আড়াই বছরেও শেষ হয়নি সহকারী জজ নিয়োগ–প্রক্রিয়া

0
34
Print Friendly, PDF & Email

প্রাথমিক বাছাই, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সময় কেটেছে দেড় বছর। চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয় চলতি বছরের শুরুতে। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও নিয়োগ পাননি উত্তীর্ণ ৮০ জন প্রার্থী। মূলত পুলিশ প্রতিবেদনের জন্য আটকে আছে গেজেট প্রকাশ। আর এভাবেই দুই বছরের দীর্ঘসূত্রতার মধ্যে পড়েছে সপ্তম ব্যাচের সহকারী জজ নিয়োগ-প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে অষ্টম ব্যাচের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আর নবম ব্যাচের প্রাথমিক পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘসূত্রতার কারণে এই দুই ব্যাচের নিয়োগ-প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এর আগে ষষ্ঠ ব্যাচের পুলিশ যাচাই প্রতিবেদন তৈরিতেও এক বছরের বেশি সময় লেগেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ হয় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে। তবে সহকারী জজ নিয়োগের সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন (জেএসসি)। জেএসসির কর্মকর্তারা বলছেন, নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতার কারণে কেবল যে উত্তীর্ণরাই ভোগান্তিতে পড়ছেন তা নয়, বিচারকাজও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ, তাঁরা যত কাজে আগে যোগ দিতে পারবেন, ততই মামলাজট কমবে। সপ্তম ব্যাচের সহকারী জজ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ ও পরের দুই ব্যাচে অংশ নেওয়া অন্তত ১৫ জন প্রার্থী এই দীর্ঘসূত্রতা কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, একেকটি পরীক্ষা ও নিয়োগ দিতে দুই থেকে আড়াই বছর লেগে যাচ্ছে। অথচ এই সময়ে লাখো মানুষের বিসিএস পরীক্ষা নিচ্ছে পিএসসি। সাত-আট হাজার প্রার্থীর পুলিশ যাচাইও হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সহকারী জজ নিয়োগ-প্রক্রিয়ায় দেখা যাচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা। জেএসসি সূত্রে জানা গেছে, সহকারী জজ পদে নিয়োগের জন্য সপ্তম জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় ২০১২ সালের ২৬ জুলাই। এতে আবেদন করেন চার হাজার ১৩৫ জন প্রার্থী। ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রিলিমিনারি পরীক্ষার দুই দিন পর ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৫৯৭ জন উত্তীর্ণ হন। ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তীর্ণদের লিখিত পরীক্ষা হয়। প্রায় ১০ মাস পর ১৯ ডিসেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৩ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছরের ৮ জানুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৮০ জন উত্তীর্ণ হন। ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আট মাস পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্তভাবে গেজেট না হওয়ায় তাঁরা কাজে যোগ দিতে পারছেন না। জেএসসির কর্মকর্তারা সবাই বিচারক। কাজেই তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কমিশন দ্রুতই প্রিলিমিনারি পরীক্ষা নিয়ে দু-তিন দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করছে। এরপর লিখিত পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন করেন বিচারক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। কর্মব্যস্ততার কারণে তাঁদের খাতা মূল্যায়ন করতে সময় লেগে যায়। প্রথম পরীক্ষকের পর খাতা আবার দ্বিতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। নম্বরের পার্থক্য ২০ এর বেশি হলে তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে যায়। এসব কারণে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশে সাত থেকে আট মাস লেগে যায়। কিন্তু বাকি কাজ খুব দ্রুতগতিতেই করে জেএসসি। কিন্তু পুলিশ যাচাই প্রতিবেদনের নামে মূল দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।’ জেএসসির ওই কর্মকর্তা বলেন, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর আট মাস আগেই সপ্তম ব্যাচের উত্তীর্ণ ৮০ জনের তালিকা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কেন এখন নিয়োগে দেরি হচ্ছে, সে বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ই ভালো বলতে পারবে। আইনমন্ত্রী ও আইনসচিব দুজনই এখন দেশের বাইরে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে গতকাল বুধবার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবু আহমেদ জমাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘৮০ জনের মধ্যে ৬৭ জনের পুলিশ যাচাই প্রতিবেদন এসেছে। বাকিদের জন্য সবার গেজেট আটকে ছিল। তবে আমাদের দ্রুত বিচারক নেওয়া দরকার। আমরাও চাই না দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হোক। তাই সিদ্ধান্ত হয়েছে, যাঁদের প্রতিবেদন এসেছে তাঁদের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করা হবে। আর বাকিদের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই তাঁদের গেজেট হবে। তবে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’

শেয়ার করুন