যানজটে অতিষ্ঠ পুরান ঢাকাবাসী

0
49
Print Friendly, PDF & Email

পুরান ঢাকার রাস্তায় বাস, প্রাইভেট কার, রিকশা, ভ্যানসহ নানা রকমের গাড়ির সমারোহ। দেখলে মনে হয় পুরো ঢাকা শহরের গাড়ি বুঝি গুলিস্তান থেকে সদরঘাট ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে এসে জড়ো হয়েছে।  গাড়িগুলো পার্কিং করে রাখা, না রাস্তা দিয়ে চলমান তা বোঝার কোনো উপায় থাকেনা।

যেখানে রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে নয়াবাজার মোড় পর্যন্ত হেঁটে আসতে সময় লাগে দুই থেকে তিন মিনিট সেখানে গাড়িতে যেতে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। একই রকম সময় অপচয় হয় নারিন্দা থেকে রায়সাহেব বাজার মোড়ে যেতে। ওই দুই সড়কের মতো পুরান ঢাকার আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একই অবস্থা। বিশেষ করে সদরঘাটের ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ অবস্থা। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ওই এলাকায় যানজট আরও বাড়বে বলে এলাকার লোকজন আশঙ্কা করছেন।

তবে ঢাকা দক্ষিণ ট্রাফিক পুলিশ বিভাগের দাবি, ঈদে পুরান ঢাকার যানজট কমাতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

কামরুল ইসলাম নামে এক বাসযাত্রী সদরঘাটের একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। থাকেন কারওয়ান বাজার এলাকায়। শীর্ষ নিউজকে জানান, কারওয়ান বাজার থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ভালোভাবেই যাতায়াত করা যায়। কিন্তু গুলিস্তান গেলে গাড়ি যেন আর চলে না। ফেরার সময় আবার সদরঘাট থেকেই পড়তে হয় ভয়াবহ যানজটে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা ট্রাফিক বিভাগ দক্ষিণের প্রধান খান মোহাম্মদ রেজওয়ান শীর্ষ নিউজকে বলেন, আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে পুলিশের সঙ্গে কমিউনিটি পুলিশ ও পাবলিক ওয়ার একসাথে কাজ করবে। ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে সদরঘাট পর্যন্ত কোনো প্রকার বাস ঢুকতে দেয়া হবে না। এতে করে যানজট কিছুটা হলেও কমবে। যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই কয়েক ধাপে ট্রাফিক পুলিশকে ভাগ করে দায়িত্বও দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্ক এলাকা থেকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে গুলিস্তান যেতে। আর বাবুবাজারসংলগ্ন মিটফোর্ড হাসপাতাল এলাকা থেকে গুলিস্তান অথবা যাত্রাবাড়ী যেতে সময় লাগে গড়ে ৫০ মিনিট। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হয় সব শ্রেণীর যাত্রীদের।

জহিরুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে নয়াবাজার মোড় পর্যন্ত হচ্ছে বিভিন্ন রকমের গাড়ির পার্স, হার্ডওয়ার, নানা রকমের দোকান পাট এবং সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়কের দুই পাশ জুড়ে হচ্ছে রড, সিমেন্ট, স্যানেটারি ও ইলেকট্র্রনিক্স এর দোকান। তাই রাস্তার দুই পাশে রিকশা ভ্যানসহ ট্রাক সব সময় লোড আনলোড করে। এতে রাস্তা বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

আবার বাসগুলো যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে, স্টপিজগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকাকে যানজটের জন্য দায়ী করছেন অনেকে। তবে এর পেছনে কিছু স্থানীয় যুবক এবং পুলিশের চাঁদা আদায় প্রধান একটি কারণ বলেও জানা গেছে।

রাজধানীর অন্য এলাকার চেয়ে একটু ভিন্ন চিত্র দেখা যায় পুরান ঢাকার যানজটের ক্ষেত্রে। সব সড়কেই চলছে রিকশা। এছাড়া অনেক সড়কের দুই পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। বিশেষ করে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক, ইংলিশ রোড। আর রায়সাহেব বাজার থেকে যাত্রাবাড়ী যাওয়ার পথে ধোলাই খাল সড়কটি যেন ট্রাক পার্কিং এর জায়গা। ফুটপাতসহ রাস্তার অর্ধেক দখল করে আছে ট্রাক। মানুষ হাঁটার মতো কোনো অবস্থা নেই। এ বিষয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও তা মানছেন না পরিবহন শ্রমিকরা।

এছাড়া পুরান ঢাকায় জেলা দায়রা জজ আদালত, ঢাকা জেলা পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক সদরঘাট শাখা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, মিটফোর্ড হাসপাতাল, সদরঘাট টার্মিনাল, কবি নজরুল, সোহরাওয়ার্দী কলেজসহ রয়েছে অনেক শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ কারণে দিন দিন বাড়ছে ওই এলাকার যানজট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, পুরান ঢাকার যানজট কমাতে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এছাড়া ঢাকা জেলা দায়রা জজ আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংক সদরঘাট শাখা স্থানান্তর ও পুরান ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে রিকশা চলাচল বন্ধ করা দরকার।

এদিকে যাত্রাবাড়ী থেকে সদরঘাট যাওয়ার বিকল্প সড়ক বেছে নিয়েছেন লেগুনা হিউম্যান হলার চালকেরা। এতে বেশি পথ ঘুরলেও সময় কম লাগে বলে দাবি করেন তারা। মামুন নামে এক লেগুনা চালক বলেন, ওই সড়কে যানজট বেশি থাকলে কাঠেরপুল, সূত্রাপুর এলাকা ও গিঞ্জি এলাকা ঘুরে সদরঘাট আসা-যাওয়া করা অনেক ভালো। এতে সময় কম লাগে ও যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় না।

শেয়ার করুন