রাস্তÍার অভাবে নিজস্ব^ ভবনে যেতে পারছেন না যমেক শিক্ষার্থীরা ধার করা ভবনের মেঝেতে কাস করেন

0
50
Print Friendly, PDF & Email

যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে রাস্তার চিত্র : নয়া দিগন্ত হাঁটি হাঁটি পা পা করে যশোর মেডিক্যাল কলেজের (যমেক) নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রায় চার বছর পর গত জুনে ধার করা ভবন থেকে কলেজটি নিজস্ব^ ভবনে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাত্র ৭৫০ মিটার একটি সংযোগ সড়কের অভাবে তা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। সড়কটি নির্মাণ নিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের ফাইল চালাচালিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম সঙ্কটের মধ্যে ধার করা যশোর জেনারেল হাসপাতালের করনারি কেয়ার ইউনিটের একটি ফোরে কাস করতে বাধ্য হচ্ছেন শিার্থীরা। শিার্থীরা জানান, কলেজে এখন চারটি ব্যাচ। কাসরুম স্ব^ল্পতায় সমস্যা হচ্ছে। একটি কাস ৮টায় হলে পরেরটি ১২টায় নেয়া হচ্ছে। মাঝের সময়টুকু ফাঁকা থেকে যাচ্ছে। এখানে লাইব্রেরি ভবনটি খুব ছোট বলে বসে পড়াশোনা করা যায় না। নতুন ভবনে যেতে পারলে এসব সমস্যা থাকবে না। তারা নতুন ক্যাম্পাসে যেতে চান বলে জানান। এ জন্য কর্তৃপকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখার দাবি জানান শিার্থীরা। একই সমস্যার কথা বললেন শিকেরাও। অর্থোপেডিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: এ এইচ এম আবদুর রউফ বলেন, পর্যাপ্ত কাসরুম না থাকায় ভালোভাবে কাস নেয়া যাচ্ছে না। অ্যানাটমির ডেমোনেস্ট্রেশন বা প্র্যাকটিক্যাল কাসগুলোও ঠিকমতো করতে পারছেন না শিার্থীরা। তা ছাড়া মেডিক্যাল কলেজ হওয়ায় শিকেরা আসছেন, তাদের পদায়ন হচ্ছে, কিন্তু তাদের বসতে দেয়ার মতো স্থানও নেই। দেখা যায়, অনেক শিক কমনরুমে বসে সময় কাটাচ্ছেন। এই মেডিক্যাল কলেজের শিার্থীদের জন্য কলেজের নিজস্ব কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই। তবে ছাত্রদের জন্য দুইটি ও ছাত্রীদের জন্য দুইটি বাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম জানান, অ্যাকাডেমিক ভবনের সব কাজই শেষ। কিন্তু কলেজ কর্তৃপ বুঝে নিচ্ছে না বলে তারা ফাইনাল কোট রঙ ও মূল্যবান ফিটিংস লাগাতে পারছেন না। এখানে আসার অ্যাপ্রোচ ও অভ্যন্তরীণ রাস্তার কাজ না হওয়াই ভবন বুঝে না নেয়ার প্রধান কারণ। স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে ফাইল চালাচালির কারণে গত পাঁচ বছরেও সংযোগ সড়কটি নির্মাণ সম্ভব হয়নি বলে জানান গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এস এম গোলাম কাদের। তিনি জানান, কলেজের রাস্তাটি মূলত খাসজমির ওপর। যে কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গণপূর্ত অধিদফতরকে কাজটি করতে বা বরাদ্দ দিচ্ছে না। এলজিইডির মাধ্যমে বিনা খরচে রাস্তাটি তৈরি করে নিতে চাইছেন তারা। কিন্তু এলজিইডি প্রকল্পটি অনুমোদন করতে পারছে না। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এভাবেই চলছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যদি গণপূর্তকে কাজটি করতে বরাদ্দ দেয় তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অ্যাকাডেমিক ভবন পূর্ণাঙ্গ রূপে চালুর ব্যবস্থা করা সম্ভব। যমেক স্থাপনের জন্য ২০০৭ সালে যশোর শহরতলীর শংকরপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে বিল হরিণায় ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। দেশে পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন প্রকল্পের আওতায় যমেকের অ্যাকাডেমিক ভবন ও ছাত্রী হল নির্মাণে ৩৪ কোটি চার লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর এ কলেজ ছাত্রছাত্রী ভর্তির অনুমোদন লাভ করে। প্রথম বছরই ভর্তির সুযোগ পান ৫৩ জন শিার্থী। ২০১০-১১ শিাবর্ষে আরো পাঁচটি আসন বাড়ানো হয়। এর পর থেকে প্রতি শিাবর্ষে এ কলেজে ৫৮ জন করে শিার্থী ভর্তি করা হচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের করনারি ভবনের দ্বিতীয় তলায় শুরু হয় মেডিক্যাল কলেজের কার্যক্রম। একই সময়ে সরকারি এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বলে ঘোষণা করা হয়। যমেক অধ্য প্রফেসর ডা: এ এইচ এম মাহাবুব উল মাওলা চৌধুরী জানান, ভবনের কাজ শেষ। কেবল অ্যাপ্রোচ ও অভ্যন্তরীণ রাস্তার কাজ এখনো হয়নি। সে কারণে ওই ভবনে যাওয়া যাচ্ছে না। মেডিক্যাল কলেজের রাস্তার জন্য এলজিইডি ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর ৭৫০ মিটার রাস্তার জন্য ৩০ লাখ তিন হাজার ৬৭৪ টাকা এবং এর ওপর দুইটি বক্স কালভার্টের জন্য ১৯ লাখ ৫৬ হাজার ৭৮৫ টাকাসহ মোট ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৯ টাকার স্কিম দিয়েছে। কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশে হওয়ায় সড়ক পথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থাতো আছেই, তার ওপর এই কলেজ থেকে যশোর রেল স্টেশনের দূরত্ব মাত্র এক কিলোমিটার। যশোর বিমান বন্দর যোগাযোগ ব্যবস্থার বাড়তি সুযোগ নিশ্চিত করেছে।

শেয়ার করুন