যে কারণে হেরেছে আর্জেন্টিনা

0
49
Print Friendly, PDF & Email

টান টান উত্তেজনা! স্নায়ুর ওপর অত্যাচার চলল ১১৩ মিনিট। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মুহুর্মুহু কেঁপে উঠল দুই দলের রক্ষণভাগ। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনার আক্রমণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

শেষমেশ ম্যাচ মারিও গোটশের দারুণ এক গোলে শিরোপা থেকে এক পা দূরে থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করতে হলো নীল-সাদাদের। একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করার মাশুল গুনেছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের প্রথম দিকে দারুণ সব প্রতি-আক্রমণে জার্মানদের এলোমেলো করে দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। গতিশীল জার্মানদের যেমন আটকে রেখেছিল ডেমিচেলিস-মাচেরানোদের রক্ষণদুর্গ, তেমনি জার্মান রক্ষণে ফাটল ধরিয়েও ফরোয়ার্ডরা বারবার পৌঁছে গিয়েছিল গোলের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু সুযোগগুলো অসাধারণ হলেও শেষটা ঠিকমতো করতে পারেননি কেউ। কিছু সুযোগ হাত ফসকেছে দৃষ্টিকটুভাবে।

টনি ক্রুসের ভুলে ম্যানুয়েল নয়্যারকে প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন হিগুয়েইন। বলতে গেলে ফাঁকা পোস্টেও গোল দিতে পারেননি এ ফরোয়ার্ড। এটি ছাড়াও হিগুয়েইন হাতছাড়া করেছেন আরও কয়েকটি সুযোগ। একবার তো জালে বল জড়ানোর পর অফসাইডের বাঁশিই বেজে উঠল।

চমত্কার সব সুযোগ যেমন তৈরি করেছেন, আবার অনেকগুলো হারিয়েছেন খোদ লিওনেল মেসি। দুটি শট বারপোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে, ওপর দিয়েও বেরিয়েছে দুটো। গোটশের গোল খাওয়ার পরও দারুণ এক হেডে সমতায় ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। বল চলে গেল বারের সামান্য ওপর দিয়ে। এ ম্যাচেও আগুয়েরো নিষ্প্রভ। ফিনিশিংয়ে ভীষণ ব্যর্থ ম্যানচেস্টার সিটির এ ফরোয়ার্ড। তবে অতিরিক্ত সময়ে বদলি প্যালাসিওর নষ্ট করা সুযোগটিও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের নিঃশ্বাস ভারী করবে বহুদিন।

পরাজয়ের কারণ হিসেবে গোলের সুযোগ কাজে না লাগাতে পারাকে দায়ী করছেন কোচ আলেসান্দ্রো সাবেলা, ‘আমরা অনেকগুলো সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু সুযোগগুলোর প্রতি যথেষ্ট সুবিচার করতে পারিনি।’ তবে সাবেলা মানছেন, শতভাগ উজাড় করেই খেলেছে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা।

দিনটিই যেন আর্জেন্টিনার ছিল না। নিয়তি ছিল জার্মানদের জন্যই নির্ধারিত। নইলে প্রতিবার গোলের সুযোগ সৃষ্টি করেও কেন কাছ থেকে ফিরে আসবে আর্জেন্টিনা? কেনই বা বিশ্বজয়ীর তকমাটাও হাতের কাছে এসেও ফসকে যাবে? হিগুয়েইন, প্যালাসিও কিংবা মেসিকে এ জ্বালা বয়ে বেড়াতে হবে বহুদিন। একটা শট, মাত্র একটা শট ঠিকঠাক হলেই ইতিহাসটা অন্য রকম হলেও হতে পারত! তবে জার্মানরাও প্রমাণ করেছে, ফুটবল কেবল সুযোগ তৈরি নয়, সুযোগ কাজে লাগানোর খেলা। সুযোগকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি।

শেয়ার করুন