সিলেটে পরিবহন শ্রমিদের সংঘর্ষ : হৃদরোগে ওসির মৃত্যু

0
79
Print Friendly, PDF & Email

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে সিএনজি স্ট্যান্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সিএনজি অটোরিক্্রা চালক দু’গ্রুপের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওসমানীনগর থানার ওসি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মারা গেছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রুবেল আহমদসহ কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ৩ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিলো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে থানা পুলিশ ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। খবর পেয়ে সিলেট জেলা পুলিশ সুপার নূরে আলম মিনাসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এ ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শুরু হয়েছে গ্রেফতার অভিযান। ওসমানীনগর (সিলেট) সংবাদদাতা মোঃ মুহিব হাসান জানান, বুধবার সকাল ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ওসমানী নগর থানার গোয়ালাবাজারে অটোরিক্সা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দু’দল অটোরিক্সা চালকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। এ সময় দু’পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ইটের আঘাতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের ওসি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান গুরুতর আহত হন বলে জানান ওই থানার এসআই রাকিবুল হাসান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎকরা বিকেল পৌণে ৪টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে, সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নয়মুল হাসান হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওসি মোস্তাফিজের মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংবাদ মাধ্যমকে। তিনি জানান, নতুন স্ট্যান্ডের দাবিতে বুধবার সকাল ১০টার দিকে দণি গোয়ালাবাজারের অটোরিক্সা চালকরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এনিয়ে গোয়ালাবাজার শাখার চালকদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে ওসমানীনগর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ গিয়ে উভয় পকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দণি গোয়ালাবাজারের অটোরিকশা চালকরা আবারও মহাসড়ক অবরোধ করলে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান পুলিশ নিয়ে সেখানে যান। তখন পুলিশের সাথে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। একপর্যায়ে ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল পৌণে ৪টার দিকে তিনি মারা যান। মোস্তাফিজুর রহমানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। তার স্ত্রী ও ২ কন্যা সন্তান রয়েছে। এ দিকে, ওসি নিহত হওয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গোয়ালাবাজারে পুলিশী অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দু’জনকে আটক করেছে পুলিশ।

শেয়ার করুন