বেতন নিয়ে গার্মেন্টে অস্থিরতা

0
63
Print Friendly, PDF & Email

আসন্ন ঈদের আগে শতভাগ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের প্রায় এক হাজার কারখানায় অস্থিরতা ও বিক্ষোভের আশঙ্কা করছে মালিক পক্ষ। শ্রমিক পক্ষ বলছে, তিন-চার মাস কিছু কারখানার শ্রমিকরা বেতন না পেয়ে বিক্ষোভ করেছে। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকরা বেতন ও বোনাস না পেলে তাদের ক্ষোভের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ হতেই পারে। গতকালও রাজধানীর খিলগাঁওয়ে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। তাই ২০ রমজানের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের আহ্বান সরকার ও শ্রমিক পক্ষের। এ বিষয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব মিখাইল শিপার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘১৫ জুলাই আমরা সরকার, মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। তবে বিজিএমইএ আমাদের যে এক হাজার কারখানার কথা বলেছে, তা সঠিক নয়। তবে পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এস এম মান্নান কচি বলেন, অনেক গার্মেন্ট মালিক শ্রমিকদের যথাসময়ে বেতন-বোনাস দিতে পারবে না। এমন কারখানাগুলোয় বিজিএমইএর ১০-১২টি টিম মনিটর বা পর্যবেক্ষণ করছে। এ টিম প্রায় এক হাজার কারখানার তালিকা করেছে। এসব কারখানায় অস্থিরতা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।তবে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার বলেন, প্রতিবারই ঈদের সময় মালিকরা এমন গাফিলতি করেন। এখনো অনেক কারখানায় বেতন-বোনাস বাকি আছে। গত তিন-চার মাসে বেশকিছু কারখানার শ্রমিক বেতন না পেয়ে বিক্ষোভ করেছে। তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যে শ্রমিকরা বেতন-বোনাস না পেলে তাদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হওয়ার আশঙ্কা করেছেন এই শ্রমিকনেত্রী। শ্রম মন্ত্রণালয় ও বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে ঈদ হওয়ায় মালিকদের দুই মাসের বেতন-বোনাসের চাপ একসঙ্গে পড়বে। এ অবস্থায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করা নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। আর যেসব কারখানা সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করে, তাদের অবস্থা আরও নাজুক। এ অবস্থায় গার্মেন্ট সেক্টরের যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। বেতন-বোনাস নিয়ে অসন্তোষ মোকাবিলায় বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরী, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জকে বিশেষ নজরদারিতে আনা হয়েছে। যথাসময়ে বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের যাতে কেউ উসকে দিতে না পারে সেদিকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কেউ সে ধরনের চেষ্টা করলে তাকে আইনের আওতায় আনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে মালিকরা টালবাহানা করেন। তাই শ্রমিকরা ঈদ উৎসব ঠিকমতো উদযাপনও করতে পারে না। সে রকম হলে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামবে। এর দায় মালিকদেরই দায়িত্ব নিতে হবে। বিজিএমইএ জানিয়েছে, রানা প্লাজা ধস, জিএসপি সুবিধা স্থগিত ও চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যবসায়িক মন্দায় সময় কাটাচ্ছেন গার্মেন্ট মালিকরা। শ্রমিকদের বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেক কারখানা ভবন ঝুঁকিপূর্ণ শনাক্ত হওয়ার কারণে উৎপাদনে আসতে পারছে না। এ অবস্থায় অনেক মালিক ঈদ বোনাস তো নয়ই, মূল বেতন দিতেই গড়িমসি করছেন। অনেক মালিক আবার বোনাস বাদে বেতন দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিজিএমইএর সদস্যবহির্ভূত প্রায় ১২০০ কারখানার মধ্যেও বেশকিছু কারখানার বেতন-বোনাস পরিশোধে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে বিজিএমইএ সদস্যভুক্ত ৪ হাজার ৩০০ কারখানার মধ্যে চালু রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০। এর বাইরে বাংলাদেশ নিটওয়্যার মেনুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সদস্যভুক্ত কারখানা রয়েছে আরও প্রায় ১ হাজার। গত ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বর্ধিত নতুন মজুরির হিসাবে এসব কারখানাকে ঈদ বোনাসও দিতে হবে।

শেয়ার করুন