বেশি কদর ‘ফিগার’ বেনারসির

0
45
Print Friendly, PDF & Email

ঈদ সামনে রেখে নাটোরের লালপুর উপজেলার ধানাইদহ পাড়ার ঐতিহ্যবাহী বেনারসিপল্লির তাঁতিরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা। বেনারসিপল্লিতে সবচেয়ে বেশি কদর ‘ফিগার’ বেনারসির। শাড়িটি তৈরি হয় লালপুরে। পাইকারি দাম চার হাজার ৫০০ টাকা।

শুধু ‘ফিগার’ নয়, ঢাকাসহ সারা দেশে যথেষ্ট কদর রয়েছে বারকেট, নেট, জানিবাহার, টাইটনিক্স শাড়িরও। খুচরা বাজারে একেকটি শাড়ি বিক্রি হয় আট থেকে ১৫ হাজার টাকায়। বেনারসিপল্লির প্রবীণ কারিগর সানাউল্লা মিয়া বলেন, ‘২০ বছর আগে ধানাইদহ পাড়ার জাফর মৌলভী প্রথম নিজ বাড়িতে তাঁত বসিয়ে বেনারসি তৈরির কাজ শুরু করেন। উন্নত মান ও তুলনামূলকভাবে দাম কম হওয়ায় শাড়ির কদর বেড়ে যায়। এক এক করে ৯৫টি তাঁত বসে। এক-এগারোর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পর বেচাকেনা কমে যায়। আমাদের অনেকেই তাঁত বিক্রি করে অন্য পেশায় চলে যান। পরে পুঁজির অভাবে তাঁরা আর তাঁত বসাতে পারেননি।’

কারিগর সানাউল্লা মিয়া আরও বলেন, বর্তমানে এখানে ১৭টি তাঁতে উন্নত মানের বেনারসি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। একটি শাড়ি তৈরিতে একজন কারিগরের তিন থেকে চার দিন সময় লাগে এবং এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার টাকার সুতার প্রয়োজন হয়। প্রতি শাড়ির জন্য তাঁরা মজুরি পান এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। একটি শাড়ি দুই হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ৫০০ টাকা হিসাবে পাইকারি বিক্রি হয়। লালপুরে প্রস্তুতকৃত শাড়ির মধ্যে ফিগার সবচেয়ে দামি। এর পাইকারি মূল্য চার হাজার ৫০০ টাকা। মহাজনেরা সরাসরি এখান থেকে শাড়ি কিনে বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করেন। তাঁরা নিজেদের কোম্পানির নামের লেবেল সেঁটে খুচরা বাজারে ছেড়ে দেন। খুচরা বাজারে এক একটি শাড়ি বিক্রি হয় আট থেকে ১৫ হাজার টাকায়।

শেয়ার করুন