সিলেটে পুলিশের এ কি বর্বরতা

0
110
Print Friendly, PDF & Email

সিলেট রেঞ্জে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতন, বর্বরতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। অভিযুক্ত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরও এমন অপরাধ থেকে তাদের বিরত রাখা যাচ্ছে না। পুলিশ সদস্যরা থানা হাজতে আসামিদের অমানুষিক নির্যাতন করেই যাচ্ছেন। সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় ছাতকের জামাল চৌধুরী, অনিতা ভট্টাচার্যের যৌনাঙ্গে বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা হাজতেও রাসেল আহমদ নামে এক যুবককে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের ৪র্থ তলার ৫নং ওয়ার্ডে ১৮নং বেডে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। র‌্যাব-৯ এর একটি টিম তাকে বাড়ির পাশ থেকে আটকের পর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। পরে তাকে রাখা হয় থানা হাজতে। সোমবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, নির্যাতিত রাসেলের পুরো শরীরে লাল লাল দাগ। অমানুষিক নির্যাতনের যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করছেন। কষ্টের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া সারলেও কথা বলতে কষ্ট হয় তার। চলাফেরা করতে পারেন না। বাথরুমে আনা-নেয়া করতে হয় কয়েকজন মিলে। রাসেলের অভিযোগ রাতে চোখ বেঁধে এই অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ। রাসেলের পিতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালেক উদ্দিনের অভিযোগ, শুক্রবার রাত ১২টার পর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল আমিন, ওসি তদন্ত মো. হানিফ, এসআই আতিকুল ইসলাম ও আবদুল মুকিত চৌধুরীসহ কিছু পুলিশ সদস্য তার চোখ বেঁধে ফেলে। এরপর লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করে। পরদিন শনিবার গুরুতর আহত রাসেলকে সুনামগঞ্জ জেলা হাজতে প্রেরণ করা হয়। জেল কর্তৃপক্ষ খারাপ অবস্থা দেখে সুনামগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রোববার সিলেট সেন্ট্রাল জেলে প্রেরণ করা হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করে জেল কর্তৃপক্ষ। তিনি দাবি করেন, আমার মা আফতাজান বিবিকে ২০১২ সালে খুন করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় মামলা করার পর ঘাতকরা পুলিশকে ম্যানেজ করে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে আমি অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নানকে জানানোর পর তিনি মামলার পরামর্শ দিয়েছেন। আমি মামলা করব। রাসেলের ভাই জুসেল আহমদ বলেন, ভাইয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। বেঁচে থাকলেও তার কিডনিসহ শরীরের অনেক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে। তাকে সুস্থ করে তুলতে জেল কর্তৃপক্ষ নয়, আমরাই ওষুধপত্রের খরচ জুগিয়ে যাচ্ছি। দু’পা প্রায় অচল থাকায় প্রতিদিন ৪-৫ জন তার পাশে থাকছেন। পুলিশি নির্যাতনে গুরুতর আহত রাসেলের বাড়ি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার বীরগাঁও গ্রামে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, আমরা নই, র‌্যাবের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করেই রাসেল আহত হয়েছে। রাসেল এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। আমার থানার এসআই আকিকুল ইসলামকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়েছিল এই রাসেল। তার বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন উর রশীদ বলেন, র‌্যাব সোপর্দ করার পর রাসেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ তাকে নির্যাতন করেছে এ কথা না বলে আইনশৃংখলা বাহিনী বলাই সঠিক হবে। এর আগে গত নভেম্বরে অনিতা ভট্টাচার্য নামে এক আসামিকে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানা হাজতে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন চালিয়েছিল পুলিশ। অনিতাকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তির পর তিনি অভিযোগ করেন, রাতে তার গোপনাঙ্গে লাঠি ঢুকিয়ে খোঁচায় এসআই আঁখি। আর মুখে পাইপ লাগিয়ে মদ ঢেলে দেন ওসি মনিরুল। এরপর মাটিতে ফেলে গলায় বুট দিয়ে চেপে ধরে পুলিশ। এমন বর্বর নির্যাতনে অনিতা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ব্যাপারে অভিযোগ করা হলে সম্প্রতি সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ও সাব-ইন্সপেক্টর হাসিনা আক্তার আঁখিকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। শিশুকন্যা স্নিগ্ধা দেব জয়ী অপহরণ মামলায় অনিতাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অপহরণের ১৬ মাসেও শিশুটি উদ্ধার না হওয়ায় অনিতাকে রিমান্ডে নিয়েছিল কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর আগে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানা হাজতে আটক করে অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয় জামাল চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ীকে। তিনি ছাতক পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম চৌধুরীর ভাই। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতে রিট করলে কোতোয়ালি থানার তৎকালীন ওসি আতাউরসহ ৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন উচ্চ আদালত। মামলা দায়েরের পর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর থেকে পলাতক রয়েছেন ওসি আতাউরসহ অভিযুক্তরা।

শেয়ার করুন