আন্দোলনের সাফল্য নিয়ে সংশয় বিএনপিতে

0
41
Print Friendly, PDF & Email

নতুন নির্বাচনের দাবিতে করা পরবর্তী আন্দোলনের একটি সফল পরিণতি চায় বিএনপি। তবে তা কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে দলের মধ্যে সংশয় রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও এর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নব্য স্বৈরাচার আখ্যা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার মির্জা ফখরুল এক আলোচনা সভায় বলেন, একদিনে স্বৈরশাসক এরশাদের পতন হয়নি। দীর্ঘ নয় বছর সংগ্রাম করে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এরশাদের পতন হয়েছে। এর আগে গত ২ ডিসেম্বর মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, ভোটের অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চলছে। এ লড়াইয়ে সময় লাগতে পারে। কিন্তু লড়াই সফল হবেই। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, কয়েকটি কারণে তাদের এই আন্দোলনের সাফল্য নিয়ে সংশয় আছে। তারা মনে করে, ৫ জানুয়ারির আগের আন্দোলন পুরোপুরি সফল না হওয়ার বড় কারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সরকারের প্রতি একতরফা সমর্থন। এখনো পুলিশ ও প্রশাসন সরকারের নিয়ন্ত্রণে আছে। বিএনপি চেষ্টা করছে, প্রশাসনে থাকা বিএনপিপন্থী এবং নিরপেক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক করতে। এ নিয়ে বিএনপির চেয়ারপারসনের একজন উপদেষ্টা কাজ করছেন। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি কিছু সরকারি কর্মকর্তা খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এ বৈঠকের বিষয়টি বিএনপি অস্বীকার করেছে। তবে এ বৈঠক নিয়ে দলের একাধিক নেতা অসন্তুষ্ট। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা প্রথম আলো কে বলেন, যাঁরা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে, প্রশাসনে তাঁদের কোনো প্রভাব নেই। এর বাইরে বিএনপি-সমর্থিত যেসব কর্মকর্তা আছেন তাঁদের প্রায় সবাই ওএসডি বা কোণঠাসা হয়ে আছেন। এ অবস্থায় থেকে তাঁরা যে খুব বেশি একটা ভূমিকা রাখতে পারবেন তা মনে করা হচ্ছে না। বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের আরেকটি আশঙ্কা হলো, মার্চের মধ্যে দলের চেয়ারপারসনকে কারাবন্দী বা গৃহবন্দী করা হতে পারে। যদি সে রকম কিছু হয় তাহলে আন্দোলন দাঁড় করানো কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে। গত নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে কার্যত গৃহবন্দী রাখা হয়েছিল। তখন নেতা-কর্মীদের কাউকে রাস্তায় দেখা যায়নি। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অনেকেই বয়স্ক ও অসুস্থ। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে তাঁদের প্রায় কাউকেই রাজপথে দেখা যায়নি। এবারও তাঁরা রাজপথে থাকবেন কি না, তা নিয়ে দলে সংশয় আছে। দলীয় সূত্রগুলো জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন নিজেও সর্বশেষ স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বলেছেন, হয়তো স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কেউ রাস্তায় থাকবেন না। কেউ না থাকলে তিনি একাই রাস্তায় নামবেন। অবশ্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছাত্রদলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বলেছেন, আন্দোলনে রাজপথে থাকবে ছাত্রদল। সে জন্য সংগঠনটির নতুন কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু একাংশের বিদ্রোহের কারণে এখনো পুরোপুরি কাজই শুরু করতে পারেনি ছাত্রদলের নতুন কমিটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির মিত্র জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরকার আঁতাত করার চেষ্টা করছে। জামায়াতে ইসলামীকে তাঁরা ঠিক আগের মতো পাশে পাচ্ছেন না। সূত্র জানায়, মাঠের আন্দোলন সফল করার ক্ষেত্রে বিএনপির অন্যতম ভরসা জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজা এবং এটি নিয়ে সহিংস আন্দোলনে জড়িয়ে জামায়াত ইতিমধ্যে নিজেদের অনেক শক্তি ক্ষয় করেছে। এ অবস্থায় জামায়াত আগের মতো রাজপথে শক্তি দেখাতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় আছে। আন্দোলনের সাফল্য নিয়ে সংশয় আছে কি না—জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অবশ্য বলেন, অতীতে বাংলাদেশে কোনো আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি। ৫ জানুয়ারির আগের আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে তা বলা যাবে না। অতীতে যেমন কোনো আন্দোলন ব্যর্থ হয়নি ভবিষ্যতেও হবে না।

শেয়ার করুন