বাংলাদেশের জয়

0
62
Print Friendly, PDF & Email

মিরপুর টেস্টে তিন উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। তিন দিনেই ম্যাচটি জিতে সিরিজে ১-০-এ এগিয়ে গেল টাইগাররা। তাইজুল দুরন্ত বোলিং করে দারুণ সাফল্যের পর তার ব্যাট থেকেই আসে জয়সূচক বাউন্ডারিটি। দীর্ঘদিন পর টেস্ট ম্যাচ জয়ের আনন্দে ভাসল গোটা দেশ। আজ সোমবার জিম্বাবুয়েকে ১১৪ রানে অলআউট করার পর জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১০০ রানের। খুব সামান্য টার্গেট থাকলেও এটা পূরণ করতে বেশ সমস্যায় পড়তে হয়েছিল স্বাগতিকদের। ম্যাচের পেন্ডুলার ঘুরেছে কয়েকবার। কিন্তু সব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে মুশফিকুর রহীম ও তাইজুল ইসলামের অষ্টম উইকেটে ৪০ বলের পার্টনারশিপে। শাহাদাত হোসেন আউট হওয়ার পর তারা হাল ধরেছিলেন। আর কোনো অঘটন না ঘটিয়ে তারাই জয়ের ঠিকানায় দেশকে পৌঁছে দেন। তাইজুল ১৫ রান করেছিলেন। আর মুশফিক ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন। মাহমুদুল্লাহর ২৮ রানের পর এটাই ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ৯ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৫ রান নিয়ে তৃতীয় দিন সকালে খেলতে নামে জিম্বাবুয়ে। দিনের শুরুতেই সফরকারী ব্যাটিং লাইন আপে প্রথম আঘাত হানেন বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সিবান্দাকে ব্যক্তিগত ১৪ রানে ফিরিয়ে দিয়ে তিনি। সিবান্দার ফিরে যাবার ৫ রান পরই প্যাভিলিয়নে ফিরেন হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ৫ রান করা মাসাকাদজাকে নিজের শিকার বানান পেসার শাহাদাত হোসেন। দিনের শুরুতে ২ উইকেট হারানোর ধাক্কাটা এরপর বেশ ভালোভাবেই সামাল দেন চাকাবা ও সিকান্দার রাজা। ২৯ রানের জুটিতে ২৫ রানই করেন রাজা। দ্রুত গতিতে রান তোলা রাজাকে থামিয়েছেন তাইজুল। তবে এখানেই থেমে থাকেনি তাইজুলের ক্যারিশমা। এরপর দ্রুত আরও তিন উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং মেরুদন্ডটাই ভেঙে দেন তাইজুল। চাকাবা ১০, চিগাম্বুরা ০ ও আরভিন ১০ রানে আউট হয়ে তাইজুলের শিকারের তালিকায় নাম তুলেন। সেই সাথে টেস্ট ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখান তাইজুল। তাইজুলের বিধ্বংসী রূপের মাঝে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক টেইলর। যখনই স্ট্রাইকে যাচ্ছিলেন টেইলর, তখনই স্কোর বোর্ডে জমা হচ্ছিল জিম্বাবুয়ের। কিন্তু অন্য ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় দলকে বড় কোন লিড এনে দিতে পারেননি টেইলর। শেষ পর্যন্ত ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শেষ চার ব্যাটসম্যানও ফিরেছেন মাত্র ২০ রানের ব্যবধানে। ফলে ১১৪ রানে অলআউট হতে জিম্বাবুয়ে। সফরকারীদের শেষ চার ব্যাটসম্যানের তিনটিই শিকার করেন তাইজুল। আর একটি উইকেট ভাগ্যে জুটে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়া সাকিবের। ম্যাচ শেষে তাইজুলের বোলিং গিয়ে দাড়ায় ৩৯ রানে ৮ উইকেট। যা রেকর্ড বইয়ে জায়গা পেয়েছে সবার উপরে। জয়ের জন্য ১০১ রানের সহজ টার্গেটে খেলতে নেমে ক্রিজ থেকে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরতে মনোযোগি হয়ে উঠে বাংলাদেশের টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। তাড়া যে কি-সে ছিল তা ভালো বলতে পারবেন, দলের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান। স্কোর বোর্ডে কোন রান যোগ না করে শুন্য রানেই প্যাভিলিয়নে জায়গা করেন তামিম ইকবাল, শামসুর রহমান ও মমিনুল হক। ফলে এসময় বাংলাদেশের স্কোর বলছিলো, ০-৩। দলের উপর এত বড় ধাক্কাটা পরবর্তীতে ভালোভাবে সামাল দিয়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসান। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে বুঝে-শুনে ব্যাট চালান তারা। ফলে খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়া বাংলাদেশ দেখে রানের সংখ্যা। চতুর্থ উইকেটে দু’জনে যোগ করেন ৪৬ রান। ব্যক্তিগত ১৫ রানে সাকিব না ফিরলে জুটিটি আরও বড় হতে পারতো। সাকিবের বিদায়ের ১৬ রান পর আউট হওয়া ব্যাটসম্যানের তালিকায় নাম লেখান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও, করেন ২৮ রান। তার বিদায়ের পর ২০ রানের ব্যবধানে আরও ২ উইকেট হারিয়ে আবারো চিন্তায় পড়ে যায় বাংলাদেশ। আর ম্যাচ জয়ের চিন্তা করতে থাকে জিম্বাবুয়ে। তবে অন্যপ্রান্তে বাংলাদেশের আশার প্রদীপ হয়ে জ্বলে ছিলেন টাইগার দলপতি মুশফিকুর রহিম। বল হাতে দারুন সফল তাইজুলকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন মুশফিকুর। বাউন্ডারি হাকিয়ে বাংলাদেশকে দলের জয় নিশ্চিত করেন ম্যাচের সেরা তাইজুল। মুশফিকুর ২৩ ও তাইজুল ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। টেস্ট ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের পঞ্চম জয়। এরমধ্যে তিনটিই এসেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আগামী ৩ নভেম্বর খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট। স্কোর কার্ড জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস সিবান্দা ক মুশফিকুর ব শাহাদাত ৬ রাজা ক মাহমুদুল্লাহ ব যুবায়ের ৫১ মাসাকাদজা ক জুবায়ের ব সাকিব ১৩ টেইলর ক তাইজুল ব জুবায়ের ২৮ চিগাম্বুরা ক মমিনুল ব সাকিব ২৯ আরভিন ক মমিনুল ব তাইজুল ৩৪ চাকাবা ক শামসুর ব সাকিব ২৫ নিউম্বু এলবিডব্লু ব সাকিব ১৪ পেনিয়াঙ্গারা মার্শাল ব সাকিব ৮ চাতারা অপরাজিত ১৪ কামুঙ্গোজি ক শামসুর ব সাকিব ৫ অতিরিক্ত (বা-১২, নো-১) ১৩ মোট (অলআউট, ৭৫.৫ ওভার) ২৪০ উইকেট পতন : সিবান্দা (১/৬), মাসাকাদজা (২/৩১), টেইলর (৩/৮৩), রাজা (৪/১২৮), চিগাম্বুরা (৫/১৪২), আরভিন (৬/১৯২), চাকাবা (৭/২০০), নিউম্বু (৮/২২১), পেনিয়াঙ্গারা (৯/২৩০), কামুঙ্গোজি (১০/২৪০)। বাংলাদেশ বোলিং : শাহাদাত ১৪-১-৪৫-১, আল-আমিন ৮-২-২২-০, সাকিব ২৪.৫-৫-৫৯-৬, তাইজুল ১৩-৩-৪২-১, যুবায়ের হোসেন ১৫-১-৫৮-২, মাহমুদুল্লাহ ১-০-২-০। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : তামিম ইকবাল ক মাসাকাদজা ব পেনিয়াঙ্গারা ৫ শামসুর রহমান ক চিগাম্বুরা ব পেনিয়াঙ্গারা ৮ মুমিনুল হক রান আউট (রাজা) ৫৩ মাহমুদুল্লাহ এলবিডব্লু ব রাজা ৬৩ সাকিব আল হাসান রান আউট (চাতারা) ৫ মুশফিকুর রহিম ক আরভিন ব পেনিয়াঙ্গারা ৬৪ শুভগত হোম ক চিগাম্বুরা ব কামুঙ্গোজি ১৪ তাইজুল ব পেনিয়াঙ্গারা ১৯ শাহাদাত হোসেন রান আউট (আরভিন) ০ জুবায়ের হোসেন অপরাজিত ৭ আল-আমিন ব পেনিয়াঙ্গারা ৯ অতিরিক্ত (লে বা-৬, ও-১) ৭ মোট (অলআউট, ৯৮ ওভার) ২৫৪ উইকেট পতন : ১/১০ (তামিম), ২/২৯ (শামসুর রহমান), ৩/৯২ (মমিনুল হক), ৪/১১৪ (সাকিব), ৫/১৭৮ (মাহমুদুল্লাহ), ৬/২০৯ (শুভগত হোম), ৭/২২৬ (মুশফিকুর), ৮/২২৬ (শাহাদাত হোসেন), ৯/২৪৪ (তাইজুল), ১০/২৫৪ (আল আমিন)। জিম্বাবুয়ে বোলিং : পেনিয়াঙ্গারা ২৩-৫-৫৯-৫, চাতারা ২২-১১-২৭-০, চিগাম্বুরা ১৪-৬-৩৪-০, নিউম্বু ১৫-১-৬৫-০, কামুঙ্গোজি ২১-৫-৫১-১, রাজা ৩-০-১২-১। জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস : সিবান্দা ক মুশফিকুর রহিম ব তাইজুল ইসলাম ১৪ চাকাবা ক শামসুর ব তাইজুল ১০ মাসাকাদজা ব শাহাদাত ৫ রাজা ক সাকিব ব তাইজুল ২৫ টেইলর অপরাজিত ৪৫ চিগাম্বুরা ক শুভাগত ব তাইজুল ০ আরভিন এলবিডব্লু ব তাইজুল ১০ নিউম্বু ক মুশফিকুর ব সাকিব ১ পেনিয়াঙ্গারা ক শামসুর ব তাইজুল ০ চাতারা এলবিডব্লু ব তাইজুল ৪ কামুঙ্গোজি ক মুশফিকুর ব তাইজুল ০ অতিরিক্ত ০ মোট (অলআউট, ৩৫.৫ ওভার) ১১৪ উইকেট পতন : ১/১৯ (সিবান্দা), ২/২৪ (মাসাকাদজা), ৩/৫৩ (রাজা), ৪/৫৮ (চাকাবা), ৫/৫৮ (চিগাম্বুরা), ৬/৯২ (আরভিন), ৭/৯৩ (নিউম্বু), ৮/১০৪ (পেনিয়াঙ্গারা), ৯/১১৪ (চাতারা), ১০/১১৪ (কামুঙ্গোজি)। বাংলাদেশ বোলিং : শাহাদাত ৮-২-২৫-১, সাকিব ১০-২-৪৪-১, তাইজুল ১৬.৫-৭-৩৯-৮, যুবায়ের হোসেন ১-০-৬-০। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : তামিম ইকবাল ক টেইলর ব চিগাম্বুরা ০ শামসুর রহমান ব পেনিয়াঙ্গারা ০ মুমিনুল হক ক এন্ড ব চিগাম্বুরা ০ মাহমুদুল্লাহ ব চিগাম্বুরা ২৮ সাকিব আল হাসান ক নিউম্বু ব চাতারা ১৫ মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ২৩ শুভগত হোম ক চাকাবা ব চিগাম্বুরা ০ শাহাদাত হোসেন ক টেইলর ব পেনিয়াঙ্গারা ১১ তাইজুল ইসলাম অপরাজিত ১৫ অতিরিক্ত (বা-৪, ও-৫) ৯ মোট (৭ উইকেট, ৩৩.৩ ওভার) ১০১ উইকেট পতন : ১/০ (তামিম), ২/০ (শামসুর), ৩/০ (মমিনুল), ৪/৪৬ (সাকিব), ৫/৬২ (মাহমুদুল্লাহ), ৬/৬২ (শুভাগত), ৭/৮২ (শাহাদাত)। জিম্বাবুয়ে বোলিং : চিগাম্বুরা ১০.৩-৪-২১-৪, পেনিয়াঙ্গারা ৮-২-৩০-২, চাতারা ৮-২-৩৪-১, কামুঙ্গোজি ৫-১-৭-০, রাজা ১-০-১-০, নিউম্বু ১-০-৪-০। ফল : বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী। সিরিজ : তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। ম্যান অব দ্য ম্যাচ : তাইজুল ইসলাম (বাংলাদেশ)।

শেয়ার করুন