ঈদ বাজারে ভারতীয় পণ্যের আগ্রাসন

0
85
Print Friendly, PDF & Email

ঈদ মানে হচ্ছে আনন্দ এবং খুশী। সব ভেদাভেদ ভুলে সকলের সাথে আনন্দ এবং খুশী ভাগাভাগি করে নেয়াই হচ্ছে ঈদ। আর মাত্র কিছুদিন পরেই সারা দেশব্যাপী পালিত হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের সবথেকে বড় এবং অন্যতম প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ-উল-ফিতর। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজারে ক্রেতাদের সমাগম। পোশাক, জুতো এবং কসমেটিক্স ইত্যাদি পণ্যের দোকান এখন ক্রেতা-বিক্রেতার সোরগোলে মুখরিত। ধারণা করা হচ্ছে এবারের ঈদ বাজারে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি পণ্যের বিক্রি হবে। তবে প্রতিবারের মতো এবারও বাজারের সিংহভাগ অংশই দখল করে রেখেছে ভারতীয় পণ্য-সামগ্রী। এবারের ঈদ বাজারে কাপড়-বিতানগুলোতে অন্যান্য বারের তুলনায় সবথেকে বেশি বিক্রি হবে।

শুধুমাত্র ঢাকা মহানগরীতেই পুরো রমজান মাসজুড়ে কমপক্ষে ৮-১০ হাজার কোটি টাকার শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, জিন্স শিশুদের জামা-কাপড় ইত্যাদি পোশাক সামগ্রী বিক্রির সম্ভবনা আছে। এতো বিশাল অংকের অর্থের পুরোটার ভাগীদার ভারতীয় কাপড়। মানের দিক থেকে নিম্ন হওয়া সত্ত্বেও বাহারি রং ও বাহ্যিক চাকচিক্য থাকার কারণে এই সকল কাপড়ের চাহিদা বেশি। ভারতীয় বিভিন্ন নাটক ও বলিউডের নায়িকা বা ছবি বা গানের সাথে নাম মিলিয়ে এ সকল কাপড়ের নামও রাখা হচ্ছে যেমন : যেমন-মাসাককালি, চুনরি, আশিকি, ইশাকজাদে, ডিসকো চোলি, চিকনি চামেলি, আঙ্গারা পাখি, জিপসি, ইপসি, আনার কলি, ফ্লোরটাস, ছাম্মা কাছলো, অরণ্য ইত্যাদি। দেশের সকল বড়-ছোট কাপড়-দোকানের হালচাল একই। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় ঈদ বাজারগুলোর অধিকাংশ দোকানই দুই-তৃতীয়াংশ ভারতীয় কাপড়ে ঠাসা। অথচ দেশীয় কাপড় তুলনামূলক ভালো মানের হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর তেমন চাহিদা নেই। ভারতীয় কাপড়ের এমন রমরমা ব্যবসার কারন জানতে চাইলে বিভিন্ন দোকান মালিক জানান, ভারতীয় সিরিয়াল ও সিনেমা এ দেশের মানুষের উপর বেশ প্রভাব ফেলেছে। তাই পছন্দের বিভিন্ন সিরিয়াল ও সিনেমার নায়িকাদের মতো কাপড়ই ক্রেতাদের মূল চাহিদা। পাশাপাশি দেশিয় কাপড় থেকে ভারতীয় কাপড়ের দাম কম হওয়ায় এবং হরেক রকম রঙচঙা নকশা থাকায় সহজেই মহিলা ও শিশুরা এ সকল কাপড়ের প্রতি আকৃষ্ট হয়। কাপড়ের পাশাপাশি গহনা কসমেটিক্স ও জুতোর দোকানও ভারতীয় পণ্যে ভরপুর। সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি গহনা, কসমেটিক্স ও জুতোর বাজার আছে। যার পুরোটাই বিদেশি পণ্য বিশেষত ভারতীয় পণ্যের দখলে।

ভারতীয় পণ্যের একটি বড় অংশ আসে সীমান্তে চোরা-চালানকারীদের মাধ্যমে। অনেক জায়গায় বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসনের জড়িত থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে। জানা যায়, ঈদের দুই বা তিন মাস আগে থেকে সীমান্ত চোরা-চালানকারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। তাদের কাছ থেকেই সারা দেশের ব্যবসায়ীরা পোশাক ও অন্যান্য পণ্য কিনে থাকে। কোন প্রকার রাজস্ব দিতে হয় না বলে এ সকল পণ্যের দামও খুব কম হয়।

দোকান মালিক সমিতির মতে কাপড় বা পণ্য সামগ্রীর দাম বা মান নয় বরং ক্রেতারা আকৃষ্ট হয় ভারতীয় পণ্যের প্রচারের কারণে। এক গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে মূলত বাংলাদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য তাদের রুচি অনুযায়ী ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়াল ও বিজ্ঞাপন তৈরি করা হয়। দেশিয় পণ্যের প্রচারের অভাব, পণ্য ক্রয়ের অনিহা এবং দাম বেশি থাকায় ক্রেতারা ভারতীয় পণ্যের প্রতি বেশি করে ঝুঁকছে। অপর দিকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিম্নমানের দেশিয় কাপড় ভারতীয় কাপড়ের নাম দিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করে যার ফলে ক্রেতাদের মাঝে দেশিয় কাপড়ের প্রতি একটি ভ্রান্ত ধারণা জন্মে।

বাংলাদেশে বাজার এখন সম্পূর্ণ বিদেশি পণ্য বিশেষত ভারতীয় পণ্যের দখলে। ভারতীয় পণ্যের এই বাজার দখলের সব থেকে বড় কারণ হলো ভারতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসন। দেশিয় পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের রুচি যদি পরিবর্তন করা না যায় তবে অচিরেই দেশি পণ্য-সামগ্রী হারিয়ে যাবে।

শেয়ার করুন