বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে মহানবী (সা.)-এর আগমনের পূর্বাভাস

0
230
Print Friendly, PDF & Email

আমরা জানতে পরি, প্রত্যেক ধর্মাবলম্বীরাই হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আবির্ভাবের কথা জানতেন। তাঁর আবির্ভারে সময় পৃথিবীতে হিন্দু, পার্সী (অগ্নি উপাসক), বৌদ্ধ, ইহুদী এবং খ্রিস্টান ধর্ম প্রচলিত ছিল। হিন্দুদের ধর্মগ্রন্থ বেদ-পুরাণে, পার্সীদের ধর্মগ্রন্থ যিন্দাবেস্তায় এবং বৌদ্ধদের ধর্মগ্রন্থ দিঘানিকায়ায়ও রাসূল (সা.)-এর গুণাবলী এবং তার শুভাগমনের ভবিষ্যদ্বাণী স্পষ্টাক্ষরে বর্ণিত হয়েছে। ইহুদী ও খ্রিস্টানেরা নিজ ধর্মগ্রন্থ পড়ে জানতে পেরেছিল। আল্লাহ তা’আলা বলেন ঃ যখন তাদের কাছে আল্লাহর তরফ থেকে তাদের ধর্মগ্রন্থ (তৌরাত)-এর সমর্থনকারী কিতাব (কোরআন) পৌঁছল অথচ ইতোপূর্বে তারা কাফিরদের (আরব পৌত্তলিকদের) কাছে বর্ণনাও করত কিন্তু যখন তাদের জানাচেনা বস্তু অর্থাৎ কোরআন তাদের কাছে পৌঁছল তখন তারা তা অমান্য করে বসল। সুতরাং তাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ হোক। (সুরা বাকারাহ: ৮৯) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা) ইহুদী ধর্মের বিজ্ঞ আলেম ছিলেন। পবিত্র তাওয়ার সম্পর্কে তার অসাধারণ জ্ঞান ছিল। তিনি নিজে ইসলাম গ্রহণ করার পর সালামা এবং মুহাজির নামক তাঁর দু’ ভাতিজাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করেন। তিনি তাদের বলেন, হে ভ্রাতুষ্পুত্রদ্বয়! তোমরা উভয়ে নিঃসন্দেহভাবে জান যে, আল্লাহ তা’আলা পবিত্র তাওরাতে বলেছেন ঃ নিশ্চয় আমি হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর আওলাদদের মধ্যে থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করব, তাঁর নাম আহমদ। যে ব্যক্তি তাঁর প্রতি ঈমান আনবে সে হেদায়াত ও যথার্থ পথ প্রাপ্ত হবে। আর যে তাঁর প্রতি ঈমান আনবে না সে অভিশপ্ত। অনন্তর সালামা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং মুহাজির ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। (বায়নুল কোরআন) এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক কোরআনুল কারীমে বলেন ঃ মিল্লাতে ইবরাহীমি (ইসলাম) হতে শুধু সে ব্যক্তি বিমুখ থাকতে পারে, যে স্বগতভাবেই নির্বোধ। (সুরা বাকারাহ: ১৩০) ইহুদী ধর্মে অভিজ্ঞ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালামা (রা) বলেছেন- ‘তাওরাতে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর গুণাবলী লিখিত আছে এবং এ কথাও লিখিত আছে যে, হযরত ঈসা (আ.) কে তাঁর কবরের পাশে দাফন করা হবে।’ বাইবেলে হযরত মুহাম্মদ (সা.) যোহনের বাইবেলে উল্লেখ আছে ঃ ‘আর আমি আমার পিতার কাছে নিবেদন করব এবং তিনি আর এক সহায় বা সমর্থনকারী ফারাক্লীতস তোমাদেরকে দান করবেন, যেন তিনি চিরকাল তোমাদের সাথে থাকেন।’ উক্ত বাইবেলে আরও আছে ঃ ‘কিন্তু সেই সহায় যিনি পবিত্র আত্মা, যাকে পিতা (আল্লাহ) আমার নামে পাঠিয়ে দেবেন, তিনি সকল বিষয়ে তোমাদেরকে শিক্ষা দেবেন এবং আমি তোমাদেরকে যা যা বলেছি সে সকল স্মরণ করিয়ে দেবেন।’ (যোহন, অধ্যায়- ১৪, পদ ২৬) বাইবেলে আরও উল্লেখ রয়েছে- যাঁকে আমি পিতার (আল্লাহর) নিকট থেকে তোমাদের নিকট পাঠিয়ে দেবো, সত্যের সেই আত্মা, যিনি পিতার নিকট হতে বের হয়ে আসবেন তিনি আমার বিষয়ে সাক্ষ্য দেবেন।’ যোহন, অধ্যায়-১৪) এ বিষয়ে আরও উল্লেখ রয়েছে ঃ তথাপি আমি তোমাদের সত্য বলেছি, আমার যাওয়া তোমাদের পক্ষে ভাল, কারণ, আমি না গেলে সেই সহায় (ফারাক্লিত) তোমাদের কাছে আসবেন না; কিন্তু আমি যদি যাই, তবে আমি তোমাদের নিকটে তাঁকে পাঠিয়ে দেব। আর তিনি এসে পাপ সম্বন্ধে, ধার্মিকতা সম্বন্ধে ও বিচার সম্বন্ধে জগৎকে দোষী করবেন।’ (যোহন, অধ্যায়- ১৪) তোমাদেরকে বলার আমার আরও অনেক কথা আছে কিন্তু তোমরা এখন সে সকল সহ্য করতে পারবে না। পরন্তু সে সত্যের আত্মা (ফরাক্লিত) যখন আসবেন তখন তিনি তোমাদেরকে সত্যের সন্ধান দেবেন; কারণ তিনি নিজ হতে কিছু বলবেন না, যা যা শুনবেন তাই বলবেন এবং ভবিষ্যতের ঘটনাও তোমাদেরকে জানাবেন। (যোহন, অধ্যায় ১৪) বাইবেলে বর্ণিত বাক্যগুলোতে হযরত ঈসা (আ.) বারবার সেই নবীর আগমনের সুসংবাদ দিয়েছেন। তাকে তিনি ফারাক্লিত (চযধৎধপষবঃব) বলে অভিহিত করেছেন। এ শব্দটি ইবরানী অথবা সুরইয়ানী। এ শব্দটির হুবহু আরবী অনুবাদ মুহাম্মদ এবং আহমদ অর্থাৎ প্রশংসিত, পরম প্রশংসিত। প্রাচীন ইউনানী (গ্রীক) ভাষায় এ শব্দটির অনুবাদ করা হয়েছে এভাবে ‘পাইরিকিলইউটাস’। এর অর্থও অত্যন্ত প্রশংসাকারী ও প্রশংসিত, মুহাম্মদ ও আহমদ। কিন্তু পরবর্তী খ্রিস্টানরা যখন দেখতে পেল যে, এর দ্বারা ইসলামের সত্যতা প্রমাণিত হচ্ছে তখন তারা শব্দটির পরিবর্তন করে ‘পাইরকিলিটাস’ অর্থাৎ শান্তিদাতা বানিয়ে দিল।

শেয়ার করুন