কামরানের ফসল আরিফের ঘরে, বঞ্চিত অর্থমন্ত্রীও!

0
109
Print Friendly, PDF & Email

নগরীতে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে ২০০৯ সালে ২ কোটি ৮০ লাখ লিটার ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন পানি শোধনাগার প্রকল্প হাতে নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন। সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের হাত ধরেই ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। তবে এ কাজ শুরুর পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের।

কিন্তু আজ তারা কেউই এ কৃতিত্বের মালিক নন! বর্তমান সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীই সব কৃতিত্বের দাবিদার। গত বৃহস্পতিবার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টে ৫০ লাখ লিটার ধারণক্ষমতা দিয়েই পরিক্ষামূলক প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। তবে এতে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরানকে। অনেকটা চুপিসারেই প্রকল্পের উদ্বোধন করে তার সংবাদ ও ছবি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে।

এদিকে দুই মেরুর রাজনীতি করা সত্ত্বেও মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। তাদেরকে বেশ কয়েকবার একসঙ্গেও দেখা গেছে। এমনকি একসঙ্গে রিকশায় ঘুরতেও দেখা গেছে মুহিত-আরিফকে। অথচ মুহিতকে ছাড়াই আরিফের এমন কাণ্ডে নগরবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

জানা যায়, সিলেট নগরবাসীর বহু প্রতিক্ষিত কুশিঘাটের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ শুরু হয় ২০০৯ সালে। প্রথমদিকে অল্প বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু হলে পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রী আবুল আল আব্দুল মুহিত তা বাড়ান বলে জানা গেছে। প্রায় ১৩২ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প কাজ শেষ পর্যায়ে। কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ার আগেই হঠাৎ করে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সুইচ টিপে প্ল্যান্টের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে এই প্ল্যান্ট থেকে প্রতিদিন ৫০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

কার্যক্রম শুরুর পর এক প্রতিক্রিয়ায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশনের পানির সমস্যা সমাধানের প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে এটি। ঈদের আগেই এখান থেকে ১ কোটি লিটার পানি নগরীতে সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্ল্যান্টের অপর অংশের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হলে প্রতিদিন ২ কোটি ৮০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করা যাবে। এতে করে নগরীর প্রায় ৬০ ভাগ চাহিদা পূরণ করা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদী সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ৭টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল (উৎপাদক নলকুপ) স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দুটির কাজ শেষপর্যায়ে রয়েছে। এই ৭টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল তাড়াতাড়ি চালু হলে পানির সঙ্কট অনেকটাই সামাল দেয়া যাবে।’

মেয়র বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীও পানি সঙ্গট নিরসনের জন্য সিটি করপোরেশনকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।’ এমনকি পানি সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আরেকটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির জন্য ৩২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র জানান, এই প্রকল্পটি প্ল্যানিং কমিশনে অনুমোদনও হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত আরেকটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু করা হলে আরো প্রায় ৪ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করা যাবে।

শেয়ার করুন