ছাত্রলীগের যৌন হয়রানিতে ‘নিরাপত্তাহীনতায়’ রাবি ছাত্রী

0
93
Print Friendly, PDF & Email

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত কর্মী এবং ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান এহসানের যৌন হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে জিডি করেছেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। গত ২৭ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এহসানের বিরুদ্ধে মামলা করার পরেও কাজ না হওয়া ওই ছাত্রী নিরাপত্তা চেয়ে নগরীর মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। একইসঙ্গে রোববার সকালে এহসানের বিরুদ্ধে নানাভাবে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে শিক্ষাজীবন চালিয়ে নেয়ার নিরাপত্তা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটির কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ওই ছাত্রী। ওই ছাত্রী শীর্ষ নিউজকে বলেন, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে তিনি ও এহসান ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগে ভর্তি হন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় এহসান তৃতীয় বর্ষে থাকলেও তিনি এখন চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। তিন বছর পড়াশুনা করার সুবাদে তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। ওই ছাত্রীর অভিযোগ, তাদের বন্ধুত্ব ঘনিষ্ঠ হওয়ার কিছুদিন পর তিনি জানতে পারেন এহসান মাদকাসক্ত এবং ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত। এ কারণে তিনি এহসানের সঙ্গ ছাড়তে চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। কিন্তু এহসান সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেয়াসহ বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দিয়ে হয়রানি করতে থাকে। এ ঘটনার জেরে তিনি গত ২৭ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এহসানের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এতে এহসান নিবৃত না হয়ে যৌন হয়রানি আরও বাড়িয়ে দেন। ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন, এহসান তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে ফেসবুকে একাধিক ভুয়া আইডি চালু করে তাকে সমাজ ও বন্ধুদের কাছে হেয় করতে শুরু করে। এছাড়া তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে চিঠি লিখে হুমকি দেয়া হয়। এনিয়ে বিভাগের শিক্ষকদের মাধ্যমে তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হলেও তার হয়রানি বাড়তে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে গত ৪ নভেম্বর মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নম্বর ১৪৯। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান এহসান শীর্ষ নিউজকে বলেন, তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক থাকার মাঝেই সে হঠাৎ করে তা অস্বীকার করতে থাকে। এরপর সে আমার নামে থানায় মামলাও করেছে। তিনি আরও বলেন, ওই ছাত্রীকে আমি কোনোসময় ডিস্টার্ব করিনি। সে কী কারণে এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে তা আমার জানা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কমিটির সভাপতি ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা কানিজ কেয়া শীর্ষ নিউজকে বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন সংক্রান্ত কয়েকটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানানো হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা শীর্ষ নিউজকে বলেন, এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় এহসানকে এর আগে (১৯ আগস্ট) সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাই সে এখন ছাত্রলীগের কেউ নয়। ছাত্রীকে যৌন হয়রানির বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই বলেও জানান তিনি।

শেয়ার করুন