টাকা ধার না দেওয়ায় জোড়া খুন!

0
234
Print Friendly, PDF & Email

বাড়ি থেকে পাঠানো টাকা প্রেমিকার পেছনেই খরচ হয়ে যায়। দিনে দিনে দেনার পরিমানও বেড়ে যায় অনেক। সাত-আট মাসের বেতন ও পরীক্ষার ফি বাকি পড়ায় পরীক্ষা দিতে দিচ্ছিল না কলেজ কর্তৃপক্ষ। তাই সাবেক বাড়িওয়ালার কাছে টাকা ধার চাই। অনেক ভাল সম্পর্ক ছিল তাদের সঙ্গে। কিন্তু ধার দিতে রাজি না হওয়ায় মাথা গরম হয়ে যায়। এজন্যই খুন করি।’ ময়মনসিংহ শহরতলীর আকুয়া গরুখোয়ার এলাকায় বাড়িওয়ালা দম্পতিকে কুপিয়ে হত্যা করার কথা এভাবেই সাংবাদিকদের বলছিলেন সাবেক ভাড়াটিয়া গোলাম মোস্তফা ওরফে মিঠুন (২৪)।

রবিবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সামনে তিনি এ জোড়া খুনের কথা স্বীকার করেন। এর আগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও খুনের কারণ উল্লেখ করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন হত্যাকারী মিঠুন।

শনিবার রাত সোয়া ১১ টার দিকে ওই দম্পতিকে হত্যার পর পরই পালিয়ে যাবার সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। নিহত দম্পতি সাবেক ভূমিমন্ত্রী রেজাউল করিম হিরার বেয়াই-বেয়ান।

ডাবল মার্ডারের স্বীকারোক্তি দেয়া গোলাম মোস্তফা ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলার ছয়াখাদা গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে। তার পিতা ওই এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান। খুন হওয়া দম্পতির বাড়িতেই এখনো ভাড়াটিয়া হিসেবে আছেন মোস্তফার বোন।

জানা গেছে, ৭ থেকে ৮ মাস আগে এ বাসায় থেকেই শহরের রুমডো টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটে পড়াশুনা শুরু করেন মোস্তফা। এরপর ওই বাসা ছেড়ে শহরের একটি মেসে গিয়ে ওঠেন তিনি। এ সময়টাতেই এক মেয়ের সঙ্গে তিনি প্রেমে জড়িয়ে পড়েন।

গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের জানান, প্রতি মাসে পড়াশোনার খরচ বাবদ বাড়ি থেকে ৮ হাজার টাকা করে পাঠানো হতো। কিন্তু প্রেমিকার পেছনেই প্রতি মাসে ওই টাকা খরচ হয়ে যেতো। এতে করে ৭ থেকে ৮ মাসের বেতন ও পরীক্ষা ফি বাবদ ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বকেয়া হয়ে যায় কলেজে। এত টাকা বকেয়া থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ এডমিট কার্ড আটকে দেয়। এ অবস্থায় ওই বাসার মালিক আব্দুল হক (৫৬) ও রায়াতুননেছার (৫৩)  কাছে গত শুক্রবার টাকা ধার চাইতে যান তিনি। কিন্তু তারা টাকা ধার দিতে পারবেন না জানালে মনে মনে ক্ষুব্ধ হন মোস্তফা।

ঘটনা বর্ণনা দিয়ে গোলাম মোস্তফা জানান, শনিবার বিকেলে শহরের গাঙ্গিনারপাড় এলাকা থেকে ১৮০ টাকা দিয়ে চাপাতি কেনেন। পরে শনিবার রাতে ওই বাসায় গিয়ে মালিকের কাছে পুনরায় টাকা ধার চান। কিন্তু তারা টাকা না দেয়ায় উত্তেজিত হয়ে ঘাড়ে ও মাথায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাদের খুন করেন তিনি।

এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজেদুর রহমান জানান, ‘টাকা ধার না দেয়ায়  গোলাম মোস্তফা ওরফে মিঠুন ঠাণ্ডা মাথায় ওই দম্পতিকে খুন করেছে বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। খুন করার সময় সে একাই ছিল।

শেয়ার করুন