‘মাইক্রোবাসে উঠতে গিয়ে দেখি বাবার খুনিরা বসা’

0
392
Print Friendly, PDF & Email

গাজীপুর সিটি করপোরশনের কাউন্সিলর পারভীন আক্তার বলেছেন, ‘২০১১ সালে যারা আমার বাবাকে খুন করেছিল তারা মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার জন্য আমাকে অপহরণ করে। আমাকে উদ্ধার করা হলেও বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে রবিবার বেলা সাড়ে ১২টায় প্রেস ব্রিফিংকালে এ সব কথা বলেন সিটি কাউন্সিলর।

কাউন্সিলর পারভীন আক্তারকে শনিবার রাতে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থানার আউসপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। সেখান থেকে তাকে রাতেই গাজীপুরে আনা হয়। রবিবার সকালে গাজীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে গাজীপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দুপুর ১২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, গোলাম আজাদ খান, জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম কামরুজ্জামান ও গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন ও পরিদর্শক আলম চাঁদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

কাউন্সিলর পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়াকে নৃশংসভাবে হত্যা করে পানিশাইল এলাকার প্রভাবশালী দুলাল মিয়া গ্রুপ। আমি মামলার বাদী হলে আসামি আমাকে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এ ব্যাপারে আমি বিভিন্ন সময় থানায় ছয়টি জিডি করি।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে এক নারী তার দাম্পত্য কলহ মিটানোর জন্য সহযোগিতা চেয়ে পারভীনকে কল করেন। পরদিন পারভীন আক্তারকে গাজীপুরের জিরানীবাজার এলাকায় রহিম আফরোজ ব্যাটারি কারখানার পাশে যেতে অনুরোধ করেন। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে তিনি সেখানে যাওয়ার পর ওই নারীর সঙ্গে দেখা হয়। এ সময় ওই নারী তার কাছে কিছু স্বর্ণালঙ্কার আছে, এগুলো রেখে তাকে ১০-১৫ হাজার টাকা দিতে বলেন। পারভীন রাজি হলে ওই নারী তাকে নিয়ে জিরানীবাজার এলাকায় যান। জিরানীবাজার যাওয়ার পর স্বর্ণালঙ্কার হস্তান্তরের জন্য পারভীরকে মাইক্রোবাসে উঠতে বলেন। মাইক্রোবাসে উঠতে গিয়ে পারভীন মাইক্রোবাসের ভিতরে তার বাবার খুনের মামলার আসামি দুলাল হাজী, জুয়েল ও সোহেলসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে বসে থাকতে দেখেন। তাদের দেখে পারভীন ফিরে যেতে চাইলে তাকে ঝাপটে ধরে গাড়িতে তুলে নিয়ে মাইক্রোবাসটি সাভারের দিকে রওয়ানা দেয়। একপর্যায়ে দুলাল হাজীসহ অন্যরা তার নাকে-মুখে রুমাল চেপে ধরেন। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।

তিনি জানান, ওই দিন (শুক্রবার) রাত ৯টার দিকে তার জ্ঞান ফিরলে দেখেন তিনি একটি ঘরে বন্দি। এ সময় ওই নারীসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন যুবক তাকে পাহারা দিচ্ছে। একপর্যায়ে ওই নারী তাকে মারধর করে এবং হত্যামামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এতেও কোনো সাড়া না পেয়ে তারা একইভাবে আবার তাকে জ্ঞানহীন করে। শনিবার পারভীনের জ্ঞান ফিরলে তিনি দেখেন মাইক্রোবাসটি তাকে নিয়ে সিলেটের দিকে যাচ্ছে। এ সময় অপহরণকারীরা দূর থেকে পথে পুলিশের একটি চেকপোস্ট দেখতে পায়। পরে তারা গতিপথ পরিবর্তন করে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের দিকে রওনা দেয়। এরপর রাত ঘনিয়ে আসে। তারা (শনিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার হাত পা বেঁধে ঢাকা-হবিগঞ্জ মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে এক অটোরিকশা চালকের সহায়তায় তিনি স্থানীয় একটি বাজারে পৌঁছান। সেখান থেকে এক ব্যক্তির মুঠোফোন দিয়ে তিনি তার স্বামী মিনহাজ উদ্দিনকে অবস্থান জানিয়ে ফোন করেন। পরে তার স্বামী পুলিশকে জানালে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে ওই দিন রাতেই গাজীপুরের পুলিশ তাকে নিয়ে আসেন।

কান্না জড়িত কণ্ঠে পারভীন বলেন, ‘জমি-জমার বিরোধ নিয়ে ২০১১ সালে দুলাল হাজী, জুয়েল ও সোহেলরা তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়াকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ ঘটনায় আমি মামলা করি। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আসামিরা মামলা তুলে নিতে আমাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। হুমকির বিষয়ে জয়দেবপুর থানায় একাধিক জিডি রয়েছে।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘আসামিদের মধ্যে দুলাল মিয়া, জুয়েল ও সোহেলকে শনাক্ত করেছেন ভিকটিম। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

শেয়ার করুন