কাজের মেয়ে মর্জিনা আপনাকে ক্ষমতায় বসাবে না

0
55
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপির বর্তমান অবস্থার জন্য দলটির অন্য কোনো নেতা নন, খোদ খালেদা জিয়া দায়ী বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আশরাফ খালেদাকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কাজের মেয়ে মর্জিনা আপনাকে হাত ধরে নিয়ে ক্ষমতায় বসাবে—এটা ভাবা অবান্তর। হুমকি-ধমকি না দিয়ে জনগণের কাতারে আসুন।’ আজ রোববার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে যুবলীগের ইফতার মাহফিলে তিনি এ মন্তব্য করেন। খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে আশরাফ বলেন, ‘আপনাদের এ অবস্থার জন্য আব্বাস না, খোকাও না, ফখরুল সাহেব না, দায়ী আপনি। কারণ, আপনি গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসেননি। কতবার কত কমিটি করলেন। দোষটা হলো ওদের আর পুণ্যি হলেন আপনি।’ আশরাফ বলেন, নেতাদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে খালেদা জিয়া সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবেন এমন বাস্তবতা এখন আর নেই। কোনো সম্মেলন না করে বিএনপির ঢাকা মহানগর কমিটি করায় খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘একটা সম্মেলনেও করেননি। ঢাকা মহানগর কমিটি করে আব্বাস সাহেবকে আহ্বায়ক করলেন। তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তাঁকে দিয়ে ঢাকা মহানগর কমিটি একবার নয়, ১০০ বার পরিবর্তন করলেও সরকারের কিছুই হবে না। কারণ, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা। আব্বাস সাহেব সারা দিন রাস্তায় বসে থাকলেও কিছু হবে না।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়, কথা হয়। তাঁদের অনেক দিন ধরে চিনি। তাঁরা এখন চরম হতাশ। আহ্বায়ক কমিটিতে নাম দিতে গেলে অনেকে ঢাকা ছেড়ে পালান।’ এ সময় উপস্থিত নেতা-কর্মীরা বিএনপির প্রতি তির্যক অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আশরাফ খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনার রাজনীতির স্ট্র্যাটেজি (কৌশল) পরিবর্তন না করে ঢাকা মহানগর কমিটি, স্থায়ী কমিটি পরিবর্তন করলে কোনো কাজ হবে না। আসলে তাঁদের কোনো দোষ নেই। সব দায়-দায়িত্ব আপনার ওপরই পড়বে।’ রাজনীতিতে আলোচনা চলবে মন্তব্য করে আশরাফ বলেন, ‘রাজনীতিতে আলোচনা চলবে। আমরা সেনাবাহিনী কিংবা অস্ত্র বাহিনী নই। যুদ্ধ করা আমাদের কাজ না। এখানে অস্ত্রের স্থান নেই। এই রোজার মাসে আপনার (খালেদা জিয়া) প্রতি আহ্বান, রাজনীতির পথ আলোচনার পথ, শান্তির পথ। হুমকি-ধমকি দেওয়া বন্ধ করেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আশা করি, ঈদের পর আন্দোলন না করে নিজেকে বিশ্লেষণ করবেন, আপনার আত্ম-উপলব্ধি হবে।’ বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে আশরাফ বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয়—রাত পোহালেই তাঁরা সরকারকে নামাবেন। বিএনপি ক্ষমতা দখল করবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কিছুই হবে না। আপনাদের বলে রাখি—আমরাও আপনাদের মতো ইফতার মাহফিল করে বক্তব্য রাখতে পারতাম। কিন্তু সেটা করি নাই।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তো ইফতার মাহফিল করেছেন, কই সেখানে তো তিনি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি। আর বিএনপির নেত্রী প্রতি ইফতারের আগে অশ্লীলভাবে সরকারের সমালোচনা করেছেন, যা অনভিপ্রেত। সরকারকে সহযোগিতার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে আসুন। তা না হলে আপনারা কিছুই করতে পারবেন না।’ আশরাফ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বক্তব্যের ধরন দেখলে মনে হয় তিনি দয়া করে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখছেন। তিনি রাত পোহালেই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবেন—এমন ভাব দেখান। মনে রাখবেন, এখন ১৯৭৫ সাল নয়। ওই সময় মারছিলেন বলে বারবার মারবেন। তাঁকে মারার সেই সুযোগ এখন আর নাই।’ আহ বেচারা ফখরুল! বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ‘বেচারা’ মন্তব্য করে আশরাফ বলেন, ‘ফখরুল সাহেবের কথা কী আর বলব—বেচারা, আহ! বেচারা। এখনো বেচারার কিছু হয় নাই। তিনি অত্যন্ত সুবোধ বালকের মতো ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছেন। তাঁর শিকড় কোথায়? মুসলিম লীগে। আপনি যতই চেষ্টা করুন না কেন তারেক জিয়া আপনাকে স্থায়ী মহাসচিব করছে না। ছেলের বয়সী তারেক জিয়ার চাটুকারিতা না করে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কীভাবে শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে বক্তব্য রাখুন। ছেলের বয়সী কারও চাটুকারিতা করবেন না।’ যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন