আত্মবিশ্বাস ফিরছে বিএনপিতেঃ অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সন্দেহ বাড়ছে আওয়ামী শিবিরে

0
58
Print Friendly, PDF & Email

অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে একের পর এক ব্যর্থ বিএনপি’র ভেতরে হতাশা কমে আসছে। সাংগঠনিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় ধীরে ধীরে সংগঠিত হচ্ছে তারা। ফিরে পাচ্ছে আত্মবিশ্বাস। পাশাপাশি রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে রেখেও আওয়ামী শিবিরে ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে অবিশ্বাস ও সন্দেহ। ১৯৭৫ এর নির্মম বিদায়কে স্মরণ করেই নিজেদের মধ্যে এ সন্দেহ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আওয়ামী সুত্রে জানা গেছে। এছাড়া মিসেস হাসিনা মিয়ার এগুয়েমি ও অগণতান্ত্রিক হিংসুটে আচরনে গনতন্ত্রমনা আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীদের ভেতরে বাড়ছে আশঙ্কা ও হতাশা। সেই সাথে সশস্ত্র বাহিনীগুলোতে একধরনের চাপা অবস্থান বিরাজ করা শুরু হওয়ায় সেই শঙ্কা আরও বেগবান হতে শুরু করেছে। বিএনপি আন্দোলনে সফলতা না পাওয়ায় আওয়ামী শিবিরে একধরনের আত্মতুষ্টি বিরাজ করছিল। এক একজন ফুল, পাতি বা সিকি মন্ত্রী বিভিন্ন ভাবে খিস্তি খেউর শুরু করে অবৈধ সরকার বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে। এমনিতেই মুসলিম সংস্কৃতির ধারক বাহক আলেম উলেমাদের বিরুদ্ধে করা অব্যাহত কটাক্ষ আল্লাহ ও রাসুল (সঃ) পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও অবৈধ সরকার ও এর প্রধান মিসেস হাসিনা মিয়া মূলত তা উপেক্ষা করে মরহুম শেখ মুজিব ও নিজেকে আল্লাহ ও রাসুলের মর্যাদার উপরে সাংবিধানিক ও আইনি মর্যাদা দিয়েই শুধু ক্ষান্ত হয়নি, তাদের কটাক্ষকারীদের ক্রমাগত গ্রেফতার ও নির্যাতন করে সেটির বাস্তবায়নও করে গণঅসন্তোষ বাড়াতে থাকে। কিন্তু তাদের পেছনে ‘র’ ও মোশাদের সমর্থন রয়েছে মনে করে তারা কোন কিছুকেই এখনো পাত্তা দিতে রাজী নয়। কিন্তু হঠাৎ করেই অজ্ঞাত কারনে আওয়ামী শিবিরে মড়ক লাগা শুরু হয়। একের পর এক নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে নানান কথা মিডিয়ায় বলে নিজেরাই নিজেদের চলার পথকে অমসৃণ করে দেয়। ফুটে উঠতে থাকে অবৈধ সরকার শিবিরের অনৈক্য। এমনিতেই হাসিনার আগের মেয়াদের সরকারের হাইব্রিড পুরো এবং পাতি ও সিকি মন্ত্রী যারা মাটিতে পা ফেলা বন্ধ করে দিয়েছিল, তাদের কারনে হাসিনার স্বর্গচ্যুতি নিশ্চিত হওয়ার শেষ মুহূর্তে অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ানদের সরকারে ফিরিয়ে এনে সে যাত্রা রক্ষা পান। কিন্তু বর্ষীয়ানদের দাপটে ছেঁটে ফেলা হয় হাইব্রিডদের। এরপরেই শুরু হয় হাইব্রিডদের খিস্তি খেউর। সাথে হাসিনার খিস্তিতো রয়েছেই। এযাত্রায় অভিজ্ঞদের পরামর্শ ডিঙ্গিয়ে হাইব্রিডদের পরিবর্তে কিছু কার্টুন চরিত্র মন্ত্রিসভায় যোগ করেন হাসিনা মিয়া। লক্ষ্য জনগণকে বিভিন্ন সময়ে উদ্ভট কথামালায় আটকে দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা। সাথে দালাল মিডিয়াগুলোকে এই কাজে যোগ করা হয়। তারা সফলতার সাথে হাসিনাকে সার্ভিস দিতে থাকে। কিন্তু কার্টুন চরিত্রের সেই সৈয়দ মহসিন, মুজিবুল হক এবং পুরনো আবুল মালের কথামালাও এক সময় স্টকে ঘাটতি পড়ে। শুরু হয় খিস্তি খেউর। তবে ৩০ হাজার গোপালগঞ্জিকে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীতে চাকুরী দিয়ে হাসিনা একটি সুবিধাজনক অবস্থানে চলে যায়। আরও ৫০ হাজার দলীয় ক্যাডার বিভিন্ন বাহিনীতে নিয়োগের প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছে। বিচার বিভাগ আর আমলাদের মধ্যে অজানা ব্যক্তিদেরও হাজির করে নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। মিসেস হাসিনা কংগ্রেসের আস্থাভাজন হিসেবে ‘র’ এর সহায়তা পেতেন। কিন্তু ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য অফিসিয়ালি ‘র’ এর যে সকল দালাল আওয়ামী শিবিরে ও তাদের মিত্র শিবিরে কাজ করতো তাদের সাথে ভেতরে ভেতরে ভিন্ন খেলা শুরু হয়। ভারতের সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ‘র’এ যে আভ্যন্তরীণ পরিবর্তন হয় সেই পরিবরতনে শক্তিশালী হয়ে যায় অফিসিয়াল নিয়োগকারীরা। তারা হাসিনার পাশের পুরনো অভিজ্ঞদের দ্বারা অবহেলা প্রাপ্তির কিছুটা হলেও প্রতিশোধ নেয়ার প্রক্রিয়ায় খেলা শুরু করে। এই গ্রুপটিকে গোপন সমর্থন দেয় ছিটকে পড়া হাইব্রিডেরা। উল্লেখ্য ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পরেও এমন একটি পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে গিয়ে হাসিনা একটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানকে আদেশ দিয়েছিলেন ‘র’ এর অফিসিয়াল দালাল মহিউদ্দিন খান আলমগিরকে হত্যা করতে। এদিকে মার্কিনীরা মাঠে নেমে পড়ায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে অবৈধ সরকার শিবিরে। কিন্তু অভিজ্ঞ ও বর্ষীয়ানরা নীরব থাকলেও উত্তেজিত হয়ে পড়ে পাশ্চাত্যে বেড়ে ওঠা নেতা মন্ত্রীরা। যদিও সন্দেহ করা হচ্ছে সৈয়দ আশরাফ সহ অন্যরা অশ্লীল ও কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কথা বার্তা বলে মূলত হাসিনাকেই ইচ্ছেকৃতভাবে বিপদের দিকে ঠেলে দেয়। তবে এরই ফাঁকে মার্কিনীদের সাথে রাষ্ট্রের কিছু কিছু অঙ্গ এবং আওয়ামী শিবিরে যোগাযোগও স্থাপিত হয়। যে কারনে হাসিনা এখন আর সঠিক ও যথাসময়ে গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এদিকে বিএনপি শিবিরে যারা এতদিন কৌশলগত বাহানার আবরনে আন্দোলনকে ধংস করে দিয়েছিল। তাদের সাথে বিভিন্ন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে তাদের বোধোদয় হতে থাকে যে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পথ প্রশস্থ হচ্ছে। তাই যেই ভাবা সেই কাজ। শুরু হয়ে গেছে ভাষার পরিবর্তন। আচরনের পরিবর্তন। তারাও মোটামুটি খবর পেয়ে যায় সরকারের প্রতি সশস্ত্র বাহিনীগুলোর একপ্রকার নির্লিপ্ত মনোভাব। যে কারনে এখন বাঁধা কমে যেতে শুরু করেছে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে। কমিটি গঠনেও বাঁধা অনেকাংশে দূরীভূত এখন। শোনা যাচ্ছে যে কোনদিন বিএনপি নেতা তারেক রহমানও তার নির্বাসন জীবনের যবনিকা টানতে পারেন। তবে এর পরেও আশংকার ঘোড়া ছুটেই চলছে। প্রশ্ন রয়েছে মিসেস হাসিনা কি সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচনের আয়োজন করবে? আর বিএনপি কি বর্তমান সংবিধানের আওতায় নির্বাচনে গিয়ে জয়লাভ করতে পারবে? নাকি রাজনৈতিক এই পরিস্থিতি অন্য কোন সহিংস মোড় নেবে? যেহেতু বিএনপি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে, জামায়াত অপেক্ষা করছে হাসিনার নতজানু ভুমিকার। সেক্ষেত্রে হাসিনা নির্বাচন দিয়ে নিজের দলের লোকদের নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেবেন কিনা। কারন যত আন্দোলনকারীদের ও সাধারন নাগরিকদের এই সরকার হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে হাসিনার পতনের সাথে সাথে তারই প্রতিশোধের পালা শুরু হবে যা ঠেকানোর ক্ষমতা কোন রাজনৈতিক শক্তির থাকবে না। সেক্ষেত্রে কি হবে? এটিই এখন মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন; এখানে ঠেকে আছে বাঘের পিঠে সওয়ার হওয়া মিসেস হাসিনা মিয়ার ভবিষ্যৎ। তবে তার দলের ও সরকারের ভেতরেই অবস্থান করছে হাসিনাকে চরম ঘৃণা করার কয়েকটি গোষ্ঠী ঠিক ৭৫ এর মত। সেই অজানা আশঙ্কা হাসিনাকেও কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

শেয়ার করুন