মাঠে নামছেন জয়

0
56
Print Friendly, PDF & Email

দলের ভঙ্গুর অবস্থা ও দলের প্রতি জনগণের অনাস্থার বিষয়টি উপলব্ধি করে দলকে চাঙ্গা করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়ে শীগ্রই মাঠে নামছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পুত্র ও তরুণ নেতা সজিব ওয়াজেদ জয়। দলের অবস্থা বেগতিক দেখে দলকে নতুন করে জনগণের আস্থারস্থল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেছেন জয়। দলের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার জন্য শীগ্রই সারাদেশ সফর করবেন জয়। সফরের মূল উদ্দেশ্য হবে তৃণমূল আওয়ামীলকে উজ্জীবিত করা।

শুক্রবার রাজধানীর একটি সেমিনারে জয় দলের হয়ে বিভিন্ন কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘যেহেতু দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংসদ সদস্যরা দেশের উন্নয়নে বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাই তাদের পক্ষে দলের সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখভাল করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই আমি এমন কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং কাজ করছি যাতে করে দল আপনা আপনি চলতে পারে’। তৃণমূল পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করার জন্য আগামী সাড়ে চার বছর সারা দেশ সফর করার ঘোষণা দিয়েছেন সজিব ওয়াজেদ জয়। পাশাপাশি প্রতিটি জেলা-উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ডাটাবেজ তৈরি করার বিষয়েও নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন জয়। যাতে করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে সহজেই যোগাযোগ করে দলের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়।

সকলেই জানে দলীয় কোন্দল, দুর্নীতি, পদ গ্রহণের জন্য দৌড়াদৌড়ি, আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত হওয়ায় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে গিয়েছে। পাশপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কাউন্সিল আয়োজন করতে ব্যর্থ হওয়ার দলটির নেতৃত্বে সমস্যা দেখা দিয়েছে। দলীয় ব্যর্থতার অন্যতম চিত্র উঠে এসেছে ২৫, ২৬ ও ২৭ জুন তারিখে যখন আওয়ামী লীগের তরফ থেকে ৬৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি খুবই কম লক্ষ্য করা গেছে। নেতারা কর্মীদের বুঝিয়ে শুনিয়ে দলীয় অনুষ্ঠানে যোগদান করাতে ব্যর্থ হয়েছেন। দলীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পরিবর্তে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা পয়সা উপার্জন করা, পদ গ্রহণ করা, প্রভাব বিস্তার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

দলীয় সূত্র বলছে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন বিশেষ করে স্বেচ্ছাসবক লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতী লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, সম্মিলিত আওয়ামী সমর্থক লীগের দলীয় কার্যক্রম নেই বললেই চলে। শুধুমাত্র নামেই এই অঙ্গ সংগঠন টিকে আছে। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দলের নাম ভাঙ্গিয়ে পয়সা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সূত্র বলছে ২৫ জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সজিব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু নেতা-কর্মীদের স্বল্প উপস্থিতিতে অনেকটা বিব্রত হয়ে জয় অনুষ্ঠানে যোগদান করেননি। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও স্বল্প সংখ্যাক দলীয় নেতা-কর্মী ও হাতে গোনা কিছু সাংবাদিক উপস্থিত থাকায় সাজেদা চৌধুরীও বিব্রত হয়ে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শুধুমাত্র ২৭ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকায় চোখে পড়ার মত নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সাথে কথা বললে তারা কনিষ্ঠ নেতাদের দোষারোপ করেন। এই বিষয়ে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের সাথে কথা হয়। দলীয় নেতা-কর্মীদের কম উপস্থিতির জন্য তিনি শহর কমিটিগুলোর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া ও সময়মত কাউন্সিল না করাকে দায়ী করেন। তার মতে অনেক শহর কমিটির বিগত ১০ বছরেও গঠন করা হয়নি। পুরাতন কমিটি দিয়ে শহর কমিটিগুলো ধুঁকিয়ে ধুঁকিয়ে চলছে। তিনি বলেন, ‘দল যদি কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে তবে সরকারকে আমলাতন্ত্রের উপর নির্ভরশীল হতে হবে। আর সকলেই জানেন আমলা নির্ভর সরকার নিশ্চিতভাবে এগিয়ে যেতে পারবে না’।

দলের নেতা-কর্মীদের অনুপস্থিতি, কার্যক্ষমতা দুর্বল হওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা শহর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এমএ আজিজের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘নতুন শহর কমিটি নাম ঘোষণা করা হলে দলের কার্যক্রম দ্বিগুণহারে বৃদ্ধি পাবে’। এমএ আজিজ জানান আগামী মাসের মধ্যে হয়ত শহর কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। দলীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে নেতা-কর্মীদের কম উপস্থিতির বিষয়ে এমএ আজিজ দোষারোপ করেন প্রচার বিভাগকে। তার মতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠানের বিষয়ে নেতা-কর্মীদের ভালমত জানানো হয়নি। সেজন্যই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি কম ছিল।

শেয়ার করুন