ডিসিসি নির্বাচন রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে বন্দি

0
40
Print Friendly, PDF & Email

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের বিশিষ্টজনরা বলেছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) নির্বাচন সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে পণবন্দি হয়ে গেছে। ক্ষমতাসীনরা হারতে চায় না বলেই নির্বাচন দিচ্ছে না। ডিসিসি নির্বাচন না দেয়ার কারণে দেশে নৈরাজ্য বিরাজ করছে মন্তব্য করে তারা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় জাতি আশা দেখছে। কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেন এ নির্বাচন বন্ধ করা না হয়। আজ জাতীয় প্রেস কাব ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন চাই’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তারা এসব কথা বলেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও ড. বদিউল আলম মজুমদারের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য রাখেন, সুজনের নির্বাহী সদস্য বিচারপতি কাজী এবাদুল হক ও আলী ইমাম মজুমদার, ঢাকা বিশাববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আকরাম, সাবেক সংসদ সদস্য হুমায়ূন কবীর হিরু, সুজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার ফরিদউদ্দিন, অধ্যাপক স ম সিদ্দিকী, কাত্তিক চন্দ্র মণ্ডল, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, রেজাউল আলম প্রমুখ। এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সরকারের অঙ্গীকার ছিল একদিনও অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা থাকবে না। অথচ সিটি নির্বাচনসহ জেলা পরিষদ নির্বাচন এখনো দেয়নি। তিনি বলেন, যদি জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনে নির্বাচন হতে পারে। তাহলে ঢাকা সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন কেন হবে না। আসলে সরকার না চাইলে কখনো নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। হাফিজ উদ্দিন বলেন, সিটি নির্বাচন না দেয়ার কারণে দেশে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় জাতি আশা দেখছে। কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেন এ নির্বাচন বন্ধ করা না হয়। ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, বর্তমানে সুস্পষ্ঠভাবে বোঝা যাচ্ছে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন রাজনৈতিক স্বার্থের কাছে পণবন্দি হয়ে পড়েছে। তারা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই নির্বাচন দিচ্ছে। এতে অন্য কারো মতামতের কোন সুযোগ রাখছে না। বদিউল আলম বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে অনির্বাচিত শাসকের দ্বারা শাসন পরিচালিত হওয়ার কারনে সংবিধান লঙ্ঘন হচ্ছে। সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে স্থানীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ থাকলেও স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত কোনো সরকার জেলা পরিষদ নির্বাচন দেয়নি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কী উদ্দেশ্যে, কার স্বার্থে পরিচালিত হচ্ছে তা বুঝা যাচ্ছে না। আসলে নাগরিকের স্বার্থে নাকি অন্য কোন ব্যক্তির স্বার্থে সেটা স্পষ্ঠ নয়। বিচারপতি কাজী এবাদুল হক বলেন, দেশের স্বার্থে প্রত্যেকটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় যাতে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা সরকারকে করতে হবে। শুধু তাই নয় সকল স্তরে বন্ধ করতে হবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। আলী ইমাম মজুমদার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে পারে না, তারপরও আমরা নির্বাচন চাই ও গণতন্ত্র চাই। নির্বাচিত জেলা পরিষদ সবাই চায়, আমরাও চাই। আমরা নির্বাচন চাচ্ছি কিন্তু এসকল পরিষদের কাজ কী হবে তা সুস্পষ্ট ও সুনিদিষ্ট করে দেয়া উচিৎ। তিনি সরকারকে পিছু না হঠে দ্রুত নির্বাচন দেবার আহ্বান জানান। ড. আসিফ নজরুল বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকার অন্যান্য সিটি নির্বাচন দিয়ে কোনটাই জিততে পারেনি। তাই ঢাকা সিটির নির্বাচন দিলে তারা কতটা জনবিচ্ছিন্ন তা আরো স্পষ্ট হয়ে যাবে। এই জন্য কোনভাবেই তারা এই নির্বাচন দেবে না। ৫ জানুরির নির্বাচনের পর থেকে জনসাধারণের মধ্যে নির্বাচনভীতি কাজ করছে উল্লেখ করে ড. আসিফ বলেন, জনগণ মনে করেছিল ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার একটা নির্বাচন খেলা করবে। সেটাই করেছে। এখন তারা নির্বাচন দিলেও যা, না দিলেও তা। তেমন কোনো পরিবর্তন হবে না। তিনি বলেন, সরকার জনগনের রায়ে বিশ্বাস করে না। তারা প্রশাসনের মতাকে ব্যবহার করে মতায় টিকে থাকাকেই বেছে নিয়েছে। যে কারণে ঢাকার কোথাও বিরোধী দলকে দাঁড়াতে দিচ্ছে না। যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। ঢাবির এই শিক্ষক বলেন, সরকার যে ঢাকা সিটির নির্বাচন দিচ্ছেন না এটা সংবিধানবিরোধী ও মানবতাবিরোধী। কারণ সংবিধানে উল্লেখ আছে নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা প্রকাশ করার অধিকার বাস্তবায়ন করতে হবে। যা আমরা ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আমরা করে থাকি। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই অধিকার থেকে জনগণকে বিরত রাখছে। এস এম আকরাম বলেন, সংসদের কাজ আইন প্রণয়ন করা। সংসদ সদস্যদের তা করতে দিতে হবে। তা না হলে স্থানীয় সরকার সমস্যা দূর হবে না। অস্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং পরিবার কেন্দ্রীক রাজনীতির কারণে স্থানীয় সরকার কার্যকর হচ্ছে না। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার কার্যকর করতে শুধু রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার দরকার।

শেয়ার করুন