কারও চাপে পড়ে ‘৯০-এ ক্ষমতা হস্তান্তর করিনি এরশাদ

0
80
Print Friendly, PDF & Email

কোনো চাপে পড়ে ‘৯০ এ ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি বলে জানালেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় দেশে কোনো আন্দোলন ছিল না। ঢাকায় তখন আন্দোলন করার মত মানুষই ছিল না। দুই জোট চ্যালেঞ্জ করেছিল ক্ষমতা ছেড়ে নির্বাচন দিতে। আমি সে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছি। তিনি আরো বলেন, আমি সাংবিধানিকভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তর করেছি। সংবিধানের বাইরে কিছু করিনি। ‘৯০ সালে আমার সরকার অবৈধ ছিল না। গতকাল শনিবার বিকেলে কাকরাইলে দলীয় কার্যালয়ে ‘সংবিধান সংরক্ষণ দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। গণতন্ত্রকে ভালোবেসে নয়, এরশাদকে ভয় করে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। সংসদীয় পদ্ধতি আতঙ্কের ফল বলে মন্তব্য করেছেন এরশাদ। এরশাদ বলেন, হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ১৯৯১ সালে নির্বাচন করেছি। আমাদের নেতা-কর্মীদের জেলে রাখা হয়েছিল, তাদের প্রচারণা চ?ালাতে দেওয়া হয়নি। তবুও আমরা ৩৫টি আসন পেয়েছিলাম। আর এ কারণে ভয় পেয়েছিল দুই দল। তারা ভেবেছিলো রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি চালু থাকলে এরশাদকে ঠেকানো যাবে না, মানুষ তাকে আবারও ভোট দেবে। এই ভয়ের তারা দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি সংশোধন করেছে। তিনি বলেন, কেউ কেউ আজকের এই দিনটিকে স্বৈরাচার পতন দিবস হিসেবে পালন করে। কিন্তু আমরা বলি এটা সংবিধান সংরক্ষণ দিবস। আমরা সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলাম। সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরকে পতন বলা যাবে না, বলতে হলে সংবিধানের পতন বলতে হবে’। সেদিন আন্দোলন ঢাকায় সীমাবদ্ধ ছিল। জবাবে এরশাদ বলেন, দুইটি দল আমাকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছিল নির্বাচন দেওয়ার জন্য। আমি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলাম। আমাদের ওপর অবিচার না করা হলে, লেভেল প্লেইং ফিল্ড থাকলে আমরা আবারও ক্ষমতায় যেতাম। বিএনপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা ষড়যন্ত্র করেন, ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না, মানুষ আপনাদের চায় না। এখন লেভেল প্লেইং ফিল্ডের কথা বলেন, ৯০ সালে কি ছিল? আগামী নির্বাচনে মানুষ চোখ বন্ধ করে লাঙ্গলে ভোট দেবে বলেও মন্তব্য করেন এরশাদ। এরশাদ আরও বলেন, কোচিং সেন্টারের শিক্ষকেরা টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়ে তা শিশুদের কাছে সরবরাহ করছেন। এ অনৈতিক কর্মকান্ড অবিলম্বে বন্ধ করতে তিনি সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান। এরশাদ বলেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন। আমি জীবনে কখনও শুনিনি প্রাথমিক পরীক্ষার প্রশ্ন পত্র ফাঁস হয়। আমাদের অবক্ষয় এতটাই হয়েছে যে, ফাঁস করা প্রশ্ন বিভিন্ন কোচিং সেন্টারের মাধ্যমে অভিভাবকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আর অভিভাবকরা সেই প্রশ্ন কোমলমতি সন্তানদের প্রদান করছে। এ অনৈতিক কর্মকান্ড অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হাসান বাবলা এমপির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রী ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সিনিয়র-যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।

শেয়ার করুন