কী ঘটবে জানুয়ারিতে

0
32
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগ বিতর্কিত নির্বাচনের যে নতুন ইতিহাস জন্ম দিয়েছিলো আগামী ৫ জানুয়ারি তার জন্মদিন বা বর্ষপূর্তি। চলতি বছরের শুরুতে ঘটে যাওয়া নির্বাচন নামের এ প্রহসনে এমন কিছু নজির বা রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে যা বাংলাদেশে তো নয়ই পৃথিবীর অন্য কোথাও সংসদীয় গণতন্ত্রের নামে এমন প্রহসনের নজির আছে কিনা জানা নেই। বিশেষ করে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার ঘটনা। বিরোধীদল ওই নির্বাচন ঠেকানো ও সরকার পতনের আন্দোলন করেছিলো। কিন্তু, নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে সক্ষম হলেও বিরোধীদল সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি। অবশেষে নির্বাচনের পর পরই তারা দ্রুত ব্যাকফুটে চলে যায়। গত এক বছরে মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন দু’একটি কর্মসূচির উদ্যোগ নিলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঢাকায় তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে সরকারি বাধার কারণে। বিরোধীদলও এ নিয়ে আর বাড়াবাড়িতে যায়নি। বরং বরাবর সতর্ক থেকেছে সরকারের সঙ্গে যাতে কোনোরকমের বিরোধ না বাধে। যতোটা জানা যায়, এসব কর্মসূচি ছিলো মূলত ‘ওয়ার্ম আপ’। বৃহত্তর কর্মসূচির জন্য নিজেদেরকে প্রস্তুত করা, সংগঠিত করাটাই ছিলো আসল উদ্দেশ্য। অবশেষে ভেতরে ভেতরে সেই লক্ষ্য অনেকটাই অর্জিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নতুন নির্বাচনের দাবিকে যুক্তিসংগত করার জন্য সরকারকে সময় দেওয়া এবং দল গুছানো দু’টোই একসঙ্গে সেরেছেন বেগম খালেদা জিয়া। দলে এবং দলের বাইরে অনেকে নানা কথা বললেও বেগম খালেদা জিয়াকে বিগত মাসগুলোতে বেশ আত্মবিশ্বাসী এবং আস্থাশীল মনে হয়েছে। জানা গেছে, প্রস্তুতি এখন প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। স্বল্প সময়ে যাতে সরকার পতনের চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা যায় সেটি মাথায় রেখেই এগুচ্ছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাস পুরোটাই ‘ওয়ার্ম আপ’ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেষ হবে। চূড়ান্ত লক্ষ্য জানুয়ারি। এদিকে জানা গেছে, সরকারও বিষয়টি মাথায় রেখেছে। তাই আগে থেকেই তারা বিভিন্ন ট্রাম্পকার্ড তৈরি করে রেখেছে। এরমধ্যে লতিফ সিদ্দিকী ইস্যু, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা, বিএনপিকে বাইরে রেখে আরেকটি নির্বাচনের পরিকল্পনা অন্যতম। কিন্তু, এসব ট্রাম্পকার্ডে সরকার কতটা সফল হবে তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ হলো, গত ৫ জানুয়ারি আর এখনকার পরিস্থিতি এক নয়। ভেতরে বাইরে সরকার এখন নানামুখী সংকটের মুখোমুখি, যা ওই সময় ছিলো না। ঘরের শত্রু… মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ের নিয়ে প্রকাশিত প্রথমে একে খন্দকারের বই, তারপর তাজউদ্দিন আহমেদের মেয়ের বই, এই দু’টো বই আওয়ামী লীগের সবচে’ গর্বের বিষয়টিতে আঘাত হানে। এরপর আসে লতিফ সিদ্দিকী ইস্যু। কেন, কার প্ররোচনায় লতিফ সিদ্দিকী এটা করলেন সেই প্রশ্নের সুরাহা না হতেই তাকে ঢাকায় এনে কিছু নাটক মঞ্চস্থের মাধ্যমে পুরো দায় সরকার নিজের কাঁধে নিলো। তারমধ্যেই আবার ফাটলো ৫ জানুয়ারি নিয়ে এইচটি ইমামের বোমা। এইচটি ইমাম বোমার পর সরকার এতোটাই বেকায়দায় পড়লো যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মিটিং করে মন্ত্রীদের সতর্ক করতে হলো। সেই সংকট কাটিয়ে উঠার জন্য লতিফ সিদ্দিকীকেও ঢাকায় আনতে হলো। এদিকে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিবাদ এতোটাই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে যে, একের পর এক মারা যাচ্ছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা। সরকারের ভিত-এ সংকট আওয়ামী লীগকে যারা এ পর্যন্ত ক্ষমতায় টিকিয়ে রেখেছিলো সেই সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোর মধ্যেই এখন অভ্যন্তরীণ সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এসব সংস্থা কোনো কোনোটি খোদ সরকারের জন্যই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসন, র‌্যাব, বিচার প্রশাসনের শীর্ষ পদ প্রভৃতি। একটি জনসমর্থনহীন সরকার যখন কিছু ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে টিকে থাকে বা থাকতে চায় তখন পুরো সরকার ব্যবস্থাই পুতুলে পরিণত হয়। বর্তমান সরকারের অবস্থাও তাই হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল। যারা এতোদিন এ সরকারকে টিকিয়ে রেখেছেন এরা প্রত্যেকেই এখন প্রতিদান চান। কিন্তু, তারা যা পেতে চান সেটা তো আর একটা আপেল নয় যে, কেটে ভাগাভাগি করে সবাইকে সন্তুষ্ট করা যাবে। যেমন- পুলিশ বিভাগের প্রধান অর্থাৎ আইজিপি পদ, বিচার প্রশাসনের শীর্ষ- প্রধান বিচারপতি পদ। অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে, সরকারের এ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি হচ্ছে প্রায় একই সময়ে। আর এ কারণেই প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোতে কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। সিভিল প্রশাসনের সমস্যাটা যদিও এমন নয়, তারপরও এটাকে একেবারে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, দীর্ঘকাল ধরে ওএসডি এবং পদোন্নতি বঞ্চিত থাকা প্রশাসনের শ’ শ’ কর্মকর্তা শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ওঁত পেতে আছেন। বিস্ফোরণ যে কোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, নতুন আরেক দফা পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এসএসবি বৈঠক ডাকা হবে। যদিও বলা হচ্ছে, ইতিপূর্বে যারা পদোন্নতি বঞ্চিত হয়েছেন তাদের এবার পদোন্নতির বিবেচনায় আনা হবে। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রশাসনে যতবার বড় ধরনের কোনো পদোন্নতি হয়েছে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তার কাতার ভারীই হয়েছে। এখন পদোন্নতির যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তাতেও দেখা যাচ্ছে, অনেক সিনিয়র কর্মকর্তা পদোন্নতি বঞ্চিত হবেন। সিনিয়রদের ডিঙিয়ে জুনিয়ররা পদোন্নতি নেওয়ার জন্যই মূলত ধারণাগত জ্যেষ্ঠতার ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে। এই অনাচারমূলক কর্মকাণ্ডের জের হিসেবে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করতে পারে। সেই ক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে যে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার মাধ্যমে। লতিফ সিদ্দিকী ইস্যু যতোটা জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত এ মুহূর্তে লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুকে সামনে আনতে চাচ্ছে না। তারা মনে করছে, লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের গোপন হীন উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সূতরাং এ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের পতন ছাড়া অন্য কোনো ইস্যু সামনে আসতে পারে না। নির্বাচন হোক আর আন্দোলনই হোক আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়ে তারপর লতিফ সিদ্দিকী ইস্যুর সুরাহা করতে হবে। এর আগে নয়। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, লতিফকে দেশে এনে আপাতত খাঁচায় রেখেছে সরকার প্রয়োজনের সময় তাকে ব্যবহারের জন্যই। বিরোধীদলের আন্দোলনকে ভিন্ন দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য সময় বুঝে সরকার এই ইস্যুটিকে উস্কে দেবে। এই উদ্দেশ্য আদৌ বাস্তবায়িত হবে কিনা, নাকি উল্টোটা ঘটবে-এ আশংকাও অবশ্য রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ইস্যু শেষ পর্যন্ত সরকারের জন্য বুমেরাং হয়ে দেখা দিতে পারে। কারণ, লতিফ সিদ্দিকী ধর্মীয় অনুভূতিতে যেভাবে আঘাত হেনেছে তাতে অধিকাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থক ক্ষুব্ধ। অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী আছেন যারা নিয়মিত নামাজ পড়েন, তবলিগ করেন, হজে যান। লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে এরকমের ভানুমতির খেল আওয়ামী লীগ সমর্থকরাও কিন্তু সমর্থন করছেন না। হয়তো এমনও দেখা যেতে পারে, লতিফ ইস্যু বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের পরিকল্পিত জনবিস্ফোরণ কর্মসূচিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে বরং সহায়ক ভূমিকাও পালন করতে পারে। যে কারণে সফর বাতিল হয়েছিলো অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বার্ষিক বক্তৃতায় আমন্ত্রিত অতিথিদের সাথে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একজন আমন্ত্রিত বক্তা ছিলেন। সব কিছুই চূড়ান্ত ছিলো। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকেও অক্সফোর্ড ইউনিয়নকে জানানো হয়েছিলো, প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা দিবেন। সেভাবেই সব কিছু সাজানো হচ্ছিলো। কিন্তু কেন যেন অক্সফোর্ড ইউনিয়ন এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতর এই সফর নিয়ে বেশ গোপনীয়তা রক্ষা করে চলছিলো। জানা গেছে, অক্সফোর্ড ইউনিয়ন থেকে এ বছর সুনির্দিষ্টভাবে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে জানানো হয়েছিলো, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পূর্ববর্তী অবস্থা থেকে পরবর্তী সকল প্রেক্ষাপট সবিস্তারে শেখ হাসিনা যাতে তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য ছিলো, সারা বিশ্বের নেতৃবৃন্দের কাছে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন এবং বিতর্ক রয়েছে। সেজন্য এই আন্তর্জাতিক বক্তৃতার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট প্রসঙ্গের বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর সম্মেলনে তুলে ধরবেন বলে আগে ভাগেই নির্ধারিত হয়েছিলো। কিন্তু অক্সফোর্ডে শেখ হাসিনার বক্তৃতার আগেই প্রধানমন্ত্রীর সব চাইতে প্রভাবশালী উপদেষ্টা এবং সাবেক দক্ষ আমলা এইচটি ইমাম ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে যে খোলামেলা বক্তব্য দেন, তা বিশ্ব গণমাধ্যম তৎক্ষণাৎ লুফে নেয়। কূটনৈতিক চ্যানেলে এইচটি ইমামের বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ চলে যায় ব্রিটেনসহ প্রভাবশালী সকল ডিপ্লোম্যাটদের কাছে। অক্সফোর্ড ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ ইমামের এই বক্তব্য শ্রবণ করে নড়ে চড়ে বসেন। ইউনিয়ন রিসার্চ টিম মনে করে, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে যে বিষয়ের সুস্পষ্ট বক্তব্য তারা জানতে চেয়েছিলেন, এইচটি ইমাম সেই বক্তব্য পরিষ্কারভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন। ইউনিয়ন তাদের সকল প্রশ্নের জবাব পেয়ে গেছে- এমন অবস্থায় কর্তৃপক্ষ জরুরি মিটিংয়ে বসেন, এর পর আদৌ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ আছে কিনা? বিদ্যমান প্রটোকল ব্যবস্থায় ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করেন ব্রিটিশ ফরেন অফিসের সাথে। ফরেন অফিসের দক্ষ আমলাদের মধ্যস্থতায় বাংলাদেশ হাই কমিশনসহ ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেয়া হয়, অক্সফোর্ড ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বক্তৃতার বিষয় বাতিল করা হয়েছে। সেগুনবাগিচাস্থ ফরেন অফিস নড়েচড়ে বসে। দৌড়ঝাপ চলে ব্রিটিশ হাই কমিশন দূতাবাসে। ইতোমধ্যে এইচটি ইমামকে জানিয়ে দেয়া হয়, প্রেস কনফারেন্স করে ব্যাখ্যা দিতে, যাতে লবিং অব্যাহত রাখা যায়। কিন্তু অক্সফোর্ড ইউনিয়ন তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। রিসার্চ পলিসি মেকিং মিটিংয়ে যে সিদ্ধান্ত পাস হয়েছে, তা আর পূনর্বহালের সুযোগ নেই। কূটনৈতিক চ্যানেলে জানিয়ে দেয়া হয়, এ বছর আর কিছু করার নেই। আগামী সেশনে বিবেচনা করা হবে। যে কারণে অক্সফোর্ডে বক্তৃতা দেয়া বাতিল হয়ে যায়, সেই একই নেপথ্যের কারণ রোম সম্মেলনেও উত্থাপিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর চূড়ান্তকারী টিম তাই বাধ্য হয়ে রোম সম্মেলনও বাতিলের পরামর্শ দেন। কেননা, রোম সম্মেলন আয়োজক দেশের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে নেগেটিভ সিগন্যাল চলে আসে ব্রাসেলস দূতাবাসে। ফলে তড়িঘড়ি করে বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে আগ বাড়িয়ে অক্সফোর্ড সফর বাতিলের সাথে রোম সম্মেলন বাতিলের চিঠি প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে ইস্যু করা হয়। ইমাম ঝড়ে বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশে এতো বড় বড় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরার সুযোগ বাতিল হয়ে গিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। কারণ পরিস্থিতি এখানেই থামেনি। বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে চলে ব্যাপক খেলা। সরকার নতুন সংকটে পড়ে যায়। কারণ, ৫ তারিখের নির্বাচন নিয়ে এতো কষ্টে ও জাতিসংঘ স্থায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে দেন-দরবার করে যে কিছুটা পজেটিভ আবহ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছিলো, ঝানু আমলা ইমামের এক ফুৎকারে সব অর্জন ধুলিস্মাৎ হয়ে যায়। নতুন করে বিশ্ব অঙ্গনে বাংলাদেশের নির্বাচন আলোচনার টেবিলে চলে আসে। এরই মধ্যে নির্ধারিত রাজনীতির খেলার ছকে ভারতীয় গোয়েন্দাদের ঢাকা সফর সফলভাবে সমাপ্তি হলেও ভারতীয় শুভাকাঙ্খীরা বুঝে যায়, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তাকে আর কোনভাবে টিকিয়ে রাখা যাবে না। কী ঘটবে? আপিল বিভাগ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলা নিষ্পত্তি করেছেন ইতিমধ্যে। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ। জামায়াত-শিবির এতে অত্যন্ত খুশি। কারণ তারা মনে করেন, সাঈদীই তাদের দলের মূল সম্পদ। তাকে যে কোনো মূল্যে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। কিন্তু জানা গেছে, সরকার সাঈদীর মামলা পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। জামায়াতকে নিয়ন্ত্রণের জন্যই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাঈদীর ফাঁসি দাবি করে আপিল বিভাগে রিভিউ’র জন্য আবেদন করা হবে। তবে, সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সরকারের এই পরিকল্পনাও ভেস্তে যেতে পারে। সাঈদীর মামলা পুনরুজ্জীবিত করা হলে জামায়াত নেতা-কর্মীরা আরো মরীয়া হয়ে মাঠে নামবে সরকারের বিরুদ্ধে। সেক্ষেত্রে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের শত উস্কানি আর নেতা-কর্মীদের অসহিঞ্চুতা সত্ত্বেও সরকারের সঙ্গে সংঘাত হতে পারে গত এগারো মাসে এমন কোনো পদক্ষেপ নেননি বেগম খালেদা জিয়া। যদিও তিনি গত রমজান মাসে বেশ তোড়জোড় করছিলেন আন্দোলনে নামার জন্য সেটাও প্রায় ৬ মাস পেছালেন। বিএনপি এ মুহূর্তে গ্রহণযোগ্য একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন চায়। সে জন্যই অপেক্ষা করছিলো এতোদিন। নির্বাচন না হলে গণঅভ্যূত্থান ঘটানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তারা মনে করেন, এখন আর আন্দোলন, জ্বালাও-পোড়াওয়ের দরকার নেই। নির্বাচন না দিলে গণঅভ্যূত্থানের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটানো হবে এবং তাতে তারা সক্ষম হবে, এমন দৃঢ় আত্মবিশ্বাস তাদের এ মুহূর্তে তৈরি হয়েছে।

শেয়ার করুন