ঈদের পর কী ঘটবে রাজনীতিতে?

0
86
Print Friendly, PDF & Email

ঈদের পর রাজনীতিতে কী ঘটতে যাচ্ছে তা নিয়ে জিজ্ঞাসার কমতি নেই সাধারণ মানুষের। অবশ্য বড় দুই রাজনৈতিক দল ও জোটের নেতারা ঈদ পরবর্তী আন্দোলন সংগ্রাম নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়ে আসছেন।

সরকারি দল বলছে, আন্দোলন করার শক্তি নেই বিএনপির। আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট বলছে, ঈদের পর একটি ফাইনাল গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগোবে তাদের জোট। এ বিষয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতিও রয়েছে বলে দাবি করছেন জোটের একাধিক নেতা। কী ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে তা না বললেও ২০ দলীয় জোটের নেতারা বলছেন, এবার জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই মাঠে নামবে সরকারবিরোধী এ জোট। তবে ২০ দলীয় জোটের আন্দোলন সফলতার মুখ দেখতে কতদিন সময় লাগবে এ বিষয়ে দিনক্ষণ না বললেও বিরোধীজোটের নেতারা বলছেন, এবার আর সরকারকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা না করা পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল।

এদিকে বিএনপি’র আন্দোলন সংগ্রামের ঘোষণাকে আমলেই নিচ্ছে না সরকার পরিচালনাকারী মহাজোট। তারা বলছেন, বিএনপি সব সময়ই আন্দোলনের কথা বলছেন, কিন্তু জনগণের সম্পৃক্ততা না থাকার কারণে কখনোই চূড়ান্ত পর্যায়ে যেতে পারছেন না তারা। আর সরকার জনগণের উন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছে বলেই এখনো দেশের সব মানুষ সরকারের পক্ষেই ঐক্যবদ্ধ।

জাগপার সভাপতি ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা শফিউল আলম প্রধান শীর্ষ নিউজকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পর যে আন্দোলন কর্মসূচির কথা বলেছেন তা প্রতীকী অর্থে বলেছেন। কোনো টাইম দিয়ে আন্দোলন হয় না। অতীতেও সময় বেঁধে কোনো আন্দোলন হয়নি। ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলনের অর্থই হচ্ছে ২০ দলের রাজপথে দৃঢ় অবস্থান নেওয়া।

তিনি বলেন, ‘ইতিহাস বলে’ কোনো নেতা, দল, বা জোটের ইচ্ছায় ইতোপূর্বে কোনো আন্দোলনে সফলতা আসেনি। আন্দোলন সফল করতে হলে দরকার জনগণের অংশগ্রহণ। যে আন্দোলনে যত বেশি জনসম্পৃক্ততা থাকবে সে আন্দোলন তত তাড়াতাড়ি সফল হবে। সে জন্য এবার যে আন্দোলন হবে তাতে জনগণের সম্পৃক্ততা থাকবে অতীতের যেকোনো সময়ের চাইতে বেশি।

তিনি বলেন, জনগণ তাদের ভোটে নির্বাচিত সরকার চায়, সে কারণে তারা এ সরকার পতনের আন্দোলনে রাজপথে থাকবেন।

প্রধান বলেন, ২০ দলীয় (তৎকালীন ১৯ দল) জোট গত ৫ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনে না যাওয়ায় প্রমাণ হয়েছে এ জোট সরকারের অবৈধ সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেয়নি। ২০ দল আন্দোলনে আছে এবং নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকবে সরকারবিরোধী এ জোট।

প্রধান বলেন, আন্দোলন মানে জ্বালাও-পোড়াও নয়। ২০ দল জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে চায়। কোনো ধরনের সহিংসতা চায় না। একটি চূড়ান্ত গণঅভ্যূত্থান না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের পথেই থাকবে এ জোট।

তিনি বলেন, অতীতে আন্দোলন সংগ্রামের বিষয়গুলো মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কীভাবে এটি সফল করতে হয় সেই পরিকল্পনা নিয়েই সামনে দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু শীর্ষ নিউজকে বলেন, দেশের মানুষ এ সরকারকে আর এক মুহূর্তের জন্যও চায় না। ভোটারবিহীন একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারকে বরদাস্ত করবে না দেশের মানুষ। তারা তাদের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার দেখতে চায়। সে কারণে আগামী দিনে বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকার পতনের আন্দোলনে যাবে। বিএনপি যে কর্মসূচিই দেবে সাধারণ মানুষ তাতে অংশ নেবে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান সরোয়ার শীর্ষ নিউজকে বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ছিল একটি নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। সরকার বলেছিল, এটি সংবিধান রক্ষার নির্বাচন। কিন্তু যে সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয় না, জনগণও সেই সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।

তিনি বলেন, বিএনপি সব সময়ই আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে ছিল, এখনো আছে। এক্ষেত্রে সরকার সোজাপথে না আসলে রাজপথেই এর সমাধান হবে।

তিনি বলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে আর্ন্তজাতিক বিশ্ব সমর্থন দেয়নি। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেয়নি। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলো জনগণের অংশগ্রহণে নতুন নির্বাচন দেওয়ার জন্য সরকারকে বলে আসছে। দেশের ৯৫ ভাগ মানুষও এ সরকারকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। সেক্ষেত্রে জনগণের ইচ্ছার কথা বিবেচনায় এনে সরকারের উচিত ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া।

রাজনৈতিক সব ধরনের সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলেই সেটা সরকারের জন্য কল্যাণের উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপি ও তাদের রাজনৈতিক মিত্ররা “আলোচনা ও আন্দোলন” দুটোর জন্যই প্রস্তুত। সরকারের ইচ্ছার উপরই নির্ভর করবে কোন পথে যাবে সরকারবিরোধী এ জোট।

এদিকে বিএনপিকে আন্দোলন কর্মসূচি পরিহার করে সরকারের কাজে সহযোগিতা করতে বলছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বলছেন, আন্দোলন না করে বিএনপিকে ধৈর্য্য ধরতে হবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। এরপর নিয়ম অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। জনগণ  যে দলকে চাইবে সেই দলই ক্ষমতায় আসবে।

আওয়ামী লীগে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিভিন্ন সভা সেমিনারে একাধিবার বলেছেন, বিএনপিকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ধৈর্য্যের সঙ্গে অপেক্ষা করতে হবে।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন বলেছেন, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা কোনো নৈতিক অধিকার বিএনপির নেই। কারণ, বিগত দিনে এ দলটি জনগণের জন্য কোনো কাজ করেনি।

যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক অপু উকিল শীর্ষ নিউজকে বলেন, জনগণ অন্য রাজনৈতিক দলগুলো ছেড়ে বিএনপির পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো কর্মসূচি বা মেসেজ নেই বিএনপিতে। জনগণের কল্যাণে তারা রাজনীতি করলে বিএনপি জনগণকে তাদের পাশে পেতো। বিএনপি জনগণের সামনে নতুন কিছু তুলে ধরতে পারেনি। এ জন্য বিএনপির সঙ্গে জনগণ নেই।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির অফিসের স্থায়ী বাসিন্দা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ যুব নেত্রী বলেন, রুহুল কবির রিজভী ছাড়া বিএনপি অফিসে আর কোনো নেতাকর্মীরা যাচ্ছে না। এরা জনগণের কাছ থেকেই নয়, নেতাকর্মীদের থেকেও বিচ্ছিন্ন।

তিনি বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৫০টি মামলা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী (তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা) শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়েছে। কিন্তু ২০১৩ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেয়নি।

অপু উকিল বলেন, গত ২০১৩ সালের পর বিভিন্ন জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির কারণেই বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। এখন বিএনপি কোনো সহিংস কর্মসূচি দিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না। এমনিতেই আওয়ামী লীগের নেতারা লন্ডনে বাস করা (বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিভিন্ন বক্তব্য) মিথ্যাচার নিয়ে ক্ষুব্ধ। আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে কোনো মিথ্যাচার ও সহিংসতা মানবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন অপু উকিল।

শেয়ার করুন