দলীয় কর্মকাণ্ডে নেই আ.লীগ, ব্যর্থতায় বিএনপি, সুবিধায় জামায়াত দলীয় কর্মকাণ্ডে নেই আ.লীগ, ব্যর্থতায় বিএনপি, সুবিধায় জামায়াত

0
266
Print Friendly, PDF & Email

নীলফামারীর জেলা রাজনীতিতে দলীয় কর্মকাণ্ডে নেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেই সঙ্গে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টায় ব্যর্থ বিএনপি। তবে এ দু’দলের থেকে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে জামায়াত ইসলামী। জানা যায়, নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক কমকাণ্ড এখন অনেকটাই নিরুত্তাপ। সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী দলটির দলীয় কার্যক্রম না থাকায় নেতাকর্মীরা নানাভাবে নিজেদের কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত। তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীর অভিযোগ, নীলফামারী জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ এসব কমিটির কার্যক্রম চলছে দায়সারাভাবে। সঠিক সময়ে কাউন্সিল না হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। এতে নতুন নেতৃত্বেরও বিকাশ ঘটছে না বলে মনে করছেন অনেকেই। জানা যায়, ২০০৬ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করা হলেও ৬ বছর পর কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়। ৩ বছর মেয়াদী কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও কাউন্সিল না হওয়ায় নেতাকর্মীরা দু’ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এ ধারা দু’টির নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজুল হক। অপরদিকে জেলা যুবলীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে দীর্ঘদিন ধরে। আর সরকারে থাকা দলটির সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত নেতাকর্মীদের মাঝে রয়েছে চরম হতাশা। সুযোগ-সুবিধা সুষম বণ্টনের পরিবর্তে ব্যক্তি কেন্দ্রিক বন্টনকে দায়ী করছে তৃণমূল। এমনি নানা কারণে আওয়ামী লীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে চরম সমন্বয়হীনতা। এ কারণে কিশোরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগে ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন নিয়ে বিক্ষোভ, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর হরতালের মতো কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মমতাজুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী। নেই কোন গ্রুপিং-লবিং। নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিত। সম্প্রতি ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অন্যান্য ইউনিটগুলোতে কাউন্সিলের প্রক্রিয়া চলছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব ইউনিটের কাউন্সিল শেষ করা হবে। অপরদিকে গত ২৩ অক্টোবর নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জনসভার মধ্য দিয়ে বিএনপি রাজনৈতিক অঙ্গনকে কিছুটা গতিশীল করার চেষ্টা করলেও তাতে বিশেষ কোনো সুফল আসেনি। অভ্যন্তরীণ কোন্দলে গোটা জেলায় অনেকটাই চুপসে গেছে বিএনপি। জেলা, উপজেলা ও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের এক কাতারে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলা নেতাদের। নেতৃত্বের বিরোধ নিয়ে সাংগঠনিকভাবে দাঁড়াতে পারছে না বিএনপি। মেয়াদ উর্ত্তীণ কমিটি দিয়ে চলছে ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দল ও শ্রমিকদল। ইতিমধ্যে কাউন্সিলের নামে পকেট কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক দেউলিয়াপনার প্রকাশ করায় সরকারি দলের মাঝে তারা তাদের শেষ প্রভাবটুকু নিশ্চিহ্ন করে দেয়। এ কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্রমেই বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে অনেকটাই সরে যাচ্ছেন। জলঢাকা উপজেলায় নেতৃত্ব নিয়ে বিরোধের কারণে সংবাদ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বিএনপির পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন সময় সভা-সমাবেশের মাধ্যমে নীলফামারী বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছুটা উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মামলা গ্রেফতারের ভয়ে বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে দ্বিধা, দ্বন্দ্ব আর সংশয় রয়েছে। সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের চরম ভরাডুবি তাদের জনবিচ্ছিন্নতাই নয় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে চলমান নেতৃত্বকে। সর্বশেষ ডোমার উপজেলার সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিএনপি প্রার্থীর পরাজয় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে তাদের সাংগঠনিক অব্যবস্থাকে। দীর্ঘদিন পর গত ৩০ নভেম্বর জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলে সভাপতি পদে এডভোকেট আনিসুল আরেফিন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক পদে শামসুজ্জামান জামানের নাম ঘোষণা করা হয়। ১৫১ সদস্যের কমিটির অন্যান্যদের নাম এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ২০ দলীয় জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সরকার পতনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের জন্য যখনই ডাক দিবেন নীলফামারী জেলা বিএনপি এই আন্দোলনে তখনই ঝাঁপিয়ে পড়বে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হলেও বাস্তবতা ভিন্ন। সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে বরাবরের মত জামায়াত চালিকা শক্তির ভূমিকায় রয়েছে। আর তারা পিছনের সারিতে থাকার কারণে এ নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এবারের বিভিন্ন কর্মসূচিতে জামায়াতের নীরবতার কারণে সে আন্দোলন আর দেখেনি জেলাবাসী। এ নিয়ে বিএনপির নেতাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। তারা বাস্তবতার আলোকে নয় নিজেদেরর গলাবাজিতে নিমগ্ন রয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান বলেন, গত ২৩ অক্টোবর নীলফামারী হাইস্কুল মাঠে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সফল জনসভার পর বিএনপিতে আর কোনো দলাদলি, কোন্দল বা উপ-কোন্দল নেই। নেত্রীর আন্দোলনে ডাকের অপেক্ষায় জেলার শতভাগ নেতা-কর্মী প্রস্তুত রয়েছে। আন্দোলন সফল করতে যে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি আসুক না কেন তা প্রতিহত করা হবে। নীলফামারীতে বিএনপির সব ইউনিটের কাউন্সিল হয়ে গেছে। বিএনপি আজ ঐক্যবদ্ধ। নেত্রীর ডাক পেলেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। তিনি আরো বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকেই জামিনে রয়েছেন। অনেকেই গ্রেফতার ও পুলিশি হয়রানি থেকে বাঁচতে আত্মগোপনে গেছেন। তবে তাদের কারণে আন্দোলনের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে সার্বিকভাবে জেলার রাজনীতিতে সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আওয়ামী লীগের শাসনামলে সরকারের বিরূপ আচরণের শিকার দলটি দিন দিন তৃণমূল পর্যায়ে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকারের মামলা-হামলা মোকাবেলা করে দিন দিন জনগণের মনে স্থায়ীভাবে ঠাঁই নিয়েছে দলটি। উপজেলা নির্বাচনে জেলার ৬টি উপজেলার ৪টিতে প্রার্থী দিয়ে ১টিতে বিজয় অপর ৩টিতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে অবস্থান করে নেয়। দলীয় শৃঙ্খলা, দলের প্রতি আনুগত্য, নেতা-কর্মীদের অপরিসীম ত্যাগ আর সরকারের অব্যাহত জুলুম-নির্যাতন দলটিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছে বলে সাধারণ মানুষদের অভিমত। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক খায়রুল আনাম জানান, জামায়াত অনেক চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে আজ নীলফামারীতে গণ মানুষের দলে পরিণত হয়েছে। আর সে কাজে সরকারি মামলা-হামলা অনেকটাই সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি দাবি করে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে জামায়াত তার এ দাবির প্রমাণ রেখেছে। দলীয় কোন্দলমুক্ত ও আদর্শিক নেতাকর্মীর কারণে দিনদিন জামায়াতের জনসমর্থন বাড়ছে। সরকারের সকল রক্তচক্ষুর মোকাবেলা করে জামায়াত শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে বলে তিনি আশা করেন। জাতীয় পার্টি : ‘বাহের দল’ জাতীয় পার্টির অবস্থা খুবই নাজুক। ‘এরশাদ হামার ছাওয়াল’ এ ঘোষণায় দলটির সাংগঠনিক অবস্থা নেই বললে চলে। সর্বশেষ দলীয় কাউন্সিল করতে গিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতা খুঁজে পাওয়া দুরূহ কাজ হয়ে পড়েছে তাদের পক্ষে। একটি পদের বিপরীতে একাধিক প্রার্থী নয় অনেক স্থানে একজনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

শেয়ার করুন