রোজ কিয়ামতেও তত্ত্বাবধায়ক মানব না

0
41
Print Friendly, PDF & Email

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে লাভ কী? তাদের সঙ্গে কিসের আলোচনা? রোজ কিয়ামতের দিনও তত্ত্বাবধায়কের দাবি মানব না।’

রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ গণ-আজাদী লীগের সভাপতি হাজী আব্দুস সামাদের স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

নাসিম বলেন, ‘আমাদের সরকারকে যারা এতোদিন মানতো না তারাও এখন মানছে। মানুষ শান্তিতে আছে এখন না মেনে উপায় নেই।’    

বিএনপি যে ঈদের পর আন্দোলন করবে। ঐ ঈদই আর কোনো দিন আসবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দোষারোপের রাজনীতি বন্ধ করুন। ট্রেন মিস করেছেন। থাইল্যান্ডের মতো অবস্থা হয়েছিলো। মার্শাল ল আসেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচন হয়েছে। বিএনপির এখন একটাই সুযোগ আছে। ২০১৯ সালের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া। সে নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে।’

সমুদ্রসীমার রায় নিয়ে সমালোচনা করায় বিএনপিকে কড়া ভাষায় জবাব দেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘ওরা (ভারত) কি ঘাস কাটে যে ছয় হাজার মাইল পাবে না। আমরা পেয়েছি ১৯ হাজার, ওরা ছয় হাজার পেতেই পারে।’

তিনি বলেন, ‘এ দুনিয়া হচ্ছে সমঝোতার দুনিয়া। টেবিলে বসে আলোচনার দুনিয়া। ওনারা খালি সমস্যা জিইয়ে রাখেন। ভারত বিরোধী স্লোগান দিয়ে রাজনীতি করেন।’

আওয়ামী লীগের এ নেতা বলে, ‘জিয়াউর রহমানের সময়ই তালপট্টি চলে গেছে। ঐ সময়ে পার্লামেন্টে তারা কি আলোচনা করেছেন তা দেখলেই পাওয়া যাবে। এটা এখন তাদের শোনানো দরকার। তারা তো দুই বার ক্ষমতায় ছিলেন। কই আদালতে তো যাননি। আদালতে যেতে মেরুদণ্ড লাগে।’

নাসিম বলেন, ‘৫ জানুয়ারির পর বিএনপি দেউলিয়া হয়ে গেছে। তাদের সঙ্গে আছে শুধু দিলীপ বড়ুয়ার একটি অংশ। এতেই তারা খুশি।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি বেসামরিক বিমান মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমাদের দেশে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার যে বিস্তার ঘটেছে, হাজী আব্দুস সামাদ ধর্মপ্রাণ হয়েও অসাম্প্রদায়িকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সরকার পতনের হুমকি দিচ্ছেন। বেগম খালেদা জিয়া আন্দোলন করার নৈতিক অধিকার রাখেন না। ’

তিনি বলেন, ‘আগে কৈফিয়ত দিন। মাফ চান। যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ছাড়ুন। তারপর আন্দোলন করুন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে বাধা দেই না। কিন্তু আন্দোলনের নামে নাশকতা করলে একচুলও ছাড় দেব না।’

হাজী আব্দুস সামাদের ছেলে ব্যারিস্টার এ এস এ বারীর সভাপতিত্বে স্মরণসভায় অন্যদের মধ্যে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, মহাজোটের শরীক ১৪ দলের নেতা বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য আনিসুর রহমান মল্লিক, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, ঐক্য ন্যাপের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক, গণ-আজাদী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসকে সিকদার প্রমুখ বক্তব্য দেন।

হাজী আব্দুস সামাদ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরীক ১১ দলের শীর্ষ নেতা ছিলেন। তিনি গত ১৩ জুন ৭০ বছর বয়সে মারা যান।

শেয়ার করুন