অধ্যক্ষকে বের করে দিয়ে কক্ষে তালা দিল ছাত্রলীগ

0
54
Print Friendly, PDF & Email

এবার সিলেটের মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তালা দিয়েছে ছাত্রলীগ। ডিগ্রিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্র্মীদেরকে বেতন মওকুফ করে পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন করতে না দেয়ার জের ধরে তারা এ কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়- গত ১ ডিসেম্বর থেকে মদন মোহন কলেজে ডিগ্রি প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন চলছিল। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবুল মুহিতের অনুমতি সাপেক্ষে দরিদ্র, অসহায়, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রতিবন্ধীদের বেতন মওকুফ করে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করার সুযোগ দেয় কলেজ কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ছাত্রলীগ নেতা রুমেলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মী তাদের অনুগত ২৫ জন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন ফরম নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহর কাছে যায়। তারা ওই ২৫ জনের বেতন মওকুফ করে দেয়ার জন্য অধ্যক্ষকে চাপ দেয়। কিন্তু ওই ২৫ জন দরিদ্র, অসহায়, প্রতিবন্ধী কিংবা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয়, তাই তাদের বেতন মওকুফ করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন অধ্যক্ষ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা রুমেলের নির্দেশে কলেজের অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী রাজেশ ও রাসেল অধ্যক্ষকে তার কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে তালা মেরে দেয়। পরে অধ্যক্ষ শিক্ষক মিলনায়তনে গিয়ে বসেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পরে কোতোয়ালি থানার এসআই সিরাজের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খুলে দেন। এসআই সিরাজ বাংলামেইলকে বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষের তালা খুলে দিয়েছে।’ এ ব্যাপারে কথা বলতে মদন মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এর আগেও মদন মোহন কলেজ ছাত্রলীগের নেতকর্মীরা বেশ কয়েকবার কলেজ অধ্যক্ষের রুম তালা ও ভাঙচুর করেছিল। এছাড়াও ২০১৩ সালের ডিগ্র প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষের ফরম ফিলাপ করার সময় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল মিলে কলেজ কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়ে বেতন মওকুফের নামে বাণিজ্য করেছিল। পরে গত বছরের ২৪ সেপ্টম্বর কলেজের গভর্নিং বডির এক বৈঠকে এসে ছাত্রনেতাদের দিয়ে বেতন ও ভর্তি ফি মওকুফের বিষয়টি জানতে পান। ওই দিন সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী সিলেট নগরীতে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেয়ার সময় মদন মোহন কলেজের একাদশ শ্রেণীর ৯শ শিক্ষার্থীর ভর্তি স্থগিত ঘোষণা করেন। এ অনুষ্ঠান থেকে দুর্নীতিবাজ ছাত্রনেতাদের ভর্তি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রয়োজনে তাদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। দেশের ছাত্রসংগঠনগুলোর ভর্তিবাণিজ্যের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, ‘বদমাস হয়ে গেছে গোটা ছাত্রসমাজ। এটা দেশ ও জাতির জন্য দুঃখের বিষয়। সবগুলো ছাত্রসংগঠনের নেতারা কমিশন খায়।’ অর্থমন্ত্রী ৪শ’জন ছাড়া সবার ভর্তি স্থগিত ঘোষণা করে আগামী এক মাসের মধ্যে অনলাইনে ভর্তির নির্দেশ দেন।

শেয়ার করুন