগে পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল রাহিল শরীফ গত বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেন। উসমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরের সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে সেনা সদরদপ্তরে হামলায় সম্পৃক্ততার দায়ে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়। আর আরশাদের মৃত্যুদণ্ড হয় পাকিস্তানের সাবেক সেনাশাসক পারভেজ মোশাররফকে হত্যাচেষ্টার জন্য। পোশোয়ারে স্কুলশিশুদের ওপর জঙ্গি হত্যাযজ্ঞের পরদিন মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর থেকে গত ছয় বছর ধরে চলে আসা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় পাকিস্তান সরকার। এরপর প্রথম এই দু’জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হল। মঙ্গলবার ওই জঙ্গি হামলায় ১৩২ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৪১ জন নিহত হয়। নিহত শিক্ষার্থীদের বয়স ১০ থেকে ২০ বছরের মধ্যে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়, যাদের অনেকেই সেনা কর্মকর্তাদের সন্তান। ২০০৯ সালের ১০ অক্টোবর বোমা সম্বলিত বেল্ট পরিহিত ১০ জঙ্গি ভারী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেনা সদরদপ্তরে হামলা চালায়, যাতে ১১ সেনা নিহত হন। সে সময় আহত অবস্থায় ড. উসমান ধরা পড়েন। পরের বছর একটি সামরিক আদালত উসমানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ওই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে ইমরান সিদ্দিক নামের আরেক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য পাঁচ জঙ্গির মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং দুজনকে সাত ও আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এদিকে ২০০৩ সালের শেষ দিকে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের গাড়িবহরে আত্মঘাতী হামলা হয়। আল-কায়েদা সংশ্লিষ্টদের ওই হামলায় মোশাররফ বেঁচে গেলেও ১৫ জন নিহত হন। এই হামলায় জড়িত থাকার দায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যাদের একজন আরশাদ মেহমুদ। পাকিস্তানের আইনে সর্বোচ্চ সাজা হিসাবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকলেও ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সময়ে ফাঁসি কার্যকরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে। তার মেয়াদ গতবছর জুলাই মাসে শেষ হয়ে গেলেও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার আহ্বানে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মুসলিম লিগ সরকারও নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। গত ছয় বছরে জঙ্গি কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত আট হাজার আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি বলে পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়।

শেয়ার করুন