সরিষার চেয়ে ফুলের কদর বেশি

0
93
Print Friendly, PDF & Email

এক পাশে ব্রহ্মপুত্র নদ। অন্যপাশে নীল আকাশ। মাঝখানে বিছানো হলুদ চাদর। এক দুইটি জমিতে নয়, শুরু হয়েছে নদীর ওপারের চর থেকে। শেষ হয়েছে আকাশটা যেখানে নেমে এসেছে। ফসলি জমিতে দিগন্তজোড়া এই হলুদ চাদরের সবটাই সরিষা ফুল। দেখে মনে হতে পারে আকাশে বসে থাকা কোনো এক খেয়ালি শিল্পীর রঙের বাটি থেকে গড়িয়ে পড়েছে হলুদ রঙ। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের ফসলি মাঠের চিত্র এটি। কয়েক বছর ধরে সরিষার মৌসুমে হলুদ হয়ে উঠে এলাকাটি। কৃষকেরা সরিষার আবাদ করেন। মৌসুম শেষে মারাই ঝাড়াই করে বিক্রিও করেন। তবে ইদানিং সরিষার চেয়ে ফুলের কদর বেড়ে যাওয়ায় ফুলের প্রতিও মনযোগী হয়েছেন অনেকেই। সরিষা ফুল বিক্রি করেই লাখোপতি হয়েছেন অনেক কৃষক। ব্রহ্মপুত্র চরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক ঘোষিত আদর্শ কৃষক বাদল মিয়া। তিনি জানান, গত কয়েক বছর আগেও উপজেলার সাহেবের চর এলাকায় শুধু বাদাম ও মিষ্টি আলুর চাষ হতো। তবে কৃষি সম্প্রসারণের উৎসাহে তারা সরিষার আবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। ফলও পেয়েছেন ভালো। শহর বন্দরে সরিষা ফুলের কদর বেড়ে যাওয়ায় এ বছর রেকর্ড পরিমাণ আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এ বছর সরিষারও বাম্পার ফলনের আশা করছেন আরো দুই আদর্শ কৃষক আলামিন ও খোকন মিয়া। সরিষা ফুল বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন চর-হটরআলগী গ্রামের কৃষক কাজল মিয়া, রাসেল মিয়া ও সবুজ মিয়া। তারা জানান, এ বছর প্রত্যেকেই গড়ে আড়াই একর জমিতে আগাম সরিষার আবাদ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আড়তদারদের কাছে শুধু সরিষাফুল বিক্রি করছেন। কিন্তু কেন সরিষাফুলের এতো চাহিদা? সাধারণত সরিষাফুল দিয়ে অনেক রকমের খাবারই তৈরি করা যায়। তাছাড়া স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন এগুলোতে ভেষজ গুনাগুণও রয়েছে। এ ছাড়া সরিষার সাধারণ গুণাগুণতো রয়েছেই। ভর্তা তৈরির জন্য সরিষার তেলের বিকল্প নেই। সর্দি-কাশিতে রসুন গরম করা সরিষার তেল উপকারি। শুধু ফুল আর তেলই নয়। তেল তৈরি প্রক্রিয়ার পর উচ্ছিস্ট অংশগুলোকে বলা হয় খইল। এই খইলগুলো মাছ চাষ, গবাদি পশুর খাবার ও জৈব সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মওসুমে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে সরিষার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ৪২০ হেক্টর। তবে আবাদ হয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সুলতান আহম্মেদ জানান, কম খরচে সরিষা চাষ বেশি লাভজনক হওয়ায় উপজেলার বেশির ভাগ কৃষকের প্রধান অর্থকরি ফসল এখন সরিষা। তাছাড়া সরিষা চাষে পোকা মাকড়ের আক্রমন ও রোগবালাই কম হওয়ায় এর প্রতি কৃষকের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।

শেয়ার করুন