মজাটাই নির্মম সত্যি হলো

0
37
Print Friendly, PDF & Email

ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত মালয়েশীয় উড়োজাহাজে ওঠার আগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে ছবি পোস্ট করেছিলেন হল্যান্ডের যাত্রী কর প্যান। এতে উড়োজাহাজের একটি ছবি ছিল। মজা করে লিখেছিলেন, যদি উড়োজাহাজটি হারিয়ে যায়!
কর প্যানের সেই মজাই সত্যি হয়ে গেল। তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছে, কেউ জানে না।

দুর্ঘটনার পরে ফেসবুকে কর প্যানের বন্ধু অ্যালিসিয়া দে বোয়ের এই ছবিতে মন্তব্য করেছেন, ‘এটা সত্যি হতে পারে না।’ গতকাল বৃহস্পতিবার কর প্যানের দেওয়া এই ছবিটি শেয়ার হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি বার।

ওই ছবির পাশেই কর প্যানের বন্ধুরা বান্ধবী নীলতেজ টলের সঙ্গে তোলা তাঁর একটি ছবি দিয়েছেন। সেখানে ভালোবাসার একটি সাদা গোলাপও দেওয়া হয়েছে। তবে ওই উড়োজাহাজের ওই ফ্লাইটে কর প্যানের সঙ্গে টল ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। ছবিতে পিটার বুটসম্যান নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘দুজনের এমন সুন্দর জীবন কীভাবে শেষ হয়ে গেল! তোমরা যেখানেই থাকো, ভালো থেকো।’

শুধু ফেসবুক নয়, পুরো হল্যান্ডই এখন কাঁদছে। হল্যান্ডের আমস্টারডামের শিফল বিমানবন্দরে এখন কেবলই কান্না। বেদনাহত স্বজনদের ভিড়। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত মালয়েশিয়ার উড়োজাহাজে হল্যান্ডের ১৫৪ জন নাগরিক ছিলেন। তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, জানেন না এই স্বজনেরা। উড়োজাহাজটি এই সিফল বিমানবন্দর থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে যাচ্ছিল।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পরে হল্যান্ডের জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। দূতাবাসগুলোতেও পতাকা অর্ধনমিত রয়েছে।

হল্যান্ডের রাজা উইলিয়াম আলেকসান্দর এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ভয়ংকর এই খবর শুনে আমি অত্যন্ত শোকাহত।’ তিনি নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
হল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রাট জানান, ভয়াবহ এই বিপর্যয়ে তিনি গভীরভাবে শোকাহত। দেশটির আইনমন্ত্রী আইভো ওপসটেলটেন বলেন, দুর্ঘটনার যে ছবি তিনি দেখেছেন তা ভয়াবহ।

মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুইব গর্টার শিফলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, চাইলে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের স্বজনকে ইউক্রেনে দুর্ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেছেন, উড়োজাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, দুর্ঘটনায় কারও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই।

১৯৭৭ সালে ক্যানারি দ্বীপে বিমান দুর্ঘটনায় হল্যান্ডের ২৩৮ জন নাগরিক নিহত হন।

শেয়ার করুন