নির্বাচন নিয়ে এখনই আলোচনা চায় ইইউ

0
30
Print Friendly, PDF & Email

৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন কোনো মন্তব্য নেই। এ ব্যাপারে তারা আগেই অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তবে আগামী নির্বাচন নিয়ে এখনই আলোচনা চায় উন্নয়ন সহযোগী এ সংস্থাটি। বুধবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সংস্থাটির সংসদীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান জেন ল্যাম্বার্ট। ইইউর ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ল্যাম্বার্ট বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোন প্রেক্ষাপটে সম্পন্ন হয়েছে সেটি এদেশের মানুষই ভাল জানে। একইসঙ্গে সে নির্বাচনের ফলাফলও সবার কাছে দিবালোকের ন্যয় স্পষ্ট। ইইউ সে বিষয়টি নিয়ে আর কথা বলতে চায়না। তবে পরবর্তী নির্বাচনটি কিভাবে অংশগ্রহণমূলক করা যায় তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনই আলোচনা শুরু হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে একটি খারাপ ধারা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্রিক সংঘাত, সহিংসতা। এ থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে অবশ্যই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা শুরু করতে হবে এবং তার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি আরো বলেন; নতুন নির্বাচন নয়, পরবর্তী নির্বাচন কিভাবে অনুষ্ঠিত হবে, কোন পদ্ধতিতে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হবে- তার একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হওয়া উচিত। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বরাবরের মতো ইইউ উদ্বিগ্ন একথা জানিয়ে ডেলিগেশন প্রধান বলেন, আমরা গুম, খুনসহ প্রত্যেকটি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ তদন্তের আহবান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভূক্তভোগীদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে জড়িতদের বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করাতে সরকারের পূর্ণ সদিচ্ছা আশা করেন জেন ল্যাম্বার্ট। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রসঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ প্রতিনিধি বলেন, বিচারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা সরকারের কর্তব্য। এ জন্য আসামি পক্ষ যাতে ন্যায় বিচার পায় সেদিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে ট্রাইব্যুনালকে। তবে ইইউ চায় এ বিচার যাতে সব ধরনের বিতর্কের উর্ধ্বে থাকে। এনজিওদের নিয়ন্ত্রণে প্রণীত আইনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ইইউ পার্লামেন্টের ওই সদস্য বলেন, এমন কোন নিয়ন্ত্রণমূলক আইন করা উচিৎ নয়, যা গতিশীল নাগরিক সমাজের কণ্ঠ রোধ করে। এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের আরো আলোচনা-পর্যালোচনার সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এর আগে গত ৬ ডিসেম্বর চার দিনের সফরে ইইউ প্রতিনিধি দলটি ঢাকায় আসে। সফরকালে প্রতিনিধি দলটি জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরিন শারমীন চৌধুরী, আওয়ামী লীগের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে এ সফরে তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল তৈরি পোশাক শিল্প নিয়ে ঢাকা অ্যাপারেল সামিটে অংশ নেয়া।

শেয়ার করুন